ঢাকা, শনিবার 16 September 2017, ০১ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

১ বছরে ব্যাংকিং খাতে মুনাফা কমেছে ৩৩ শতাংশ

 

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের ব্যাংকগুলোর নীট আয় কমেছে প্রায় এক তৃতীয়াংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অনিরীক্ষিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে জুন-২০১৭ ব্যাংক হিসাব বর্ষে জুন-২০১৬ ব্যাংক হিসার বর্ষের তুলনায় আয় কমেছে ৮৯৬ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৭ সালের জুনের ৩০ তারিখ পর্যন্ত এক বছরে দেশের ব্যাংকগুলোর নীট আয় হয়েছে এক হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। আর এর আগে ব্যাংক হিসাব বর্ষ জুন-২০১৬ পর্যন্ত আয় হয়েছিল ২ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সময়টাতে ব্যাংকগুলোকে প্রচুর কুঋণের চাপ কাটাতে হয়েছে বলেও আয়ে প্রভাব পরেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের জুন ক্লোজিং পর্যন্ত (৩০ জুন-২০১৭) কুঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৫৬ কোটা টাকা। অথচ ২০১৬ সালের জুন ক্লোজিং এর সময় এর পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, কিছু ব্যাংক আলোচ্য সময়ে নিজেদের লক্ষ্যমাত্রার দিকে তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন খাতে ঋণ দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরে থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন সময়ে শ্রেণীকৃত ঋণের বিরতণ ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা।

তবে আলোচ্য সময় ঋণ বিতরণ ও পুনঃতহবিলীকরণের ব্যবধান আগের বছরের তুলনায় কমেছে। ২০১৬ সালের জুনে ছিল যেখানে ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ সেখানে ২০১৭ সালের জুনে এই তফাত দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে।

জানা গেছে, দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোতে অলস টাকার পরিমাণ বেড়েছে। সে অনুপাতে দেশে কোন বিনিয়োগ নেই। আর এ কারণেই ব্যাংকগুলোতে আয় কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। জনগণের সঞ্চয়ের টাকা বিনিয়োগ না করেও তাদের লভ্যাংশ দিতে হচ্ছে। এতে করে ব্যাংকে আয় কমছে। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোতে পরিচালনা ব্যয় কিন্তু কোনভাবেই কমছে না।

সূত্র মতে, দেশের ব্যাংকিং খাতে আমানতের মুনাফা সবচেয়ে কম। আর এ কারণেই নতুন করে আর কেউ সঞ্চয়ও করছে না গ্রাহকরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে এখন সঞ্চয়পত্র কিনছেন। এক বছরের ব্যবধানের ব্যাংকিং খাতে ৩৩ শতাংশ মুনাফা কমা ব্যাংকিং খাতের জন্য আশনি সংকেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ