ঢাকা, সোমবার 18 September 2017, ০৩ আশ্বিন ১৪২8, ২৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারত থেকে পাইপলাইনে আসছে ৪ লাখ টন ডিজেল

 

* নুমালীগড় থেকে পার্বতীপুর ১৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন করা হবে

কামাল উদ্দিন সুমন : এবার পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে আসছে ডিজেল। জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং বিপিসি ভারত থেকে পাইপলাইনে ডিজেল  আমদানির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। সম্প্রতি (২৩ আগস্ট) ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পাইপলাইনের প্রস্তাবটি  অনুমোদন দিয়েছে। খুব শিগগির এ বিষয়ে চুক্তি করবে দুই দেশ। আগামী  ১৫ বছর মেয়াদে আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইনে এ জ্বালানি তেল দেশে  আনা হবে। 

মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পেট্রেলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, দীর্ঘ আলোচনার পর ভারত থেকে বার্ষিক আড়াই লাখ থেকে ৪ লাখ টন ডিজেল পাইপলাইনে আমদানি করা হবে। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছে। ভারতের আসামের নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে এ তেল আনা হবে। 

পাইপলাইনে তেল আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিপিসি’র চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। আর  বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) সৈয়দ মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, খুব শিগগিরই তেল আমদানির জন্য চুক্তি হবে বলে আশা করছি। 

সূত্র জানায়, ভারতের নুমালীগড় থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুরের পার্বতীপুর তেলের ডিপো পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন করা হবে। এই ‘ইন্দো-বাংলা ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’ এর ১২৫ কিলোমিটার বাংলাদেশে এবং ৫ কিলোমিটার ভারতে হবে। 

জানা গেছে, চুক্তি কার্যকরের পর প্রথম তিন বছর আড়াই লাখ মেট্রিক টন, এর পরের তিন বছর ৩ লাখ টন এবং সপ্তম থেকে ১৫তম বছর পর্যন্ত বার্ষিক ৪ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হবে। 

চুক্তির খসড়া অনুযায়ি, তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী হবে। তেল আমদানির প্রিমিয়াম বা পরিবহন খরচ প্রতি ব্যারেলে (প্রায় ১৫৯ লিটার) সাড়ে ৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেল আমদানিতে প্রিমিয়াম বাবদ ২ দশমিক ২ ডলার ব্যয় করে। 

 বিপিসির  সূত্র জানায় , বর্তমানে বিদেশ থেকে তেল চট্ট্রগ্রামে আসে। সেটি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোদে  পাঠাতে প্রতি ব্যারেলে ৪ দশমিক ৪ ডলার খরচ হয়। সব মিলিয়ে প্রিমিয়াম দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৬ ডলার। সে হিসেবে ভারত থেকে আনা তেলের খরচ কম পড়বে। তবে অন্য এক কর্মকর্তা মনে করেন, তেল পরিবহনে খরচ ও বাষ্পজনিত ক্ষয়ের হিসেব ধরে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসেব ধরে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা উচিত। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিবহন খরচ কত পড়ে সেটি ধরে খরচ নির্ধারণ করা যৌক্তিক নয়। 

বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান,প্রাথমিকভাবে বছরে ১০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে এখন বছরে আড়াই থেকে ৪ লাখ টন আমদানির চুক্তি করা হবে। প্রস্তাবিত পাইপলাইনটির সিংহভাগ বাংলাদেশ অংশে হবে। এ জন্য ভারত ৩০৩ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ অংশে বিপিসি এবং ভারত অংশে ভারতীয় পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন পাইপলাইন করবে। 

সূত্র জানায়, ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজেল আমদানির বিষয়ে ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল বিপিসি ও এনআরএলের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। পরবর্তীতে পাইপলাইন নির্মাণের পূর্ব পর্যন্ত এনআরএল থেকে রেলওয়ে ট্যাঙ্ক ওয়াগনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আলোকে এ পর্যন্ত তিন দফা ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে গেল বছর (২০১৬) মার্চে ২ হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন (ব্যারেলপ্রতি প্রিমিয়াম ৭ ডলার) এবং গেল ডিসেম্বর ও চলতি বছরের এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন (ব্যারেপ্রতি প্রিমিয়াম সাড়ে ৫ ডলার) ডিজেল আমদানি করা হয়। 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত ডিজেলের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হবে ‘বিল অব ল্যান্ডিং’ তারিখে আন্তর্জাতিক বাজার দর অনুযায়ী। এর সঙ্গে যোগ হবে ব্যারেলপ্রতি সাড়ে ৫ ডলার প্রিমিয়াম। এছাড়া বাংলাদেশের অংশের জন্য ৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা বীমা ব্যয়ও বহন করতে হবে। সব মিলিয়ে এনআরএল থেকে ডিজেল আমদানিতে আনুমানিক ৮৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে মনে করছে বিপিসি। চলতি বছরের আগস্ট-ডিসেম্বর সময়ে প্রতিবার ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন হিসাবে প্রতি মাসে দুইটি ট্যাঙ্ক আমদানি করা হবে।  

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এনআরএল থেকে অব্যাহতভাবে ডিজেল আমদানির সরকারি সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রিমিয়াম নির্ধারণে জি-টু-জি ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সরবরাহকারীদের সঙ্গে নেগোসিয়েশন পদ্ধতি অনুসরণের জন্য বিপিসিকে পরামর্শ দেয় মন্ত্রণালয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ