ঢাকা, সোমবার 18 September 2017, ০৩ আশ্বিন ১৪২8, ২৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর অবরোধ আরোপের ব্যবস্থা করতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার : দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহি উদ্দিন বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের কূটনীতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। সেইসঙ্গে বড় বড় দেশগুলো এগিয়ে এলেই এর সমাধান সহজ হবে। প্রয়োজনে জাতিসংঘের অবরোধ আরোপ করতে হবে।
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানব কল্যাণ সংঘ আয়োজিত মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বাংলাদেশে আগত রোহিঙ্গা মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। একইসাথে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের মাধ্যমে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণসহ সকল মানবতা বিরোধী হত্যাকান্ড, নির্যাতন ও ধর্ষণের বিচার দাবি করেন।
আলমগীর মহি উদ্দিন বলেন, আরাকার রাজ্যে বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয় চলছে। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে আলোচনা করতে হবে। এখানে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তার সমাধানে বড় বড় দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা যেতে পারে।
বিশিষ্ট এই সাংবাদিক বলেন, মিয়ানমারে এবারই মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়নি। অতীতেও কয়েকবার তারা রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বিতারণের উদ্যোগ নিয়েছে। সেসব সমস্যাও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছিল। অং সান সুচি শান্তির জন্য যে নোবেল অর্জন করেছেন তা সম্মান তিনি রক্ষা করতে পারেননি।
মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মানবাধিকার সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (মওসুস)এর চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এ্যাড. ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়া বলেন, আরাকানের মুসলমানদের উপর মিয়ানমার সরকারের পরিচালিত গণহত্যা, ধর্ষণ, শিশু হত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ইতিহাসের জঘন্যতম বর্বরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব প্রদান করে তাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল গঠন করে পুনর্বাসন করতে হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা হত্য নিয়ে সারাবিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও সূচির কর্ণগহ্বরে তা পৌঁছাচ্ছে না। এই রোহিঙ্গারা আরাকান রাজ্যে তিন শ’ বছর স্বাধীনতা ভোগ  করেছে। কিন্তু আজ তাদেরকে নিজ দেশ থেকে বিতারণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সূচির মনে রাখা উচিত হত্যা নির্যাতন চালিয়ে কোন আদর্শ কিংবা জাতিকে ধ্বংস করা যায় না। মিয়ানমার থেকে অন্তস্বত্বা মহিলারা পাহাড়ি দূর্গম পথ দিয়ে আসার সময় রাস্তায় তারা সন্তান প্রসব করছে। এর চেয়ে মানবিক বিপর্যয় আর কি হতে পারে। তিনি এই নির্যাতনের প্রতিবাদে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান।
সংগঠনের সভাপতি ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক ট্রেজারার আ্যডভোকেট আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক সমাচারের সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী সদস্য এ্যাড. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ,অ্যাডভোকেট মুরাদ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম, আবু ইউসুফ, মহিউদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন  আব্দুস সাত্তার সুমন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ