ঢাকা, মঙ্গলবার 19 September 2017, ০৪ আশ্বিন ১৪২8, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মহিলাদের কৃত্রিম রূপচর্চা

নকল চুল বা পরচুলা লাগানো, উলকি উৎকীর্ণ করা [চামড়ায় ছুঁচ ফুটিয়ে দিয়ে তাতে রং ঢেলে নক্সা আঁকা বা নাম লেখা] সৌন্দর্যের জন্য দাঁত ঘষে সরু করা বা দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করা নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তাঁর [আল্লাহর] পরিবর্তে তারা কেবল দেবীদের পূজা করে এবং তারা কেবল বিদ্রোহী শয়তানের পূজা করে। আল্লাহ তাকে [শয়তানকে] অভিসম্পাত করেছেন এবং সে [শয়তান] বলেছে, ‘আমি তোমার দাসদের এক নির্দিষ্ট অংশকে [নিজের দলে] গ্রহণ করবই এবং তাদেরকে পথভ্রষ্ট করবই; তাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করবই, আমি তাদেরকে নিশ্চয় নির্দেশ দেব, ফলে তারা পশুর কর্ণচ্ছেদ করবেই এবং তাদেরকে নিশ্চয় নির্দেশ দেব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবেই।’ [আর যে আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবক-রূপে গ্রহণ করবে, নিশ্চয় সে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।] (সূরা নিসা ১১৭-১১৯)
আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমার মেয়ে এক প্রকার চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে তার মাথার চুল ঝরে গেছে। আর আমি তার বিয়েও দিয়েছি। এখন কি আমি তার মাথায় পরচুলা লাগিয়ে দেব?’ তিনি বললেন, ‘‘যে পরচুলা লাগিয়ে দেয় এবং যার লাগানো হয় উভয় মহিলাকে আল্লাহ অভিসম্পাত করুন বা করেছেন।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১] অন্য বর্ণনায় আছে, ‘‘যে মহিলা পরচুলা লাগিয়ে দেয় এবং যে লাগাতে বলে [তাদের উভয়কে আল্লাহ অভিসম্পাত করুন বা করেছেন।’’  [বুখারী-হা: ৫৯৩৫, মুসলিম-২১২২, নাসায়ী-৫০৯৪, ইবনু মাজাহ-১৯৮৮, আহমাদ-২৪২৮২]
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতেও উক্ত-রূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। (বুখারী-৫২০৫,  মুসলিম-২১২৩, নাসায়ী-৫০৯৭, আহমাদ-২৪২৮২)।
হুমাইদ ইবনে আব্দুর রাহমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি হজ্জ করার বছরে মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন-ঐ সময়ে তিনি জনৈক দেহরক্ষীর হাত থেকে এক গোছা চুল নিজ হাতে নিয়ে বললেন, ‘হে মদীনাবাসীগণ! তোমাদের আলেমগণ কোথায়? আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ জিনিস [ব্যবহার] নিষেধ করতে শুনেছি। তিনি বলতেন, ‘‘বানী ইস্রাঈল তখনই ধ্বংস হয়েছিল, যখন তাদের মহিলারা এই জিনিস ব্যবহার করতে আরম্ভ করেছিল।’’ (বুখারী-৩৪৬৮, মুসলিম-২১২৭, তিরমিযী-২৭৮১, নাসায়ী-৫২৪৫, আবু দাউদ-৪১৬৭, আহমাদ-১৬৩৮৮, মালিক-১৭৬৫।
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরচুলা যে মহিলা লাগিয়ে দেয় এবং যে পরচুলা লাগাতে বলে, আর যে মহিলা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উলকি উৎকীর্ণ করে ও যে উলকি উৎকীর্ণ করতে বলে তাদেরকে অভিশাপ করেছেন। (বুখারী-৫৯৩৭, মুসলিম-২১২৪, তিরমিযী-১৭৫৯, নাসায়ী-৩৪১৬, আবূ দাউদ-৪১৬৮, ইনু মাজাহ-১৯৮৭, আহমাদ-৪৭১০) ।
আব্দুললাহ ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আল্লাহর অভিশাপ হোক সেই সব নারীদের উপর, যারা দেহাঙ্গে উলকি উৎকীর্ণ করে এবং যারা উৎকীর্ণ করায় এবং সে সব নারীদের উপর, যারা ভ্রূ চেঁছে সরু [প্লার্ক] করে, যারা সৌন্দর্যের মানসে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে।’ জনৈক মহিলা এ ব্যাপারে তাঁর [ইবনে মাসঊদের] প্রতিবাদ করলে তিনি বললেন, ‘আমি কি তাকে অভিসম্পাত করব না, যাকে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন এবং তা আল্লাহর কিতাবে আছে? আল্লাহ বলেছেন, ‘‘রসূল যে বিধান তোমাদেরকে দিয়েছেন তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকে।’’ (সূরা হাশর-৫৯:৭, বুখারী-৪৮৮৬, মুসলিম-২১২৫, তিরমিযী-২৭৮২, নাসায়ী-৫০৯৯, আবূ দাউদ-৪১৬৯, ইবনু মাজাহ্্-১৯৮৯, আহমাদ-৩৮৭১, দারেমী-২৬৪৭]
-রবিউল ইসলাম

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ