ঢাকা, মঙ্গলবার 19 September 2017, ০৪ আশ্বিন ১৪২8, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সংসদ ভেঙ্গে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে নির্বাচনের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি (পিডিপি)। সেই সাথে বিচারিক ক্ষমতাসহ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে দলদু‘টি। 

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত ইসির সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানায় দলদু’টি। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপের পক্ষ থেকে ২১ দফা প্রস্তাব ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি (পিডিপি) ১৬ দফা প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে সকালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ও বিকেলে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির (পিডিপি) সাথে বৈঠক করেন।

বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া ছাড়াও ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ন্যাপ প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিষ্টার মশিউর রহমান গাণি, ভাইস চেয়ারম্যান মুনির ইনায়েত মল্লিক, মো. ফারহানুল হক, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ শাহজাহান সাজু, স্বপন কুমার সাহা, মো. নুরুল আমান চৌধুরী, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মো. শহীদুননবী ডাবলু, মো. কামাল ভুইয়া, মিসেস মতিয়ারা চৌধুরী মিনু।

সংলাপে বাংলাদেশ ন্যাপ'র ২১ দফা প্রস্তাবগুলো হলো : নির্বাচকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করা, (২) নির্বাচনী তফশিল ঘোষনাও পূর্বেই জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা, (৩) নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার পরই পরই বিচারিক ক্ষমতা সহ সেনাবহিনী মোতায়েন করা এবং তাদেরকে নির্বাচন পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত নিয়োজিত রাখা (৪) ০৪. অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য লেভেইং প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করা, (৫) নির্বাচনে অবৈধ অর্থ, কালো টাকা ও পেশী শক্তি ব্যবহার কঠিন ভাবে নিয়ন্ত্রন করতে হবে, (৬) নিরপেক্ষ স্থানে ভোট কেন্দ্র্র স্থাপন করা, ভোটার ও প্রার্থীর এজন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে প্রার্থীদের এজেন্টদের স্বাক্ষর সহ ভোট কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল ঘোষনা করা, (৭) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অন্ত: এক বছরপূর্বে থেকেই সকল দলের লেভেইং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে, (৮) না ভোটের বিধান সংযুক্ত করা, (৯) প্রবাসীদের ভোটাধিকার দিতে হবে, (১০) ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি বাদ দেয়া, (১১) সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের সুবিধা ও নিরাপত্তা বাতিল করা এবং সকল প্রার্থীকেই সেই নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে, (১২) যে সকল জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বিতর্কিত তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা, (১৩) গণমাধ্যম কর্মীদের সকল কেন্দ্রে উম্মুক্ত প্রবেশাধিকার দিতে হবে, (১৪) স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও ক্ষমতাবান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। জনবল ও বাজেটের দিক থেকেও নির্বাচন কমিশনের জন্য সরাসরি প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, (১৫) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল ও জোটসমূহের সারাদেশে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে প্রতিনিধি নির্বাচনের বিধান চালু করা, (১৬) ভোটারের সংখ্যা অনুযায়ী নির্বাচনী এলাকা পুন:নির্ধারণের কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। ৭ কোটি জনসংখ্যার রাষ্ট্রে ৩০০ সংসদীয় আস দিয়ে যাত্র শুরু হলেও এখন জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। এই বিষয়টি সামনে রেখে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে সংসদীয় আসন নির্ধারন করা এবং রাজধানী ও শহরকেন্দ্রীক জনসংখ্যা অনিয়ন্ত্রিত বিধায় এসব এলাকায় আসন সংখ্যা একবারের নির্ধারন করে দেয়া, (১৭) আরপিও’র এসব অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক ধারাসমূহ বাতিল করা, (১৮) নির্বাচনে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, (১৯) নির্বাচনে দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকেরা যাতে নির্বিঘেœ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারেন তা নিশ্চিত করা, (২০) জাতীয় নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেবার বিধান চালু করা এবং (২১) গত নির্বাচনসমূহের অভিজ্ঞতার আলোকে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রার্থী ও দলসমূহের নির্বাচনী আচরণবিধি ঢেলে সাজানো দরকার।

ইসির সংলাপে পিডিপির কো-চেয়ারম্যান নিলুফার পান্না কোরেশীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি এতে উপস্থিত ছিলেন। পিডিপির লিখিত ১৬ দফা প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে ঐচ্ছিক ছুটি গ্রহণ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাহী প্রধান করে অপরাপর কমিশনার এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা ও সরকারি কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হতে পারে। একই সময় মন্ত্রিপরিষদ ও পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে।

আর অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনীকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে সাধারণ ভোটারদের ভোটদানের নিশ্চয়তার বিধান করারও দাবি জানায় দলটি।

পোলিং ও প্রিজাইডিং অফিসারদের নিরাপত্তা বিধানে সেনাবাহিনীকে ম্যাজেস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে কেন্দ্রে অবস্থানের সুযোগ দেয়া, ভোটের আগের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতির দায়িত্ব দেয়া, শুধু জনসংখ্যা নয়, ভোটার সংখ্যা ও সংসদীয় এলাকার আয়তন বিবেচনায় সীমানা নির্ধারণের আইনি কাঠামো সংস্কার, প্রবাসীদের দূতাবাসের মাধ্যমে ভোটাধিকার দেয়ার ব্যবস্থা করা, নির্বাচনের তিনমাস আগে নির্ভুল ভোটার তালিকা করা, নির্বাচনে ইভিএম প্রয়োগ না করা, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, নির্বাচনে না ভোটের বিধান রাখা, কোনো আসনে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট না ভোটের থেকে কম হলে সেই আসনে ভোট বাতিল করা, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধ না হয়ে নিজ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়া, একটি দলের একই প্রতীকে বারবার নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিধান বাতিল করা, জাতীয় সংসদে ৩০০ আসনের পরিবর্তন আনা যায় কি না বিষয়টি বিবেচনা করা ইত্যাদি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে ইসি। এরই ধারাবাহিকতায় এ বৈঠক। গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করে ইসি। আর ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় শুরু হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ