ঢাকা, মঙ্গলবার 19 September 2017, ০৪ আশ্বিন ১৪২8, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিএনপিকে ত্রাণ দিতে বাধা দেয়ার জবাব জনগণই দেবে -নজরুল ইসলাম খান

 

স্টাফ রিপোর্টার : রোহিঙ্গাদের জন্য বিএনপির ২২ ট্রাক ত্রাণ দিতে যে বাধা দেয়া হয়েছে তার জবাব বাংলাদেশের জনগণই দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে আমরা (বিএনপি) ছোট-বড় ২২ ট্রাক নিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ দিতে গিয়েছিলাম, আমাদেরকে সেই ত্রাণ দিতে দেয়া হয় নাই। আপনারা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখছেন কী কষ্টে রোহিঙ্গা দিনাতিপাত করছে। সারা দেশের মানুষকে যখন পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানানোর দরকার কিন্তু সেই আহ্বান না জানিয়ে বিএনপিকে ২২ ট্রাক ত্রাণ দিতে বাধা দেয়া হয়েছে। শুধু বিএনপিকে বাধা দেয়া হয় নাই, প্রাপ্ত থেকে রোহিঙ্গাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এর জবাব কে দিবে? এর জবাব বাংলাদেশের জনগণই দিবে। 

 গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বাসায় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভায় হামলার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সামাজিক অনেক সংগঠনই সাহায্য দিচ্ছে কিন্তু সরকারসহ ১৪ দলের কাউকে সেখানে ত্রাণ দিতে দেখা যায় নাই। তাদের মুখে শুধু বড় বড় কথা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রতিদিনই গলাবাজি করছেন। চিবিয়ে চিবিয়ে মিথ্যা কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি যখন রিলিফ দেন। সরকারি ভাণ্ডারের চাবি আপনাদের হাতে। আপনারা সেখানে পুলিশ পাহারায় রিলিফ দেন কিন্তু আমরা কোনও সহযোগিতা চাই নাই, তারপরেও আপনারা আমাদেরকে রিলিফ দিতে দেন নাই। আমরা প্রশাসনকে বলেছিলাম আপনারা আমাদের সাথেই এই ত্রাণ বিতরণ করেন কিন্তু তারা রাজি না হয়ে আমাদেরকে বলে আপনারা ২-৩ বস্তা বিতরণ করে ছবি তুলে চলে যান আর বাদ বাকি আমাদের গুদামে জমা দেন। তাহলে ভাবেন একবার দেশের কি অবস্থা ? 

যারা বিএনপি করে তাদের মধ্যে যারা মুসলমান তাদেরকে ইফতার করতে দেওয়া হয় না। যারা হিন্দু তাদেরকে পূজা করতে দেওয়া হয় না। যারা বৌদ্ধ তাদেরকে প্রার্থনায় বাধা দেওয়া হয়। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকারের অব্যবস্থাপনার ফলে চালের দাম লাগামহীন হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ চাল কিনে খাওয়ার অবস্থা নেই। তিনি বলেন, এই জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করি নাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম বাংলাদেশের জন্য, যেখানে সকল ধর্মের মানুষের ধর্ম পালনের অধিকার থাকবে। কিন্তু এই অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে এই সরকারের অক্ষমতার কারণেই মিয়ানমার বাংলাদেশের আকাশ সীমা বারবার লঙ্ঘন করছে। বিনাভোটে নির্বাচিত এই সরকারের পতন ঘটিয়ে মানুষ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, যেই মিয়ানমার নির্যাতন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে তাড়িয়ে দিচ্ছে, আর খাদ্যমন্ত্রী সেখানেই গিয়েছেন চাল আনার জন্য। যদি বাধ্য হয়ে যেয়ে থাকেন তাহলে তার স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার কথা নয়।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ সেকুলার দাবি করলেও সেকুলার নয়। আওয়ামী লীগ একটি পিকুলিয়ার (অদ্ভুত) দল। কারণ, এরা যেকোনো সময় নিজের স্বার্থে কাজ করতে পারে।

গয়েশ্বরের বাড়িতে হামলার নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের একটি আয়োজনে পুলিশ যে নগ্ন হামলা করেছে, এই হামলা আর রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের হামলার মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে? তারা (মিয়ানমার) জাতিগত নির্মূল করছে, তারা রোহিঙ্গা মুসলমান ও হিন্দুদের অত্যাচার করছে। ...অং সান সু চির নিরাপত্তা বাহিনী আর শেখ হাসিনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এক কাজ করেছে।

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করছেন। অর্থাৎ, বিরোধী মতকে লেভেল করে দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। সেক্যুলারিজম বা অন্য ধর্মের প্রতি তাদের কোনো মত নেই, তাদের একটাই ধর্ম তারা জোর করে ক্ষমতায় থাকবে। এর মধ্যে যদি কারও কাছ থেকে বিরোধী মত শোনে, তখন সেটিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বানানোর চেষ্টা শুরু করে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বাড়িতে পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়ে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এই হামলা গণতন্ত্রের উপর, যে তান্ডব চালানো হয়েছে সেটা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের উপর। কারণ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আজীবন গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলে চলেছেন। দেশ একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এই অবৈধ সরকারের অপসারণ ছাড়া আমাদের কোন মুক্তি নেই। 

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়াপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়ুয়া, আতাউর রহমান ঢালী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ড, নির্বাহী কমিটির সদস্য, আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমতউল্লাহ, অধ্যাক্ষ আমিনুল ইসলাম, রমেশ দত্ত, নিপুন রায় চৌধুরী, যুবদল নেতা আল বাট পি কস্তা প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ