ঢাকা, সোমবার 18 September 2017, ০৩ আশ্বিন ১৪২8, ২৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাদের মুসলমান হিসেবে নয় মানুষ হিসেবে বিবেচনা করুন

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার: মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাদা-দলের শিক্ষকেরা। মানববন্ধনে রোহিঙ্গাদের মুসলমান হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করার পাশাপাশি অবিলম্বে রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধ এবং তাদেরকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারকে একলা চলা নীতি পরিহার করে সবাইকে সাথে নিয়ে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। গতকাল রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন করেন তারা। এ সময় মানববন্ধনে সাদাদলের কয়েক’শ শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। 
মানববন্ধনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে সাদা দলের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়–য়া বলেন, আজকে মানবতার চরম বিপর্যয় চলছে। মানবতা দ্বিখন্ডিত করতে চাই না। আজকে গৌতমবুদ্ধের বাণী প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আমি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোক হিসেবে ক্ষমা প্রকাশ করছি। রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আজ বাংলাদেশের সবাই এবং বিশ্ব বিবেক রোহিঙ্গাদের পক্ষে ও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে।
সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মো: আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ড. লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনের শুরুতেই রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে ঐতিহাসিক বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ঢাবি সাদা দলের সদস্য ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
আরো বক্তব্য রাখেন সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক ও কলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, সাদা দলের বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আবদুর রশিদ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. দিলীপ বড়ুয়া প্রমুখ।
অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন বলেন, সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এই সঙ্কট মোকাবিলা করতে হবে। সরকারের উচিৎ হবে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে চাপ প্রয়োগ করা এবং রোহিঙ্গাদের সে দেশে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করা।
পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. দিলীপ বড়ুয়া বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের একসাথে ১০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। আমরা লজ্জিত। তিনি মিয়ানমারের জঙ্গি বৌদ্ধদের প্রতিশোধ আমাদের ওপর নয়। আমরা সকলে রোহিঙ্গাদের পক্ষে এবং হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে।
ড. আখতার হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশের নাফ নদীর ওপারে রোহিঙ্গাদের গ্রাম জ্বলছে, নাফ নদীতে নারী শিশু পুরুষের লাশ ভাসছে। শরণার্থী শিবিরে খাবারের জন্য অসহায় রোহিঙ্গাদের আহাজারি চলছে। তারপরও তথাকথিত বিশ্ব মোড়লদের কোনো বিবেক জাগ্রত হয়না। আমি বলবো রোহিঙ্গাদের মুসলমান হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে দেখুন। তাদের প্রতি অমানবিক আচরণ থেকে বিরত থাকুন। প্রধানমন্ত্রীকে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরি এবং বাংলাদেশে যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট না হয় সে জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ