ঢাকা, মঙ্গলবার 19 September 2017, ০৪ আশ্বিন ১৪২8, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে তৎপর কূটনীতিকরা

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ২০১৪ সাল থেকেই তৎপর রয়েছেন বিদেশী কূটনীতিকরা। তারা এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলছেন। সেখানে একটি ইনক্লুসিভ ইলেকশন বা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির আহ্বানই জানাচ্ছেন বিদেশী বন্ধুরা। তারা বলছেন, যত দ্রুত সম্ভব তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনই বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের একমাত্র উপায়।

সূত্র মতে, ভীতিমুক্ত পরিবেশে সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা দশম সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই বিদেশীরা একটি অবাধও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে আসছেন। একইসাথে সাথে তারা দশম সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ বলেও অভিহিত করেছেন। গত চার বছল ধরেই এ নিয়ে কোনো না কোনো বিদেশি কূটনীতিক, বন্ধু-উন্নয়ন সহযোগী কথা বলছেন। সরকার, নির্বাচন কমিশন, নাগরিক সমাজ এবং স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ-বৈঠক বা মতবিনিময়ে জোরালোভাবে বিষয়টি আসছে। কূটনৈতিক পল্লীর দৈনন্দিন কর্মসূচি, ডিপ্লোমেটিক পার্টি কিংবা আনুষ্ঠানিক সাংবাদিক সম্মেলনেও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দিচ্ছেন বিদেশিরা। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এমনকি আওয়ামী লীগের বন্ধু বলে পরিচিত ভারতও দেশে একটি অবাধ ও সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন চায়। এসব দেশ, সংস্থা-সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আশায় তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আগাম অঙ্গীকার ব্যক্ত করে চলেছেন। নির্বাচনকে ঘিরে বিদেশিদের এসব তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। তারা বলছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে সর্বত্র প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। বিদেশীরা চান না আবারো গতবারের পুনরাবৃত্তি ঘটুক। 

প্রশ্নবিদ্ধ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কোনো পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। আগামী নির্বাচনটি সবার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনে জোর তাগিদ দিচ্ছে ইইউ। ’১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে সব দল আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী ইইউ দূত পিয়েরে মায়েদুন। ইইউ’র বৈশ্বিক এজেন্ডা হিসেবে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকে উৎসাহিত করে যাবে জানিয়ে তিনি এ-ও আশা করেছেন যে তাদের আহ্বানে বাংলাদেশ সাড়া দেবে। পরবর্তী নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হবে এমন ধারণায় ইইউ তা পর্যবেক্ষণে আগাম পর্যবেক্ষক টিম পাঠানোরও প্রস্তুুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে তারা সরকারকে বিষয়টি জানিয়েছে। ইইউ সূত্র বলছে, মোট ৪টি ধাপে তারা পরবর্তী নির্বাচনটি পর্যবেক্ষণ করতে চায়। প্রথমত: নির্বাচন নিয়ে স্টেক হোল্ডারদের মনোভাব, দলগুলোর প্রাথমিক প্রস্তুতি এবং ওই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। দ্বিতীয়ত: নির্বাচন-পূর্ব মাসগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তৃতীয়ত: নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি, চতুর্থ এবং সর্বশেষ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি। ইইউ’র পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এরই মধ্যে আলোচনা সেরেছেন ২৮ রাষ্ট্রের এ জোটের ঢাকাস্থ প্রতিনিধিরা। সর্বশেষ বিদায়ী ইইউ দূত পিয়েরে মায়েদুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তাদের পরিকল্পনা ও প্রস্তাবের বিষয়টি তুলে ধরেন। 

এদিকে আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের মনোভাব বুঝতে জাতিসংঘের নির্বাচন বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল জুলাইতে ঢাকা সফর করেছে। তারা আগামী নির্বাচনের পরিবেশ এবং ভোট কার্যক্রমে জাতিসংঘের সহায়তা বিষয়ে আলোচনা করে গেছেন। ঢাকায় সিরিজ বৈঠকে জাতিসংঘ টিম মূলত আগামী নির্বাচনটি কেমন হবে? কোন ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচনটি হতে পারে এবং তা অংশগ্রহণমূলক হলে এতে জাতিসংঘ কি সহায়তা দিতে পারে? তা জানা-বুঝার চেষ্টা করেছে। জাতিসংঘের ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স কার্যালয়ের পাবলিক আউটরিচ অ্যাডভাইজার সভেতলানা গালকিনার নেতৃত্বাধীন টিমে ওই কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ দু’জন কর্মকর্তা লাস জোসেফালফোনস ডি গিয়ার ও ইয়াও ইভরাড কুয়াডিও ছিলেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রবার্ট ওয়াটকিন্সও গত কয়েক মাসে ঢাকায় বিভিন্ন বৈঠকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি জাতিংঘের আকাংখার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তার মতে, আগামী নির্বাচন হতে হবে স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ।

এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রও বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। নিউ ইয়র্কে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র স্টিফান দুজারিক সম্প্রতি বলেন, জাতিসংঘের অবস্থানে কোনো হের ফের নেই। আমরা সব সময় অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের আহ্বান জানাই। ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতও প্রায় অভিন্ন ভাষাতেই আগামী নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আকাংখার বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার সঙ্গে বৈঠকে সম্প্রতি রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ভয়হীন, শংকামুক্ত এবং সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন দেখতে চায়। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সিইসি’র সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে ঢাকাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকাস্থ ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। সম্প্রতি পররাষ্ট্র সচিব এম. শহীদুল হকের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, আমরা সবাই গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাস করি। আমি নিশ্চিত, অন্য গণতন্ত্রের মতো এখানেও তেমনটি হবে। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক দেখতে চায় কি-না ভারত? এমন প্রশ্নে শ্রিংলা বলেন, ‘গণতন্ত্র মানে অংশগ্রহণ। আমি নিশ্চিত নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হবে। 

ওদিকে ঢাকাস্থ বৃটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতে অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দিয়েছেন। ঢাকা সফরকারী বৃটিশ ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ প্রতিমন্ত্রীও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার বিদায়ী বার্তায়ও এর উল্লেখ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে ঢাকাস্থ কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনওয়া পিয়েরে লারামিও সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন দেখার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডা দূতের বিদায়ী বৈঠকে আগামী নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, কানাডা সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। এ সময় স্বচ্ছ ভোটবাক্স চালুসহ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উদ্যোগ ও অবদানের কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

সূত্র মতে, একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তৎপর বিভিন্ন দেশের জনপ্রতিনিধিরাও। গেল বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি হোটেল সোনারগাঁওয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদলের নেতা জেইন লেম্বার্ড বলেছেন, বাংলাদেশে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন। এ জন্য রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অংশীদারদের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়া দরকার। এই আলোচনা যত দ্রুত শুরু করা যায় ততই মঙ্গল। তিনি বলেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ২০১৮ সালে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন দেখতে চায়। লেম্বার্ড বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি কী হবে তা বাংলাদেশের মানুষকেই নির্ধারণ করতে হবে। আমরা এতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারি। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর হাউস অব কমন্সের কমিটি রুমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে সায়মন ডানজাক এমপি বলেন, বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি যথার্থ। তিনি বলেছেন, ২০১৪ সলের ৫ই জানুয়ারি বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অপমৃত্যু ঘটেছে। সেদিন প্রধান বিরোধীদলসহ অন্যান্য দলকে বাইরে রেখে একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রের বিকাশ ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে একটি অবাধ, গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জরুরি এবং বিরোধী দলের এই দাবি যথার্থ। গেল বছরের ৮ জুন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা বলেছেন, বাংলাদেশে বিগত বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের বিষাক্ত প্রভাব কেউ অস্বীকার করতে পারে না। এটা প্রাতিষ্ঠানিক অবিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। একইসাথে সহিংসতাকে উসকে দিয়েছে- যা আমরা এখনো প্রত্যক্ষ করছি। যত দ্রুত সম্ভব তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনই বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের একমাত্র উপায়। বাংলাদেশ পরিস্থিতির ওপর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অধিবেশনে এসব মন্তব্য করা হয়েছে।

গত ১৬ জুলাই ইইউ-বাংলাদেশ যৌথ কমিশন সভায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সাথে তারা গণতান্ত্রিক পরিবেশে আইনের শাসন ও প্রশাসনে সুশাসনের নিশ্চয়তা চায়। ব্রাসেলসে অষ্টম যৌথ কমিশন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক সিনিয়র সচিব মুহাম্মদ শহীদুল হক। ইইউ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পামপালোনি।

সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ (জানিপপ) চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর মতে, এটি কাক্সিক্ষত, প্রত্যাশিত। উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বিদেশিরাও বাংলাদেশে ভালো নির্বাচন দেখতে চান। এজন্য তারা তাদের আকাঙক্ষা ব্যক্ত করছেন। ১৪-র ৫ জানুয়ারির মতো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন কেউই চায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটি এখন কেবল বিদেশিদের চাওয়া নয়, সবার চাওয়া। ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হলেও ওই নির্বাচন যে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল তা মানছেন সবাই। বিএনপি ও তাদের মিত্ররা নির্বাচনটি বর্জন করেছিল। সেই নির্বাচনের ১৫৩ আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ