ঢাকা, সোমবার 18 September 2017, ০৩ আশ্বিন ১৪২8, ২৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দ্বিগুণ দামে বিক্রি ওএমএস’র চাল

 

স্টাফ রিপোর্টার: বাজারে দাম বাড়ায় খোলা বাজারে বিক্রির (ওএমএস) চালের দাম দ্বিগুণ বাড়িয়েছে সরকার। আগে এই বাজারে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও মোটা চালের(আতপ) দাম বাড়িয়ে ৩০ টাকা করেছে সরকার। আতপ চাল বিক্রি করার কারণে ভোক্তার কাছে তেমন সারা পাচ্ছে না ওএমএস। তবে খোলা বাজারে ১৭ টাকায় আটা বিক্রি করলেও তা খাবার উপযোগী নয় বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। 

গত ১৪ সেপ্টেম্বর খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ঘোষণা দিয়েছিলেন খোলা বাজারের আগের মতোই ১৫ টাকা কেজিতে চাল এবং ১৭ টাকা কেজিতে আটা বিতরণ করা হবে। তবে গতকাল এই কর্মসূচি চালুর দিন দ্বিগুণ দামে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। মন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়ে বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন মন্ত্রী ঘোষনা দিলেও আগের দামে বিক্রি হবে চাল আট আর এখন বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। তাহলে কি মন্ত্রীর কথা শুনলেন না টিসিবি। 

যাত্রাবাড়ি থেকে ওএমএসের আটা ক্রয় করে মাহফুজা বেগম। তিনি  দৈনিক সংগ্রামকে বলেন,চাল ক্রয় করতে এসে আটা কিনলাম। কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন,ট্রাকে আগে সিদ্ধ চাল বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে আতপ চাল। আর আতপ চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস আমাদের নেই। তাই বাধ্য হয়ে আটা ক্রয় করলাম। তবে এ আটার মান নি¤œ মানের। আটার রুটিতে বালি মনে হয়। 

কর্মসূচির আওতায় ঢাকা মহানগরীতে ১২০টি ট্রাকে করে চাল বিক্রি হচ্ছে। আগামী দুই একদিনের মধ্যে সারা দেশের ৬২৭টি ট্রাক থেকে ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রি করা হবে। 

গতকাল রোববার রাজধানীর ধোলাইপাড়,যাত্রাবাড়ি,দয়াগঞ্জ,গুলিস্থান,সচিবালয়ের সামনে,জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে,আজিমপুর, মোহাম্মাদপুর ও মহাখালীতে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত বাড়তি দামেই চাল কিনছেন নগরবাসী। তবে আটার মান ভালো না এমন অভিযোগে আটা নেননি। 

আজিমপুরে চাল ও আটা কিনতে আসা রহীম ব্যপারী অভিযোগ করেন, তিনি চালের সঙ্গে সঙ্গে আটাও কিনতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু আটার মান ভালো না থাকায় নিতে পারছেন না। 

ওএমএস এর ট্রাকে চাল ও আটা বিক্রেতা মুন্সী নূর মোহাম্মাদ সেলিমও আটার মানের বিষয়ে সংশয়ে থাকায় বস্তাই খুলেন নি। তিনি জানান, গুদাম থেকে তাদের এই আটা দেওয়া হয়েছে। অথচ এর মান তেমন ভালো না। 

সরকারের এমন সিদ্ধান্তু বাজার নিয়ন্ত্রনে কতটা প্রভাব পড়বে তা বলা যাচ্ছে না। তবে চাল আর আটার মান যদি ভাল না হয় তাহলে বাজারে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে চালের মান অনেক ভাল। বাজার নিয়ন্ত্রন হবেই। 

চালের দ্বিগুণ দাম সম্পর্কে মুন্সী নূর মোহাম্মাদ সেলিম বলেন, চালের দাম সরকার যা নির্ধারণ করে দিয়েছে তাই তারা রাখছেন। দেশে এখন চালের ‘অভাব’ বলেই সরকার দাম বাড়িয়েছে। 

তিনি জানান,প্রতি কেজি চালের গুদাম মূল্য সাড়ে ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু চালের দাম নেয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। তবে কত টাকা দাম নির্ধারন করে দিয়েছেন,তা নিয়ে দেখা দিয়েছে বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আটা আগের দামেই বিক্রি করা হবে বলে জানান তিনি। 

এদিকে চালের দাম বাড়ানোর বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বদরুল হাসান বলেন, আগে ওএমএসের চালের দাম ২৪ টাকা থেকে কমিয়ে ১৫ টাকায় করা হয়। অনেক দিন হয়ে গেছে, চালের দামও বেড়েছে, আগের দাম রাখলে তো আর হয় না। আকাশ-পাতাল পার্থক্য তো রাখা যায় না। বেশি পার্থক্য থাকলে লিকেজের সম্ভাবনা রেড়ে যায়, নানান রকমের সমস্যা হয়। আর এ কারনেই চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। 

আতপ চাল বিক্রি প্রসঙ্গে বলেন,যেসব দেশ থেকে বাংলাদেশ চাল আমদানি করেছে সেসব দেশে আতপ চালের ভাত খেয়ে থাকেন। আর এ কারনে আতপ চাল আমদানি করা হয়েছে। বাংলাদেশের আতপ চালের চাহিদা কম হলেও কিছু এলাকায় আতপ চালের ভাত খেয়ে থাকেন। এ চালের ভাত সিদ্ধ চালের চেয়ে অনেক সুস্বাদু। দু-এক বার খেলেই ভার লাগবে। এতে বাজারে তেমন সমস্যা হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ