ঢাকা, সোমবার 18 September 2017, ০৩ আশ্বিন ১৪২8, ২৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কুখ্যাত কলকাতা হত্যাকাণ্ড (১৬ আগস্ট ’৪৬): শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাহসী ভূমিকা

ইবরাহিম রহমান : [দুই]
গড়ের মাঠে অনুষ্টিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শহীদ সোহরাওয়ার্দী সভাপতিত্ব করেন। খাজা নিজাম উদ্দিনের পর সভায় রাজা গজনফর আলী ইংরেজিতে বক্তৃতা করেন। রাজা গজনফর আলীর পর সোহরাওয়ার্দী বক্তৃতার জন্য দাঁড়ালে মুসলিম মিছিল ও জনসভায় আগমনকারীদের উপর হিন্দুদের সশস্ত্র আক্রমণের সংবাদ আসতে থাকে। আক্রান্ত মুসলমানদের অনেকেই রক্ত মাখা জামা কাপড়সহ সভায় হাজির হয়ে হিন্দুদের সশস্ত্র আক্রমণের বিবরণ দিতে থাকে। সোহরাওয়ার্দী বুঝতে পারলেন। জনতাকে সান্ত¦না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে ফিরে যেতে বললেন।
পাকিস্তান দাবির স্বপক্ষে হরতাল মিছিল সমাবেশে সীমাবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও কলকাতায় এ দিবসটি এক শোচনীয় হিন্দু মুসলিম দাঙ্গায় পরিণত হয়। উত্তেজনার মধ্যে কলকাতায় হিন্দু মুসলিম দাঙ্গায় পাঁচ হাজারেরও ওপর নিহত, কারো কারো মতে ১৫-২০ নিহত হয়। হাজার হাজার আহত হয়, লক্ষাধিক লোক গৃহহারা হয়। ঢাকায়, নোয়াখালী, বিহার, বোম্বে আহমেদাবাদ ও লাহোরে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। বৃটিশ রাজত্বের শেষ বছরটি এভাবেই হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও নৃশংসতায় পর্যবসিত হয় (ভারতের মুসলমান ও স্বাধীনতা আন্দোলন : মুহাম্মদ ইনাম-উল হক)।
১৬ আগস্টের অভূতপূর্ব সংঘর্ষ যা সকাল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছিল। সে বিষয়ে মুসলিম লীগের কোনই জ্ঞান, সন্দেহ বা ধারণা ছিল না। মুসলমানরা নিরস্ত্র এবং পরিস্থিতির মোকাবিলা করার কোন প্রস্তুতি ছিল না। কলকাতায় এ উপলক্ষে প্রত্যাশিত বিরাট সমাবেশ দেখাবার জন্য বর্ধমান থেকে আমি আমার দুই পুত্র বদরুদ্দিন উমর (১৫) এবং শাহাবুদ্দিন মুহম্মদ আলীকে (৮) নিয়ে সমাবেশে এসেছিলাম। আমি যেমন আমার দুই পুত্রকে ময়দানে নিয়ে এসেছিলাম তেমনি ফরিদপুরের লালমিয়াও তার ৬/৭ বছরের নাতিকে ময়দানে নিয়ে এসেছিলেন। বিপদের আশঙ্কা থাকলে আমরা আমাদের পুত্র ও নাতিদের ময়দানে নিয়ে আসতাম না। (আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি আবুল হাশিম)।
জনাব আবুল হাশিম বলেন, শান্তিপ্রিয় হিন্দু ও মুসলমানরা এ দাঙ্গায় কোনভাবে জড়িত ছিলেন না। বৃটিশ সা¤্রাজ্যবাদের দালাল বাহিনী দ্বারা যে দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছিল সেটা প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসের পর ভয়াবহ যেসব ঘটনা ঘটেছিল তার দ্বারা পরিপূর্ণভাবে সমর্থিত হয়। শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পুলিশকে সহায়তাদানের জন্য সেনাবাহিনী তলব করতে গভর্নরকে সোহরাওয়ার্দী অনুরোধ জানালেও সৈন্য বাহিনী মোতায়েন করা হলো না। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কলকাতার পুলিশ যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না। কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন ইংরেজ। দাঙ্গা চলাকালে সোহরাওয়ার্দী তার প্রধান কর্মকেন্দ্র পরিবর্তন করে লালবাজার পুলিশের প্রধান কর্মকেন্দ্র কন্ট্রোলরুমে দিবারাত্রি অবস্থান শুরু করেন। তিনি ট্রাক বোঝাই করে সশস্ত্র পুলিশ পাঠালেন কিন্তু তারা গন্তব্যে পৌঁছতে পারলো না। সোহরাওয়ার্দীর আর কিছু করার ছিল না এবং কলকাতা মহানগরী পাঁচ দিন অরক্ষিত ছিল। সোহরাওয়ার্দীর অনুরোধে পাঞ্জাব সরকার একটি বিরাট সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী কলকাতায় পাঠায়! পাঞ্জাব পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সোহরাওয়ার্দী তার জীবন বিপন্ন করে দিবারাত্রি তার গাড়িতে চড়ে মহানগরীর চতুর্দিকে ঘোরাফেরা করছিলেন।
২১ আগস্ট ১৯৪৮ সোহরাওয়ার্দী তার বাসভবন ৪০ থিয়েটার রোডে সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দের এক সভা আহ্বান করেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন শরৎচন্দ্র বোস, খাজা নাজিম উদ্দিন, কিরণ শংকর রায়, এমএ ইস্পাহানী, কে সি গুপ্ত, এসএম ওসমান শামসুদ্দিন আহমদ, হামিদুল হক চৌধুরী, খাজা নূরুদ্দিন ও আবুল হাশিম। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দ অগ্রভাগে থেকে শান্তি মিছিল বের করা হয়। সবদলের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে প্রত্যাশিত ফল লাভ হয়েছিল।
কলকাতা শহরসহ বাংলা পাকিস্তানভুক্ত হলে তারা দাপটের সাথে ব্যবসা করতে পারবে না। তাই মুসলিম লীগ কর্তৃক ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ ঘোষণার সাথে সাথে কলকাতার হিন্দু শিল্পপতি ও বণিক শ্রেণী সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন হিন্দু রাজনীতিকগণ ঐদিন হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা বাধানোর আয়োজন করে এবং অতি গোপনে দাঙ্গা বাধানোর সব প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বাংলা প্রদেশের ক্ষমতায় ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ কোয়ালিশন সরকার। সোহরাওয়ার্দী সরকারকে খুনী হিসাবে চিহ্নিত করা এবং কলকাতা যাতে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত না হয় সে লক্ষ্যেই এই নৃশংস দাঙ্গার আয়োজন করা হয়। এ দাঙ্গার ষড়যন্ত্রও প্রস্তুতি সম্পর্কে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ পুলিশ বাহিনী বা গোয়েন্দা বাহিনী সরকারকে কিছুই অবহিত করেনি। বাঙ্গালি-অবাঙ্গালি হিন্দু ব্যবসায়ীগণ বিহার ও যুক্ত প্রদেশ থেকে হাজার হাজার ভাড়াটিয়া হিন্দু গু-া আমদানি করে কলকাতার হিন্দুদের দলভুক্ত করে ও দাঙ্গাকারীদের আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত করে। কামারশালাসমূহে অগণিত রামদা, কিরিচ, ছোরা, বর্শা ইত্যাদি তৈরি করে গুন্ডাদের হাতে দেয়া হয়। বহু চিহ্নিত এলাকায় সাধারণ হিন্দুদের বাড়ি বাড়ি ককটেল, এসিড তৈল ইত্যাদি মজুদের ব্যবস্থা করা হয়। তদুপরি পুলিশ বাহিনীর প্রায় সকল হিন্দু সদস্য মুসলমানদের বিরুদ্ধে দাঙ্গাকারীদের সাথে যোগদান করে। উল্লেখ্য, সে সময় কলকাতার পুলিশ উচ্চপদগুলোর ৯৬ শতাংশ ছিল অমুসলিমদের দখলে, নি¤œপদস্থ সদস্যদের ১৩ শতাংশ ছিল মুসলিম। (সূত্র: উপমহাদেশের সামাজিক রাজনৈতিক ইতিবৃত্ত, সিরাজুল হোসেন খান। (পৃ:-৭১, ৭২)।
কলকাতার মানিকতলা থেকে ১৬ আগস্ট ভোরবেলা বাজারে দোকানপাট বন্ধ করা নিয়ে সর্বত্র হিন্দুরা গণদাঙ্গা শুরু করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নগরীর শোভা বাজার, শ্যামবাজার, বাগবাজার, ভবানীপুর, কালিঘাট, টালিঘাটসহ বহু এলাকায় দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। দাঙ্গাকারী হিন্দুগণ দুপুরের মধ্যেই এলাকাসমূহের মুসলমানদের হত্যা করে এবং তাদের বাড়িঘর নিশ্চিহ্ন করে দেয়। সেদিন প্রাদেশিক মুসলিম লীগ কর্তৃক আয়োজিত কলকাতা গড়ের মাঠের জনসভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হাজার হাজার মুসলমানের মিছিলের উপর সশস্ত্র হিন্দুগণ রাস্তার উপর আক্রমণ করে এবং রাস্তার দুদিকের হিন্দু বাড়ি থেকে গরম তেল, এসিড, জ্বলন্ত কয়লা, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। দাঙ্গা বিধ্বস্ত কলকাতা নগরীর বহু এলাকা চলে যায় হিন্দু দাঙ্গাকারী ও তাদের সহযোগী পুলিশদের দখলে। নগরীর সব থানার অফিসার ইনচার্জ ছিল হিন্দু, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের প্রধানও ছিল হিন্দুঘেঁষা অমুসলমান। প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী নিজের প্রাণ তুচ্ছ করে দাঙ্গা দমনে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পুলিশ হেড কোয়ার্টার ও থানায় কর্তৃত্বের রদবদল করেন। নিজে ব্যক্তিগতভাবে পুলিশ হেড কোয়ার্টারে বসে নির্দেশ দেন। এভাবে ৩৬ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু শান্ত পরিস্থিতি মাত্র তিনদিন অব্যাহত থাকে। পরবর্তী এক মাস পর্যন্ত চোরাগোপ্তা হামলা অব্যাহত থাকে। দাঙ্গা প্রাণ হারায় ১৫-২০ হাজার লোক, আহত হয় বহুগুণ। (সূত্র: ঐ)
হত্যাযজ্ঞ যাতে পুনরায় না ঘটতে পারে সে জন্য প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে সেনাবাহিনী থেকে ছাঁটাইকৃত শতাধিক মুসলমানকে পাঞ্জাব থেকে নিয়ে এসে কলকাতার পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দেন। দাঙ্গা উপদ্রুত থানাগুলো এবং লালবাজার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের দায়িত্ব মুসলমান কর্মকর্তাদের হাতে অর্পণ করেন। এভাবে তিনি কলকাতায় বসবাসরত ৪ লক্ষাধিক মুসলমানসহ সকল সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা করেন। (সূত্র: ঐ)
২৩ সেপ্টেম্বর বিহারের রাজধানী পাটনায় দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়। খাজা নাজিম উদ্দিন এবং আবুল হাশিম পাটনা সফর করে বিহারের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিনহার সাক্ষাৎ করেন। পাটনায় দাঙ্গা শুরু হওয়ার তিনদিন পর বিহারের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী রাঁচি থেকে মুখ্যমন্ত্রী পাটনায় পৌঁছেছিলেন। পাটনায় পৌঁছাতে বিলম্বের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পাটনায় পৌঁছানোর জন্য কোন বিমান ছিল না। দাঙ্গা দমনের উদ্দেশ্য থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী সিনহা নিজ প্রদেশের এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়ার জন্য বিমানের অপেক্ষায় থাকতেন না। বাস্তব ঘটনা হলো মুখ্যমন্ত্রী নিজেই দাঙ্গায় উপসকানি দেন। বিহারের কংগ্রেস মন্ত্রিসভার চাপে দাঙ্গা উপদ্রুত এলাকায় প্রেরিত সেনাবাহিনী হিন্দু দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে কোন কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। প্রথম তিনদিনের দাঙ্গায় ২৫-৩০ হাজার মুসলমানকে হত্যা করা হয়। এমন বহু গ্রাম আছে যেখানে দাঙ্গার পর একজন মুসলমানও জীবিত ছিল না। দুর্ভাগ্যজনক যে, জওহরলালের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বল্লভ ভাই প্যাটেলের নির্দেশে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিহারে দাঙ্গা দমনে নিস্ক্রিয় থাকে। উল্লেখ্য, কলকাতা দাঙ্গায় কলকাতায় বসবাসকারী বিহারী জনগোষ্ঠী হিন্দু দাঙ্গাকারীদের প্রতিরোধ করায় খোদ বিহারসহ সর্বভারতীয় হিন্দুরা তাদের উপর চরম প্রতিশোধ গ্রহণ করে।
নোয়াখালী দাঙ্গার খবর হিন্দু পত্র-পত্রিকায় ব্যাপক প্রচারণার ফলে এবং গান্ধী নোয়াখালীতে অবস্থান দীর্ঘদিন করায় নোয়াখালীর দাঙ্গা সর্বভারতীয় রূপ পায়।
বৃটিশ সেনাবাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও হাজার হাজার নিরপরাধ মুসলমান হত্যার ঘটনায় বিশ্বব্যাপি তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে বৃটিশ সরকার। সমালোচকদের মধ্যে প্রধান ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
উর্দুভাষী বিহারী সম্প্রদায় যারা পূর্ব পাকিস্তানে ভারত থেকে ভিটেমাটি ফেলে শুধুমাত্র আদর্শবাদিতার কারণে হিযরত করে এসেছিল তাদের কর্মোদ্যমের সদ্ব্যবহার করতে আমরা সক্ষম হইনি। এক সময় ধর্মীয় বিরোধের কারণে শত শত প্রটেস্ট্যান্ট খৃস্টান (হিউগনো সম্প্রদায়) বৃটেনে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে। বৃটেন তাদের দ্বারা নানাভাবে উপকৃত হয়। তাদের মধ্যে অনেক দক্ষ কারিগর, দক্ষ মিস্ত্রী ছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীর শিল্প বিপ্লবে এদের অবদান অপরিসীম (সূত্র : একাত্তরের স্মৃতি, ড. সাজ্জাদ হোসায়েন)
আমরা কিন্তু বিহারী কারিগরদের সদ্ব্যবহার করতে পারিনি। রেল, টেলিফোন, টেলিগ্রাফ বিভাগের উর্দুভাষী কর্মচারীগণ যদি অপশন দিয়ে পূর্বপাকিস্তানে না আসত তবে এ অঞ্চলে প্রশাসন দাঁড় করাবার কাজ বিঘ্নিত হতো।
শুধুমাত্র আদর্শগত কারণে বিহারের যেসব নাগরিক জন্মভূমি ভিটেমাটি ছেড়ে পূর্ব পাকিস্তানকে বাসস্থান হিসেবে পছন্দ করেছিলেন ইতিহাসের অমোঘ গতির শিকার হয়ে আজ তারা পছন্দের স্থানেই বাস্তুহারা, অসহায় মানবেতর জীবনের শিকার।
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের কারণে আদালতের রায়ে পৃথিবীর বহুস্থানে ভিকটিমরা সুবিচার ও ক্ষতিপূরণ লাভ করার নজির সাম্প্রতিক ইতিহাসে রয়েছে। ১৯৯৫ সালে নেদারল্যান্ডের সৈন্যদের হাতে নিগৃহীত হওয়ার ফলে বসনীয় ৩০০ মুসলিম আদালতে সুবিচার ও ক্ষতিপূরণ লাভ করে।
কেনিয়ার মাউ মাউ হত্যাকা-ের ভিকটিমরা বৃটেন থেকে ক্ষতিপূরণ পায়।
দীর্ঘ ৩০ বছর দখলদারিত্ব ও নিপীড়নের শিকার লিবিয়ার নেতা গাদ্দাফী ইটালির কাছ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার আদায় করেন। ইটালির নেতা সিলভিও বারলুসকনি এই ক্ষতিপূরণ প্রদান করেন। সাম্প্রতিক ইতিহাসে ভিকটিমদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বহু নজির রয়েছে। অসহায় বাংলাদেশী উর্দুভাষী এসব অসহায় নাগরিকরা কি বৃটেনের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পেতে পারে না?
প্রশ্ন হলো কে নেবে এই উদ্যোগ? [সমাপ্ত]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ