ঢাকা, মঙ্গলবার 19 September 2017, ০৪ আশ্বিন ১৪২8, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

টিআইবি’র সুপারিশ আমলে নেয়া হোক

টিআইবি’র গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বড় বড় দুর্নীতিবাজদের এখন সরকারই সুরক্ষা দিচ্ছে। একই সাথে দেশে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যাকাণ্ডও বেড়েই চলছে। প্রতিনিয়ত আইন-শৃঙ্খলারও অবনতি ঘটছে। খর্ব হচ্ছে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়েছে, ২০১৬ সালে দেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ১৯৫ জন, ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ১৯২ জন। প্রতিবেদনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও উঠেছে। উল্লেখ্য যে, ১৭ সেপ্টেম্বর নিজস্ব কার্যালয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
টিআইবি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে তথ্য ও মতামত প্রদানের ব্যাপারে কিছু বিধানের অপব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে যোগাযোগ ও প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা উদ্বেগজনকভাবে অপব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে বিতর্কিত আইনের ওই ধারা বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে। রিপোর্টে আরো উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন উদ্যোগের পরও বাংলাদেশে দুর্নীতি ও ঘুষ, অর্থ পাচার, মৌলিক স্বাধীনতার ব্যত্যয় ও মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় শুদ্ধাচার কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যাশিত পর্যায়ে কার্যকর নয়। এর পেছনে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব, কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা, নির্বাহী বিভাগ ও প্রশাসনের আধিপত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই জনগণের কাছে জবাবদিহিতার কোন কাঠামো নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ব্যবস্থাও দুর্বল। আইনি সংস্কারের সুপারিশে বলা হয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ করা এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া সরকারি কর্মচারিদের স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, অধিকার ও দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য পাবলিক সার্ভিস আইন প্রণয়ন, পুলিশকে জনবান্ধব করতে পুলিশ আইন-১৮৬১ সংস্কার, বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ ধারা বাতিল প্রয়োজন।
টিআইবি’র রিপোর্টে প্রাতিষ্ঠানিক কিছু বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া প্রায়োগিক পর্যায়ের সুপারিশে বিচারবহির্ভূত হত্যার তদন্ত, সব ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও পুলিশী হেফাজতে মৃত্যুর তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। আমরা মনে করি, টিআইবি’র গবেষণা প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে তা সরকারের আমলে নেয়া উচিত। এতে শুধু জনগণের নয় সরকারেরও কল্যাণ হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ