ঢাকা, মঙ্গলবার 19 September 2017, ০৪ আশ্বিন ১৪২8, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাদের সমর্থন করায় আসামে বিজেপির সংখ্যালঘু নেত্রী বরখাস্ত

১৮ সেপ্টেম্বর, এনডিটিভি : মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমর্খন জানানোয় বিজেপির আসাম ইউনিট তাদের নির্বাহী কমিটি থেকে মুসলিম সংখ্যালঘু এক নেত্রীকে বরখাস্ত করেছে। ওই নেত্রীর নাম বেনেজির আরফান। তিনি আসামে তিন-তালাক বিরোধী আন্দোলনে বিজেপির মুখপাত্র ছিলেন। বেনেজির নিজেও তিন তালাকের শিকার। ২০১২ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির টিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন। কয়েকদিন আগে এক ফেইসবুক পোস্টে বেনেজির রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের আচরণের প্রতিবাদে আয়োজিত ভুখা সমাবেশে যোগ দিতে অনুরোধ জানানোর পর দলের পক্ষ থেকে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিজেপির আসাম ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ সাইকিয়া এক চিঠিতে বেনেজিরকে দল থেকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার কারণ দর্শাতে তিন দিনের সময় দেন। এর উত্তরে বেনেজির ক্ষমা চাইলেও লাভ হয়নি। “ব্যক্তি হিসেবে আমি (মিয়ানমারে) এই ধরনের আক্রমণ সমর্থন করি না, এবং এজন্যই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা শেয়ার করেছি। এটা এখানে আমাদের পার্টিপ্রধান রনজিৎ দাস পছন্দ করেননি।
কী জন্য আমার এই অবস্থান পার্টি তা জিজ্ঞেসও করেনি এবং কারণ দর্শানো নোটিস ছাড়াই আমাকে বরখাস্ত করেছে,” এমনটাই বলেন বেনেজির। বেনেজির ফেইসবুক পোস্টে যে প্রতিবাদ কর্মসূচি শেয়ার করেছিলেন তার আয়োজক ছিল গুয়াহাটিভিত্তিক এনজিও ইউনাইটেড মাইনরিটি পিপলস ফোরাম। শনিবার তাদের সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে ২৫ অগাস্ট থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ আসা শুরু করে রোহিঙ্গারা। জাতিসংঘ ও সরকারি হিসাবে এরই মধ্যে নতুন করে প্রায় চার লাখ শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এই সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও শঙ্কা তাদের।এরই মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বলেও এনডিটিভির খবর। ভারত সরকার এসব শরণার্থীকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে তাদের ফেরত পাঠাতে নির্দেশ জারি করেছে।
ত্রিপুরা সরকারের সমর্থন
নির্যাতনের কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরনার্থীদের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন ভারতের ত্রিপুরার বাম সরকার। সিপিএম পরিচালিত রাজ্য সরকার কেন্দ্রের রোহিঙ্গা অবস্থান নিয়ে সমালোচনায় মুখর। ত্রিপুরারা রাজ্য সরকার রোহিঙ্গার শরনার্থীদের প্রতি সহানূভুতি জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন।এদিকে  রোহিঙ্গাদের সমর্থনে রাজধানী আগরতলায় বিশাল র‌্যালি করেছে  জমিয়ত-উলেমা-হিন্দ। এই মিছিল থেকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সুচির ফাঁসি দাবি জানান জমিয়ত নেতারা। অন্যদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তৎপর কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যের বিভিন্ন চেকপোস্টে চলছে বাড়তি নজরদারি৷ তেমই নজরদারি চলছিল ত্রিপুরার খোয়াই জেলায়৷ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকতেই গ্রেফতার করা হয় চার রোহিঙ্গা মুসলিমকে৷পরে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় আগরতলার মহাত্মা গান্ধী প্রোটেকটিভ হোমে৷ এর আগে জাল পরিচয়পত্র সহ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে মনিপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ