ঢাকা, সোমবার 18 September 2017, ০৩ আশ্বিন ১৪২8, ২৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ

সাতক্ষীরায় পুলিশের নির্যাতনে কলারোয়া হটাৎগঞ্জ দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা সাইদুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ফরহাদ জামিল মৃত্যুর এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শুক্রবার রাত ২টার দিকে সাতক্ষীরা জেলখানা থেকে এক রোগীকে ভর্তি করানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংগ্রামে খবরটি মুদ্রিত হয়।
মৃত মাওলানা সাইদুর রহমানের স্ত্রী ময়না বেগম জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে পুলিশের ৩ জন সদস্য তাদের বাড়িতে এসে তার স্বামীকে গ্রেফতারের কথা বলেন। কোন কারণে তাকে গ্রেফতার করা হবে জানতে চাইলে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে মামলা আছে। এ সময় তার গ্রেফতারি পরোয়ানা চাইলে পুলিশ ময়না বেগমের সাথে দুর্ব্যবহার করে। মাওলানা পুলিশকে জানান, তিনি অসুস্থ রোগী, প্রতিদিন তাকে ওষুধ খেতে হয়। ধরে নিয়ে গেলে তিনি বাঁচবেন না। কিন্তু পুলিশ কোন কথা না শুনে তাকে গ্রেফতার করে। পরে পুলিশ মাওলানা সাইদুর রহমানকে নিয়ে স্থানীয় এক ডাক্তারের কাছে যান। ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। কিন্তু চিকিৎসা না দিয়ে পুলিশ তাকে সাতক্ষীরা সদর থানা হাজতে রাখে। সদর থানাতে মাওলানার সাথে দেখা করতে যান তার স্ত্রী ময়না। এ সময় তিনি স্ত্রীকে বলেন, পুলিশ তাকে অনেক মারপিট করেছে। তার গায়ের পাঞ্জাবিটা ছিঁড়ে গেছে। পুলিশের কাছে ওষুধ চাইলে পুলিশ তা দেয়নি। পরে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে তাকে নেয়া হয়। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় কোর্টে হাজিরার মাধ্যমে তাকে জেলে পাঠানো হয় বলে মাওলানার স্ত্রী জানান।
সাতক্ষীরা হাসপাতালের আরএমও ডা. ফরহাদ জামিল বলেন, হাসপাতালে আনার পর তার চিকিৎসা চলছিল। শনিবার ভোরে মারা যান তিনি। চিকিৎসক জানান, নিহত মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা সাইদুর রহমানের দেহে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর থানার এসআই মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, আমি তাকে গ্রেফতার করলেও নির্যাতন করিনি, তার কাছে ঘুষও চাইনি। গ্রেফতারের পর তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এদিকে সদর থানার ওসি মারুফ আহমদ জানান, মাওলানা হার্ট এ্যাটাকে মারা গেছেন। লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হলো, এসআই ও ওসির বক্তব্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। উল্লেখ্য যে, সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই মোঃ আসাদুজ্জামান গ্রামে গ্রামে আসামী ধরার নামে বেপরোয়া আচরণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতি রাতে আসামী ধরে মারপিট করে তাদের কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। কারণ পুলিশের কাজ তো নাগরিকদের নির্যাতন করে ঘুষ আদায় করা নয়। বরং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনই পুলিশের কর্তব্য। পুলিশের বিধিবিধান মেনে যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে জনগণের কাছে পুলিশ বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ