ঢাকা, শনিবার 16 September 2017, ০১ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনরা ৮৬ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে -রিজভী আহমেদ

 

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনরা দেশ থেকে ৮৬ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ নাগরিক সংসদের উদ্যোগে ‘জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, চক্রান্ত এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি আজকে জোর করে ক্ষমতায় আছেন, এই জোর করে ক্ষমতায় থাকার কারণই তো হচ্ছে ১ টাকার কাজকে আপনি ১০০ টাকা করেছেন বিভিন্ন প্রজেক্ট, মেগা প্রজেক্টের নামে। সেই সব প্রকল্পের টাকা কোথায়? সেটা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন তারা হিসাব-নিকাশ করে প্রায় বলেছে যে ৮৬ হাজার কোটি টাকা শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনরা এখান(বাংলাদেশ) থেকে পাচার করেছে। রিজভী বলেন, বাংলাদেশে দুঃশাসনের কারণে কেউ কথা বলতে পারছেন না। যারা এসবের গবেষণা করেন তারা ভয়ে সেটা তুলতে পারছেন না। কিন্তু বাইরের গণমাধ্যম বা বাইরের গবেষকরা তো চুপ করে বসে নেই, তারা সেটা অবলোকন করছেন, তারা দেখছেন। ক্ষমতাসীন দলের অন্যদের বাদ দিলাম, শুধু আপনার ঘনিষ্ঠজনরা যত টাকা নিয়ে গেছে সেই টাকার একদিন জনগণের কাছে হিসাব দিতে হবে।

বাংলাদেশ নাগরিক ফোরামের সভানেত্রী খালেদা ইয়াসমীনের সভাপতিত্বে ও এনডিপি‘র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসার পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, এলডিপি‘র যুগ্ম মহাসচিব সাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক নেওয়াজ হালিমা আরলি, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বুধবার জাতীয় সংসদে খালেদা জিয়াসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের সম্পদের তদন্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বলেন, জনদৃষ্টি সরাতে প্রধানমন্ত্রী ‘ছু মন্তর’ কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা প্রতিদিন মরছে ক্ষুধায়, চিকিৎসার অভাবে, আশ্রয়ের অভাবে, কোনো ছায়া নেই। এই ভয়ংকর পরিস্থিতি যাতে আন্তর্জাতিকভাবে কেউ জানতে না পারে, দেশের মানুষ যাতে জানতে না পারে, সেটাকে আড়াল করার জন্য হঠাৎ প্রধানমন্ত্রী বলে বসলেন যে, ১২‘শ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। জনদৃষ্টিকে ভিন্নদিকে সরানোর জন্য মাঝেমধ্যে ছু‘-মন্তর দেন শেখ হাসিনা। যাতে এটা নিয়ে মানুষ ব্যস্ত থাকে। শেখ হাসিনার উদ্দেশে রিজভী বলেন, আরে দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক তো আপনিই। পদ্মাসেতুতে সুনির্দিষ্টভাবে একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি বিদেশী আর্থিক সংস্থা অভিযোগ তুললো এবং সেই সংস্থা এখন পর্যন্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করেনি। আর আপনি (প্রধানমন্ত্রী) তাকে বললেন দেশপ্রেমিক। আপনি দুর্নীতির চাষ-বাস থেকে শুরু করে, দুর্নীতির উৎপাদন থেকে শুরু করে, দুর্নীতির এতো বড় পৃষ্ঠপোষক পৃথিবীতে আর কেউ নেই।

সরকারের অশুভ পরিকল্পনার ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, আবার হঠাৎ করে যেভাবে গুম বেড়েছে, ক্রসফায়ার বেড়েছে, হঠাৎ করে যেভাবে গ্রেপ্তার বেড়েছে। এখান মনে হয় সরকারের কোনো একটা অশুভ পরিকল্পনা আছে, কোনো খারাপ একটি কাজের দিকে তারা এগুচ্ছে। আমরা বলতে চাই, যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন তাদের সতর্ক খাকতে হবে, ষড়যন্ত্র মোকাবিলার জন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কাউকে ভয় পেলে চলবে না, সকল ভয়কে জয় করে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিতে হবে।

বরিশালের সাবেক সংসদ সদস্য জহিরউদ্দির স্বপনের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাংচুরের ঘটনাসহ নওগাঁও, মুন্সিগঞ্জ, ফেনী, পটুয়াখালী, রংপুর, রাজশাহী, যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে দলের নেতা-কর্মীকে গুম-হত্যাকান্ড ও গ্রেপ্তারের ঘটনার নিন্দা জানান রিজভী। 

রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ দিতে বিএনপি রিলিফ টিমকে উখিয়াতে যেতে না দেয়ার ঘটনাকে সরকারের আচরণের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেখুন কত নির্দয়, কত নির্মম এই সরকার। এাণ দিতে দিচ্ছে না ওখানে রোহিঙ্গা শিশুরা না খেয়ে আছে। অর্থাৎ মিয়ানমারের সু চির কর্মকান্ডের সাথে শেখ হাসিনার কর্মকান্ডের কোনো গরমিল নাই, একই কর্মকান্ড।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ