ঢাকা, শনিবার 16 September 2017, ০১ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সিরাজগঞ্জ ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণে ব্যয় বেড়েছে ৪শ’২৬ কোটি টাকা

* ৪ বার বাড়ানো হয় প্রকল্প মেয়াদ

কামাল উদ্দিন সুমন : কথা ছিল ২০০৬ সালে শুরু হয়ে ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শেষ করা হবে। এজন্য শুরুতে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৮৭ কোটি টাকা। কিন্তু ২০০৬ সালের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শেষ করা হয়েছে ২০১৪ সালে। শেষ পর্যন্ত ব্যয় বেড়ে ১ হাজার ১১৩ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এটি নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের (নওপাজেকো) বাস্তবায়ন করা সিরাজগঞ্জ ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট। 

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, কস্ট বেজড ট্যারিফ বিবেচনায় বেসরকারি খাতের চেয়ে সরকারি খাতের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ট্যারিফ কম। দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে ডিপিপি করা হয়। এক্ষেত্রে প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে পরবর্তীতে বাস্তবায়ন ব্যয় পরিবর্তিত হতে পারে। প্রকল্পের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে তা বাস্তবায়ন করা উচিত। এজন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি)প্রকল্প সমাপ্তি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের মূল ডিপিপি ২০০৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর অনুমোদন হলেও ঋণচুক্তি কার্যকর হয় ২০০৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। পরবর্তীতে ঠিকাদার নিয়োগ হয় ২০১০ সালে। চারবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া দুবার প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করা হয়। প্রক্রিয়াগত এ দীর্ঘসূত্রতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়েছে। এতে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ পেতেও সময়ক্ষেপণ হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকৃত ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১১৩ কোটি ৮৮ লাখ ৩৩ হাজার টাকা, যা মূল অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে প্রায় ৬২ শতাংশ বেশি।

সূত্র জানায়, সরকারি উদ্যোগে স্থাপন করা বিদ্যুৎ কেন্দ্র সিরাজগঞ্জের ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা আর অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যয় শেষ অবধি অপ্রত্যাশিত অংকে গিয়ে ঠেকেছে বলে মনে করছেন সংশি¬ষ্টরা।

শুধু ব্যয় নয়, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সময়ও লেগেছে মূল অনুমোদিত সময়ের চেয়ে ১৬৬ শতাংশ বেশি। নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের (নওপাজেকো) বাস্তবায়ন করা সিরাজগঞ্জ ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন দেয়া হয় ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে। এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয় ২০০৬ সালের জুলাই থেকে ২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের ডিপিপি প্রথমবার সংশোধন করে মেয়াদ বাড়িয়ে ধরা হয় ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত। আর ডিপিপির দ্বিতীয় সংশোধনীতে তা আরো বাড়িয়ে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর করা হয়। শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ আরো একবার বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় জুন ২০১৪ সাল।

প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ৬৮৭ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্য ৪৩৩ কোটি ১৪ লাখ বাকিটা সরকারের অর্থায়ন। তবে ডিপিপি সংশোধনের মাধ্যমে এ ব্যয় ৯৬২ কোটি ২৬ লাখ ২৭ হাজার টাকায় পুনঃনির্ধারণ করা হয়। এতে প্রকল্প সাহায্য কমে দাঁড়ায় ৩৮০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। পরবর্তীতে ডিপিপি দ্বিতীয়বার সংশোধন করে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৬৩৮ কোটি ৬৩ লাখ ৭৯ হাজার ও প্রকল্প সাহায্য ৫০৬ কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার টাকা।

প্রকল্পটির কার্যক্রমের মধ্যে উলে¬খযোগ্য অংশগুলো হলো ১৫০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন ইউনিটের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ও স্থাপন, দুটি গ্যাস বুস্টার সংগ্রহ ও স্থাপন, মূল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ-সংশি¬ষ্ট পূর্তকাজ, স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ারসহ যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও স্থাপন, পাওয়ার ইভ্যাকুয়েশনের জন্য ১ কিলোমিটার ২৩০ কেভি লাইন স্থাপন, অক্সিলারি ডিজেল জেনারেটর সংগ্রহ ও স্থাপন এবং ভবন নির্মাণ।

জানা গেছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনকে (সিএমসি)। প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল কাজ শুরু হয় ২০১০ সালের অক্টোবরে। ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের সর্বশেষ মেয়াদ ধরা হলেও বাণিজ্যিকভাবে এটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে ২০১৩ সালের ১৯ এপ্রিল। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির রেটেড ক্যাপাসিটি ১৫৮ দশমিক ৭ মেগাওয়াট। উল্লেখ্য, এরই মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেলে রূপান্তর করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ