ঢাকা, শনিবার 16 September 2017, ০১ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

৩০ নলকূপই ভরসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গার

সংগ্রাম ডেস্ক : লাখ লাখ রোহিঙ্গার জন্য বসানো হয়েছে মাত্র ৩০টি নলকূপ নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা নাগরিকের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। প্রতিদিনই এই সংখ্যা বাড়ছে। কবে নাগাদ রোহিঙ্গা আসা বন্ধ হবে তাও বোঝা যাচ্ছে না। এসব সংকট ছাড়াও রয়েছে বাসস্থানের সমস্যা। বাংলা ট্রিবিউন।

কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বালুখালী ঢাল পাহাড় পর্যন্ত ছোট বড় ১৭টি পাহাড়ে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া পালংখালী,থ্যাংখালী ও টেকনাফের উনছিপ্রাং-এর বিভিন্ন পাহাড়েও আশ্রয় নিয়েছে তারা। তাদের সবাইকে এখনও স্যানিটেশনের আওতায় আনা যায়নি। ফলে খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এসব এলাকায় ১৮০০ টয়লেট এবং ৩০টির মতো নলকূপ বসানো হয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন পাহাড় ও টিলায় ছড়িয়ে পড়ায় তাদের সবাইকে এই ব্যবস্থার মধ্যে আনা যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা দিতে এসেছেন ডা ইকবাল মাহমুদ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নূন্যতম স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে রাখা না গেলে নারী ও শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবেন। এরমধ্যে চর্মরোগ অন্যতম। এছাড়াও জন্ডিস, জ্বর, কাশি ও নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তারা রোদ, বৃষ্টির মধ্যে থাকছে। নতুন পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের খাবার খাচ্ছে,যা তাদের শরীরে মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে। অনেকেই অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য আসছে।’

বালুখালী, কুতুপালং ও উনছিপ্রাং এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,পাহাড়ে রোহিঙ্গারা নিজেদের মতো ঘর বানিয়ে থাকছে। যে জায়গায় খাচ্ছে, থাকছে তার আশেপাশেই মলমূত্র ত্যাগ করছে। চারদিকে মশা,মাছি উড়ছে। অনেকে আবার পলিথিনের বেড়া দিয়ে টয়লেট তৈরি করেছে খোলা জায়গায়।

এদিকে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারীরা একই পোশাকে আট-দশদিন থাকছেন। গায়েই তাদের কাপড় ভিজছে, আবার শুকাচ্ছে। ফলে বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।

হাজেরা খাতুন নামে এক নারী বলেন, ‘মংডুর ম্যারুল্লার শিকদার পাড়া থেকে আমরা আসছি। আমার সাত ছেলে ও তিন মেয়ে। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় কোনও কাপড় নিতে পারিনি। দৌঁড়ে পালিয়ে আসছি।’

রোহিঙ্গা নারীরা সবাই বোরকা পড়ে থাকেন। স্যাঁতসেঁতে রাস্তা ও পাহাড়ে তারা সারাদিন বোরকা পরেই থাকেন। বৃষ্টির পানি,কাদামাটিতে বোরকা ভিজে একাকার। কিন্তু তারপরও তাদের খাবারের জন্য রাস্তার ধারেই বসে থাকতে হচ্ছে।

হাবিবা নামে এক রোহিঙ্গা নারীর সঙ্গে কথা হয় বৃহস্পতিবার বিকালে। তিনি বলেন,‘আমরা এখনও কোথাও ঘর বানাতে পারিনি, রাস্তায় থাকছি। টাকাও নাই।’

জ্বরে আক্রান্ত এই নারী বলেন,‘দুপুরে মেডিক্যাল ক্যাম্প থেকে ওষুধ নিয়েছি,তারপরও জ্বর বাড়ছেই। মংডু থেকে যে কাপড় পরে বের হয়েছিলাম,সেই একই কাপড়ে এখনও।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে একেএম লুৎফর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গাদের নির্ধারিত জায়গায় আনার চেষ্টা করছি। এতো বড় সংখ্যা যে তাদের ম্যানেজ করে একই জায়গায় আনা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও আমরা তাদের একই জায়গায় নেবো। তা না হলে তাদের সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যাবে না।’

রাখাইন রাজ্যে আগুন জ্বলছেই : রাখাইনের রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এখনও আগুন জ্বলছে। রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘর এখনও পোড়ানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মংডুর রোহিঙ্গা দং এলাকায় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ে দাঁড়িয়ে রোহিঙ্গারা তা দেখে বিলাপ করছেন।

ত্রাণ নিয়ে ইরান ভারত ইন্দোনেশিয়ার বিমান চট্টগ্রামে

 চট্টগ্রাম অফিস : মিয়ানমারের রোহিংগা শরনার্থীদের জন্য ত্রাণ নিয়ে গতকাল শুক্রবার ইরান, ভারত, ইন্দোনেশিয়ার বিমান চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসেছে।

সূত্র জানায়, ইরান থেকে ৪১ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে একটি বিমান চট্টগ্রাম আসে। এর মধ্যে ছিল কাপড়, তাঁবু, কম¦ল, চিনি, তেলসহ ৯ ধরনের পণ্য। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম রাহিমপুর ত্রাণসামগ্রী চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করেন। এদিকে চিনি, কাপড়, কম্বলসহ ৭.১৬ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার বিমান চট্টগ্রাম এসেছে। এদিকে গতকাল ভারত থেকে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে আরেকটি বিমান চট্টগ্রামে এসেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ