ঢাকা, সোমবার 18 September 2017, ০৩ আশ্বিন ১৪২8, ২৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আত্রাইয়ে দিনে রাতে চলছে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং

আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা : নওগাঁর আত্রাইয়ে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে ও তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক দিনে- রাতে অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। ফলে বিপাকে পড়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকসহ সকল স্তরের শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জীবনযাপন করছে সর্বসাধারণ। এদিকে গত দু’সপ্তাহ ধরে  তীব্র তাপদাহে জন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রোদের তেজ থাকায় লোকজন স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারছে না। একটু চলাফেরায় ঘাম লবণে হাসফাস করতে দেখা গেছে অনেকেই। তবে অনেকে রোদের তীব্রতার জন্য জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। একটু স্বতিতে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য গাছের ছায়ার তোলে আশ্রয় খুঁজছে। তাতে যেন স্বতি মিলছে না । বিশেষ করে শ্রমজীবি ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। পেটে তাগিদে প্রচন্ড খরতাপেও তাদের কায়িক শ্রম দিতে হচ্ছে। ঘন ঘন অনির্ধারিত লোডশেডিংয়ে উপজেলার সকল স্তরের মানুষের জীবন যাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে ধরনা দিয়ে কোন ফল হচ্ছে না উপজেলাবাসীর।
নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আত্রাই বিলিং এরিয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলায় ৬ টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এই ফিডারগুলো চালু রাখতে প্রয়োজন পড়ে দিনে ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট ও রাতে ১০ থেকে ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। অথচ দিনের বেলায় পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৩ মেগাওয়াট ও রাতের বেলায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এ বিদ্যুৎ দিয়ে ২ থেকে ৩ টি ফিডার চালু রাখা যায়। বাঁকি ফিডারের গ্রাহকরা লোডশেডিংয়ের শিকার হন। প্রতিবার ১ টি ফিডারে ১ থেকে দেড় ঘন্টা লোডশেডিং দিতে হয়। এতে দিনে রাতে ৬ থেকে ৭ ঘন্টার লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছে আত্রাই এলাকার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা। দিনের বেলায় কম হলেও রাতের বেলায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এসব গ্রাহক।
উপজেলার ভবানীপুর জি এস উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ ওয়াজেদ আলী লিটন জানান, এমনিতে প্রচন্ড গরম তার মধ্যে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং থেকে কবে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে তা বলা মুশকিল। তিনি ক্ষোভের সাথে আরো জানান রাতের বেলায় বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং হতে থাকলে ছেলে মেয়ের লেখা পড়ার তো ক্ষতি হবেই, তার সাথে চোর ডাকাতের উপদ্রোব বাড়তে পারে।
উপজেলার ভবানীপুর বাজারের লেদ ব্যবসায়ী বাবু ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। দিন দিন আমাদের ব্যবসায় ধস নামতে শুরু করেছে। এদিকে ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজিটালাইষ্ট ও ব্যাংক বীমা প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কল-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিপনী বিতান ও কম্পিউটার ব্যবসা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
আত্রাই পল্লী বিদ্যুৎ এরিয়া অফিসের এজিএম মোঃ ফিরোজ জামান জানান, প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ার জন্য লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। এতে আমাদের করনীয় কিছু নেই। চাহিদা মাফিক বিদ্যুৎ কবে থেকে পাওয়া যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি মনেকরেন আর বেশি দিন এমন লোডশেডিং থাকবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ