ঢাকা, সোমবার 18 September 2017, ০৩ আশ্বিন ১৪২8, ২৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ব্যবসায়ী শাহজালালের চোখ উৎপাটনের ঘটনার মামলা পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

খুলনা অফিস : খুলনায় ব্যবসায়ী শাহজালালের চোখ উৎপাটনের ঘটনায় ১১ পুলিশ ও আনসার কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় দায়েরকৃত মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল রোববার খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আমলী আদালতের বিচারক শহিদুল ইসলাম এ নির্দেশ দেন। আগামী ১৮ অক্টোবর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।  এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর নগরীর খালিশপুর নয়াবাটি রেললাইন বস্তি কলোনীর মো. জাকির হোসেনের স্ত্রী রেনু বেগম বাদি হয়ে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দাবিকৃত দেড় লাখ টাকা না পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা যোগসাজসে তার ছেলে মো. শাহজালালের দু’টি চোখ উৎপাটন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। বাদিপক্ষের আইনজীবী মানবাধিকারকর্মী মো. মোমিনুল ইসলাম জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর আদালত বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করে রোববার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। আদেশে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যদিয়ে মামলার কার্যক্রম শুরু হলো। আদালতে বাদিপক্ষে আইন ও শালিস কেন্দ্রের প্যানেল ল’ ইয়ার আব্দুর রশীদ ও খুলনার এডভোকেট মিনা মিজানুর রহমান অংশ নেন। 

মামলার আসামীরা হলো-খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম খান, এসআই রাসেল, এসআই তাপস রায়, এসআই মোরসেলিম মোল্লা, এসআই মিজান, এসআই মামুন, এসআই নূর ইসলাম ও এএসআই সৈয়দ সাহেব আলী, আনসার সদস্য (সিপাই) আফসার আলী, আনসার ল্যান্স নায়েক আবুল হোসেন, আনসার নায়েক রেজাউল এবং অপর দু’জন খালিশপুর পুরাতন যশোর রোড এলাকার সুমা আক্তার ও শিরোমনি বাদামতলা এলাকার লুৎফুর হাওলাদারের ছেলে রাসেল। 

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই মো. শাহজালাল স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে নিয়ে পিরোজপুরের কাউখালি উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের বাড়ি থেকে নগরীর নয়াবাটি রেললাইন বস্তি কলোনীর শ্বশুর বাড়িতে আসে।  ওইদিন রাত ৮টায় শাহ জালাল তার শিশু কন্যার দুধ কেনার জন্য বাসার পার্শ্ববর্তী দোকানে যায়। এ সময় খালিশপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করে দেড় লাখ টাকা দাবি করে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ কর্মকর্তারা শাহজালালকে বিশ্ব রোডের (খুলনা বাইপাস সড়ক) নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তার হাত-পা চেপে ধরে এবং মুখে গামছা ঢুকিয়ে স্ক্রু ডাইভ্রার দিয়ে দু’টি চোখ উপড়ে ফেলে বলে এজাহারে বাদি উল্লেখ করেন। বর্তমানে তার দু’টি চোখই অন্ধ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ