ঢাকা, রোববার 17 September 2017, ০২ আশ্বিন ১৪২8, ২৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ কঠিন হলেও অসম্ভব নয় -মুশফিক

স্পোর্টস রিপোর্টার : দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সিরিজে ভালো করা এবার কঠিন হলেও অসম্ভব নয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে এমনটা বলেন মুশফিক। দীর্ঘ নয় বছর পর পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকা গেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রথম ধাপে সকালে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে বিমানে উঠে বাংলাদেশের পাঁচ ক্রিকেটার। দ্বিতীয় ধাপে সন্ধ্যায় দলের অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে ঢাকা ছাড়েন অধিনায়ক মুশফিকুর রহমান। দেশ ছাড়ার আগে গতকাল সকালে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে মুশফিক দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের লক্ষ্য, পরিকল্পনা ও নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন মুশফিক। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর সর্ম্পকে মুশফিক বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকাতে আমাদের খুব একটা ভালো রেকর্ড  নেই। আমাদের খুব কম খেলোয়াড়ই আছে দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলেছে। এটা এমন একটা জায়গা সবগুলো দলই ওখানে লড়াই করে। আমাদেরও হয়তো বা লড়াই করতে হতে পারে। আমরা অবশ্যই ভালো খেলার চেষ্টা করব।’ দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মুশফিক বলেন, ‘সর্বশেষ খেলা বাংলাদেশের চেয়ে আমরা এখন অনেক বেশি পরিণত। অনেক উন্নত একটা দল। আমরা যদি আমাদের স্কিলগুলো ভালো করে বাস্তবায়ন করতে পারি, আমার মনে হয় আমাদের ভালো সুযোগ রয়েছে। এই বছর বড় দল গুলোর সঙ্গে আমাদের খেলা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও আমাদের জন্য বড় সুযোগ। দেশের বাইরে গিয়ে আমরা যদি দুটি ম্যাচ ভালো খেলতে পারি, তাহলে অন্যরকম একটা তথ্য দেয়া যাবে। কাজটা কঠিন হলেও কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। উপমহাদেশের অনেকে লড়াই করলেও তাদের অনেক ভালো রেকর্ড রয়েছে। আমি আত্মবিশ্বাসী, আমাদের ছেলেরা ওখানে অনেক ভালো খেলবে।’ দক্ষিণ আফ্রিকায় উইকেট কিপিং নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বড় দলগুলোর সঙ্গে যত কম ভুল হবে তত ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। আমি আমাদের টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিব। সামনে আমাদের একটা তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে। ওখানে কন্ডিশন দেখে আমাদের যদি মনে হয় আমি একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললে ভালো হবে তাহলে সেটাই হবে। যদি তারা মনে করে আমি একজন ব্যাটসম্যান প্লাস কিপার হিসেবে খেললে ভালো হবে তাহলে সেভাবেই খেলব।’ এই সফরে জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘বাংলাদেশ দল কখনোই হারের জন্য  খেলে না। অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আমাদের কোন সুযোগ  নেই! আমি তাদের সঙ্গে কোনভাবেই একমত নই। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করে বিশ্বাস না করা শিখলে সাফল্য পাওয়া সম্ভব হয়না। আগে বিশ্বাস করতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আমাদের হারানো সম্ভব। এই বিশ্বাস না আসলে কাজটা কঠিন হয়ে যাবে। আমাদের মধ্যে তিন বছর আগে ও এই বিশ্বাসটা ছিল না। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি এই সিরিজটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য বড় মাইলফলক হতে পারে। সেই চ্যালেঞ্জের জন্য আমরা প্রস্তুত।’ ব্যাটসম্যানদের সর্ম্পকে মুশফিক বলেন, ‘ক্রিকেটখেলাটাই হচ্ছে চ্যালেঞ্জের খেলা। নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার আগে আমরা ভেবেছিলাম তাদের সুইংয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ক্যাপাবল না। আমরা সেখানে সফল হয়েছি। ব্যাটসম্যানদের সব সময়ই ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অবশ্যই এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। আট (আসলে নয়)বছর আগে যে দলটি দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছিল সেখান থেকে এই দলের ব্যাটসসম্যানরা অনেক বেশি পরিণত। আশা করি এই চ্যালেঞ্জ ব্যাটসম্যানরা নিতে পারবে। আমাদের দলে বেশ কিছু ম্যাচ জিতিয়ে দেওয়ার মতো ব্যাটসম্যন আছেন।’ মাহমুদউল্লাহর বোলিং নিয়ে মুশফিক বলেন, ‘রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) ভাইকে কিন্তু অলরাউন্ডারই বলা যায়। উনি কিন্তু সবদিক থেকেই অবদান রাখার চেষ্টা করেন। যেকোন ফরম্যাটেই হোক আমরা যারা অধিনায়ক আছি, তারা চিন্তা করি পরিস্থিতি অনুযায়ী কে সবচেয়ে ভালো বল দিতে পারবে। আমরা মাঠে তাদের উপরই দায়িত্ব তুলে দেই। একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের বদলে একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দলে এসেছে। আমাদেরও একটা ভারসাম্য আসবে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে। ওই কন্ডিশনে বিশেষজ্ঞ স্পিনার দুই জন খেলোনোর প্রয়োজন নেই। সেখান থেকে চিন্তা করলে রিয়াদ ভাইয়ের জন্য ভালো সুযোগ আছে। ইমরুল, সাব্বির, সৌম্যকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুশফিক বলেন, ‘যে কোন খেলোয়াড়রই চায় ভালো খেলতে। গত কিছুদিন ধরে ইমরুল, সাব্বির, সৌম্যকে নিয়ে এতো কথা হচ্ছে...আমি খেলোয়াড়দের নিয়ে অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা না করার অনুরোধ করছি। যাতে করে ওদের যে কমফোর্ট জোনটা সেখান থেকে ওরা বেরিয়ে না আসে। ওরা যদি পারফরম্যান্স না করতে পারে সেক্ষেত্রে ক্ষতিটা বাংলাদেশ দলেরই। এখন যারা খেলছে, তাদের রিপ্লেস পেতেও অনেক সময় লাগবে। এখান নয় মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে হয়। খেলোয়াড় নিয়ে অনেক বিশ্লেষণ হয়। ধারাবাহিকভাবে পারফরম্যান্স করাটাই তাই কঠিন। আমি বলছি না যে, সমালোচনা করবে না। তাদেরকে বারবার এমন কোন প্রশ্ন করবেন না যাতে করে ওরা ওদের মূল জায়গা থেকে সরে না আসে। ওরা যদি খারাপও করে আশপাশের মানুষগুলোর সহযোগীতা পেলে সাহস পাবে রানে ফেরার।’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষে বিশ্রামের আবেদন করেন বাংলাদেশ দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তামিম ইকবালও বিশ্রাম নিবে এমটা শুনা যাচ্ছে। মুশফিকের সংবাদ সম্মেলনেও কথা উঠল বিশ্রাম নিয়ে। মুশফিক বলেন, ‘বোর্ড সভাপতির সঙ্গে সাকিবের কথা বলার পর জানতে পেরেছি ও (সাকিব) একটা ব্রেক চেয়েছে। আমরা অফিসিয়ালি ওভাবে জানতাম না। আমরা এদিক-সেদিক থেকে শুনেছি। ব্রেক দেয়া হবে কি হবে না সে বিষয়ে আমরা আসলে জানতাম না। দল ঘোষণার শেষ মুহূর্তে এটা হয়েছে। আমরা মানসিকভাবে তৈরি ছিলাম যখন শুনেছিলাম। ও যদি নাও যায় তাহলেও আমাদেরকে খেলতে হবে।’ ক্লান্তি দূর করতে সাকিবের মতো তার বিশ্রাম প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে মুশফিক বলেন, ‘আমি এত বড় খেলোয়াড় হইনি যে আমার বিশ্রাম প্রয়োজন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ