ঢাকা, মঙ্গলবার 19 September 2017, ০৪ আশ্বিন ১৪২8, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা বিষয় নিয়ে নিখিলেসকে খোলা চিঠি

-রহিমা আক্তার মৌ

প্রিয় নিখিলেস,
জানি এই মুহূর্তে তুমি আমি আমরা অনেকেই ভালো নেই। কিছু নিয়মিত কাজ সবার থাকে, থাকে নিয়মিত ভাবনা, থাকে ব্যস্ততাও।
বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যস্ত থাকো ভাষা নিয়ে, মার্চ মাস ব্যস্ত থাকো স্বাধীনতা নিয়ে, ডিসেম্বর ব্যস্ত থাকো বিজয় নিয়ে। বছরের শেষ দিন ব্যস্ত থাকো পুরো বছরের প্রাপ্তি  নিয়ে, বছরের প্রথম দিন ব্যস্ত থাকো আগত বছরের প্রত্যাশা নিয়ে। আর বাঁধা ধরা ঘর সংসার তো আছেই।
আমার ব্যস্ততা ঘর সংসার, সন্তান আর সামান্য লেখালেখি নিয়ে। তোমার ব্যস্ততা একটার পর একটা এসাইনমেন্ট, মিটিং নিয়ে। একটার পর একটা নিউজ নিয়ে। নিখিলেস এই সময়টা কি করুণ নাকি কষ্টের কিছু বুঝতে পারিনা। একটার পর একটা দুর্যোগ যেনো লেগেই আছে আমাদের। বর্ষা সময়ে বন্যা হবে, অথচ সেই জানুয়ারি থেকে এখন সেপ্টেম্বর, পুরো নয় মাস কোথাও না কোথাও আবার কখনো অনেক জায়গায় বন্যা লেগেই আছে।
পত্রিকা পড়া বন্ধ করে দিয়েছি কয়েকমাস আগেই। এখন খুব অল্প কিছু পড়ি। যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকেই সব নিউজ পাই। আর টিভির নিউজ তো আছেই। ঈদের আগে যে ভাবে বন্যা হয়েছে ভয়ে আঁতকে উঠেছি। বন্যায় ভেসে যাওয়া কুড়িগ্রামে গিয়েছি মাত্র দুইদিনের জন্যে। বন্যার তেমন কিছু চোখে পড়েনি। কিন্তু ফেরার পথে রাস্তার দুই পাশে ফসলের যে ক্ষতি দেখে এসেছি, বুক ফাঁটা কান্না এসেছে। জানিনা ঐ কৃষকরা কি ভাবে তা সহ্য করছে।
নিখিলেস, আগষ্টের শেষ দিক থেকে শুরু হলো নতুন এক দুর্যোগ। নতুন বলছি কেনো রোহিঙ্গা নির্যাতন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ তো নতুন নয়। কিন্তু এখন অসহনীয় ভাবে যা চলছে তা আমাদের সহ্য করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানো নিখিলেস, একটা প্রশ্ন বারবার মনের মাঝে আঘাত করে, নিজেকে বারবার প্রশ্নটা করিও, কিন্তু জবাব পাইনা। প্রশ্নটা আমি তোমাকেও করতে চাই।
আচ্ছা নিখিলেস বলতে পারো রোহিঙ্গাদের বর্তমান এই পরিস্থিতি কি ওদের ভাগ্য নাকি এটা ওদের নিয়তি। রৌদ্র আর অভ্র প্রায় প্রশ্ন করে, কেনো রোহিঙ্গাদের উপর এত নির্যাতন করছে মগেরা (মায়ানমার সেনাবাহিনীরা)। ওদের প্রশ্নের জবাব সব সময় দিতে পারিনা। রৌদ্র এখন অনেক কিছুই বুঝে, কিন্তু অভ্র ওর ভিতরে হাজার হাজার প্রশ্ন। অভ্র আমার ফেইসবুক আইডিতে বসে, রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের ভিডিও দেখে চোখের জল ফেলে।
নিখিলেস, গত রাতে নিজেই ইউটিউব এ কিছু ভিডিও দেখতে চাই। একটার পর একটা ভিডিও দেখে নিজেও চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। খুজঁতে চেষ্টা করেছি কেনো মায়ানমার সেনাবাহিনী এমন নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠেছে। জানতে চেয়েছি এর মুলে আসলে কি আছে। জানতে পারলাম মায়ানমারের সীমানা বাংলাদেশের চেয়ে ৫ গুণ, আর মায়ানমারের জনসংখ্যা বাংলাদেশের অর্ধেক। মায়ানমার আসলে রোহিঙ্গাদের পূর্বপুরুষদের। সেখানে আজ রাজত্ব করছে মগেরা। মগেরা চায় পুরো মায়ানমারকে নিজেদের করে নিতে, নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে। অস্ত্র গোলাবারুদের কারখানা বানাতে। তুমি তো জানো মায়ানমার মাদকের এলাকা, এই মায়ানমারের মাদক প্রতিনিয়ত ঘুনপোকার মতো ধ্বংস করছে আমার দেশের তরুন সমাজকে। এখন সেই মায়ানমারকে অস্ত্র গোলাবারুদের কারখানা বানানোর জন্যেই রোহিঙ্গাদের সরিয়ে দিচ্ছে। থেমে থেমে ওরা বারবার আঘাত করছে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর। কি হিংস্র জানোয়ারের মতো মায়ের কোলের সন্তানকে, ভাইয়ের বোনকে, সন্তানের সামনে মা বাবাকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। জীবন্ত মানুষের শরীরে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছি। অল্প বয়সি মেয়েদের শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করছে।
মায়ানমারের মাটিকে রক্তে রঞ্জিত করেছে মুসলমানদের রক্ত দিয়ে। এরা কি কোন দিন ক্ষমা পাবে। আমার তোমার ওদের সৃষ্টিকর্তা কি কখনো ক্ষমা করবে ওদের। করবে না, তুমি দেখে নিও ওরা ক্ষমা পাবে না।
নিখিলেস পত্রিকা পড়া বন্ধ করেছি, টিভির নিউজ দেখতে গেলেই রোহিঙ্গাদের খবর, ওদের দুর্বিষহ জীবনের চিত্র দেখে আর ভালো লাগেনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের পাশে যায়, ত্রাণ সামগ্রী দেয়। ঘোষণা দেয় দেশের ১৬ কোটি যখন খাবার খেয়ে বেঁচে আছে,তাহলে এই ৬/৭ লাখ রোহিঙ্গাও খেয়ে বাঁচবে, খাবার পাবে। সত্যিই একজন নেত্রীর মতোই কথা। রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে শুনে ভালো লাগলো। কিন্তু অনেকটা ধীর গতিতে হচ্ছে দেখে টেনশান হচ্ছে। নিউজে বলছে রোহিঙ্গাদের জন্যে যে ক্যাম্প করা হয়েছে ওরা সেখানে না থেকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়িছে। এই ছড়িয়ে পড়াটা কিন্তু আমাদের দেশের জন্যে চিন্তার বিষয়।
মায়ানমার আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ। মুসলমান ভাইবোনদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবতা। এই মানবতাই শিখিয়েছে আমাদের ধর্ম। কিন্তু অবাক লাগে বিশ্বের অন্যদেশগুলোর অবস্থা দেখে। কেমন একটা চুপ হয়ে আছে ওরা। সবাই যেনো চায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশেই আসুক, বাংলাদেশকে বিপর্যয় এ ফেলুক। রোহিঙ্গারা আমার দেশে এসে অন্যায় করুক। অবৈধ কাজের সাথে একহোক। দেশের ভিতরে এদের নিয়ে শুরু হোক অশান্তি।
নিখিলেস, রোহিঙ্গারা আমাদের দেশের নাগরিক নয়, তবুও ওদের নিয়েও কেমন একটা রাজনৈতিক ঘুটি চালাচালি হচ্ছে। দলমত ভুলে সবাই ওদের পাশে দাঁড়াবে, অথচ একদল অন্যদলের দিকে আল তোলে, কেউ ওদের পাশে যেতে পারে, কাউকে আবার যেতে বাধা দেয়া হচ্ছে। এই সময় এগুলো কি ভালো লাগে তুমিই বলো।
রোহিঙ্গাদের সাহায্য করা নিয়ে ত্রান দেয়া নিয়ে ও হচ্ছে রাজনীতি। ফেইসবুকে আমার কিছু প্রিয়জন আছেন, এটিএন নিউজ এর প্রভাষ আমিন তার টাইমলাইনে দিয়েছেন,,,
“বিএনপির ত্রাণের ট্রাক আটকে দেয়ার তীব্র নিন্দা জানাই। সংকীর্ণ দলীয় বিভাজন নয়, এখন সময় জাতীয় ঐক্যের।”
তিনি টাইমলাইনে আরো দিলেন,,,,,
“বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১০ জন নোবেল বিজয়ী ও ১৮ জন সম্মানিত ব্যক্তি মিয়ানমারের রাখাইনে মানবিক সংকট অবসানের লক্ষ্যে জরুরী হস্তক্ষেপ চেয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিকট খোলা চিঠি দিয়েছেন। এই চিঠির উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস। আর পুরো বিষয়টি সমন্বয় করেছে ইউনূস সেন্টার। সারাবিশ্বে সম্মানিত ও পরিচিত এমন ৩০ জন ব্যক্তির যৌথ খোলা চিঠি কেবল ড. ইউনূসের পক্ষেই আয়োজন করা সম্ভব। ধন্যবাদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সব মহল থেকে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে হবে।”
খবরটা শুনে ভালোই লাগলো। ঐ যে বলে না অনেক অন্ধকারের পর একটু আলোর দেখা।
শিশু সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক মোস্তফা হোসাইন উনার টাইমলাইনে দেন,,,,
“৫৭ বছর চেষ্টার পর রোহিঙ্গাদের দিয়ে পাকিস্তানের প্রথম জয়। আমরা কি হারতে বসেছি?”
কমেন্ট বক্সে তিনি লিখেন,,,
“খুব ভয় হয়। ওদের পরিকল্পনা স্বাধীন আরাকান প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হলো কিনা। তাহলে এখানে আরেকটা কাশ্মির বানাবে।”
উনার এই কথাটার সাথে আমার দেখা ভিডিও চিত্র মিলে যাচ্ছে।
নিউজ ৭১ এর জয়নাল আবেদিন তার টাইমলাইনে দিয়েছেন,,,,
“বিএনপি কেন রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিচ্ছে না- এই প্রশ্ন করে আসছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীরা। শেষপর্যন্ত বিএনপি যখন ২২ ট্রাক ত্রাণ সামগ্রী দিতে গেলো, তখন প্রশাসন ‘ঠেকিয়ে’ দিলো! অত:পর রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো এমন মানবিক বিষয় নিয়েও রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু!”
টিভির খবরে দেখি দলে দলে কাতারে কাতারে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধদের আসতে, কিন্তু তুলনামূলক ভাবে অল্পবয়সী মেয়েদের তেমন দেখিনা। এটা নিয়ে মনের মাঝে দোটানা ছিল। কিন্তু ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে ঘুম থেকে উঠে টিভি ছাড়ি। নিউজ ২৪ এর চ্যানেল টা দিই। একটা এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখাচ্ছে। অল্পবয়সী মেয়েদের নিয়ে, নিউজে বলা হচ্ছে মায়ানমার সেনাবাহিনী অল্পবয়সী মেয়েদের নির্যাতন করে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে। আরো বলে রোহিঙ্গা নারীদের অনেকেই ধর্ষণ করা হয়। উহ! শরীর শিউরে উঠছে, তবে কি এজন্যেই অল্পবয়সী মেয়েদের বেশি দেখা যায়না।
রোহিঙ্গাদের পাশে সরকারি বেসরকারি ভাবে, ব্যক্তিগত বা সংঘঠনিক ভাবে অনেকে দাড়াঁচ্ছে। অনেকে যোগাযোগ করছে ফেইসবুক বা মোবাইলে। নিজের যেটুকু সম্ভব তা ঠিক করবো। এমন কাজে আমি রৌদ্র অভ্রকে ও বলি। ওরাও টিফিনের টাকা থেকে কিছু হলেও দেয়।
যত যাই বলি না কেনো নিখিলেস কিছুই ভালো লাগেনা। আল্লাহ্ মুসলমাদের উপর এ কোন আলামত দেখাচ্ছে। ইনবক্সে একজন কিছু ভিডিও দেয়। অন করে দেখি তাতে বলে কিয়ামত খুব নিকটে,তাই এমন হচ্ছে। ভয় ও লেগেছে। আসলে আমরা যে যাই করি না কেনো আমরা আমাদের ধর্মের প্রতি ঠিক দুর্বল আছি। এই সুযোগ নিচ্ছে এক শ্রেনীর লোকজন।  ওরা ওঁতপেতে থাকে কিছু হলেই ধর্মের অপব্যাখ্যা দিতে। পারিপার্শ্বিকতা দেখে আমরা সত্য মিথ্যা যাচাই করতেও ভুলে যায়। আর ওরা সে সুযোগটাই হাতিয়ে নেয়।
নিখিলেস, এক সময় পত্রিকায় অনেক লিখেছি। সমসাময়িক যে বিষয় গুলো আমায় ভাবাতো, আমায় আহত করতো,তা নিয়েই লিখেছি। আবার কিছু বিষয় আমাকে এতটাই পাথর করে দেয় আমি লিখতে পারিনা। আমি একজনের কিছু না লিখলেই কি আর লিখলেই কি। কতজনে কত কিছুই লিখছে। কি হচ্ছে? আদৌ কি কিছু হচ্ছে। নাকি হবে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে অনেক আগে লিখেছি, কিন্তু এবার আমার কলম চলে না। কলম চালাতে গেলেই কেনো জানি আটকে আসে। অনেকেই বলে, ইনবক্সে জানতে চায়, কেনো আমি কিছুই লিখিনা। আমি কাউকেই কিছু জবাব দিইনা। “অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর” আমিও মনে হয় তাই হয়ে গেছি।
নিখিলেস, ক্ষমতা মানুষকে এতটাই পাল্টে দেয়, তা আগে অনেক দেখেছি। কিন্তু সুচি ক্ষমতা হাতে পেয়ে এতটাই অমানুষ হয়ে যাবে ভাবতে পারিনি। টিভিতে সুচিকে দেখালেই, ফেবুতে সুচিকে দেখলেই রৌদ্র অভ্র বলে,,
-মা তুমি না সুচিকে অনেক পছন্দ করতে।
জবাবে আমি বলি,,,
-ও তখন অনেক ভালো কাজ করেছে,তাই ওকে পছন্দ করতাম। শুধু আমি নয়, বিশ্বই ওকে পছন্দ করতো। যার জন্যে শান্তিতে সে নোবেল ও পায়। অথচ আজ মনে হয় অশান্তির জন্যে,বিবেকহীন, মনুষ্যত্বহীন, বেইমানী, এইসবের জন্যে যদি নোবেল দেয়া হতো তাহলে সুচিই পেতো।
নিখিলেস এসব শুনে ওরা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। সত্যি বলতে কি জানো আগে সুচিকে দেখলেই ভক্তি শ্রদ্ধায় আমি নত হয়ে পড়তাম। ইচ্ছে হতো কাছ থেকে ওকে দেখি, একটু ছুঁয়ে দেখি। যদি ওর মতো কাজ করতে পারতাম। যদি মানুষের পাশে একটু দাঁড়াতে পারতাম। কিন্তু আজ ওর আচরণ,ওর কথা,ওর চলন ভরণ দেখে ইচ্ছে করে-
থাক তা বলে কি হবে। আমি এক অতিসাধারণ, সেই সাধারণ মানুষটা পাথর হয়েছি বলে কিছুই লিখতে পারছিনা।
নিখিলেস রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিতে পারি, মৌলিক চাহিদা যতটা সম্ভব দিতে পারি, কিন্তু ওরা আশ্রয় পাওয়া পর এই দেশের জন্যে যেনো ক্ষতির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। ওদেরকে যেনো কেউ হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার না করে। ওরা কেউ কোন ভাবেই যেনো এই দেশের নাগরিকত্ব না পায়। অতীতে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশী সেজে অন্যদেশে গিয়ে অবৈধ কাজে লিপ্ত হয়ে বাংলাদেশের ক্ষতি করেছে। তা যেনো আর না হয়। একটা কাজ আগেই ভুল হয়ে গেছে বলে মনে করি, রোহিঙ্গারা আসছে দেখেই ওদের জন্যে সীমানা নির্ধারণ করা উচিত ছিলো। ভয় হয় মানবতা দেখাতে গিয়ে দেশেরই না বড় কোন ক্ষতি হয়ে যায়।
নিখিলেস লিখলে লিখা শেষ হবে না, তবুও শেষ করতে হবে। দোয়া করি তুমি ভালো থাকো, যতটা পারো মানবতার মাঝেই থেকো। আমি কেমন আছি বুঝে নিও। ঈদের আগের ও পরের তোমার ব্যবহারে আমি কিছুটা আহত। অনেকটা রাগ অভিমান মনে। জানি এসব সরে যাবে, আকাশের কালো মেঘের মতো। আমরা ব্যক্তিগত সমস্যাগুলোকে কখনোই বড় করে দেখিনি। নিজেদের জায়গা থেকে অন্যের জন্যে সমস্যার কারণ হইনি। হবো ও না। কিন্তু মানুষ তো। রক্তে মাংসের মানুষ বলে মান অভিমান হয়।
তবুও বলবো নিখিলেস ভেবে দেখো, আমি যে অভিযোগ গুলো করি তোমার বিরুদ্ধে তা কি ভুল করি। ভুল বা ঠিক যাই হোক এই মুহূর্তে চাইনা আমায় নিয়ে ভাবো, চাই সমসাময়িক সমস্যা নিয়ে ভাবো। চাইনা আমায় কিছু সময় দাও, চাই ওদের পাশে গিয়ে দাড়াও। চাইনা আমার জন্যে দুটাকা ব্যয় করো। চাই ওদের পাশে গিয়ে যারা শূণ্য আকাশের নিচে খালি হাতে এক কাপড়ে এসে আশ্রয় চায় আমার তোমার আর আমাদের বাংলাদেশের কাছে। কাজ করো তাদের জন্যে। ছুটে যাও ওদের পাশে। তবে দল বা রাজনীতির অংশীদার হয়ে নয়। মানবতার জন্যে যাও, ওদের শান্তি ফিরিয়ে দিতে যাও, ওদের বাপ দাদার সম্পত্তি ফিরিয়ে দিতে যাও। ভালো থেকো, আবার কখনো আসবো লিখবো নতুন কিছু, তবে রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা যেনো আর না লিখতে হয়।
-ইতি
আমি সেই হতভাগী, যাকে তোমার মনে পড়ে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ