ঢাকা, মঙ্গলবার 19 September 2017, ০৪ আশ্বিন ১৪২8, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাজধানীর বাজারে প্রচুর ইলিশ দামও সাধ্যের নাগালে

শাহেদ মতিউর রহমান : রাজধানীর বাজারে রূপালি ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। কমেছে দাম। কোন বাজারে ইলিশের দাম আগের তুলনায় অর্ধেকে নেমেছে। কম দামে ইলিশ কিনতে পেরে বেজায় খুশি পরিবারের কর্তা অথবা গিন্নি। ইলিশের বাজার সরগরম হওয়াতে মৌসুমী কিছু ব্যবসায়ীও মুনাফা লুফছেন। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। তবে ভোলা ও  মনপুরার আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইলিশ পরিবহনের জন্য পৃথক লঞ্চের ব্যবস্থা থাকলে রাজধানীর বাজারে ইলিশের দাম আরো কম হতো। 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাগরে এখন প্রচুর পরিমাণে ধরা পড়ছে ইলিশ। সেই ইলিশ প্রক্রিয়াজাত হয়ে কয়েক হাত ও আড়ত বদল হয়ে পৌঁছেছে রাজধানীর বাজারে। আগের তুলনায় দাম কম হওয়াতে ক্রেতারা কিনছেন ধুমছে।
নগরীতে প্রধান প্রধান ইলিশের আড়ত হচ্ছে টঙ্গীর আব্দুল্লাপুর, যাত্রাবাড়ি, সোয়ারিঘাট এলাকায়। আব্দুল্লাহপুর আড়তে নদী পথে এবং সড়ক এই উভয় পথেই মধ্য রাতের পর থেকেই আসতে থাকে ইলিশের চালান। বিক্রি শুরু হয় রাত ৩টার পর থেকেই। ইলিশের পাইকারি বেচা বিক্রি চলে ভোর পর্যন্ত। এরপর এখানে বিক্রি শুরু হয় খুচরা পর্যায়ে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে আবদুল্লাহপুরের আড়তের মূল এরিয়া ছাড়িয়ে প্রধান রাস্তা ও আশপাশের এলাকায় বসে ইলিশের বাজার। দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা এসে ইলিশের বড় বড় চালান কিনে নিয়ে যান।
আবদুল্লাহপুর আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, ভোর ছয়টার পর থেকেই পাইকারি বিক্রির সাথে চলতে থাকে খুচরা পর্যায়ের ইলিশের বিক্রি। এখানকার বিক্রেতারা জানান, এখন সাগরে প্রচুর ইলিশের ঝাঁক ধরা পড়ছে। তাই শুধু এখানেই নয় নগরীর প্রায় প্রতিটি আড়তেই মাছের একক বাণিজ্য চলছে ইলিশের। দাম কম হওয়াতে পাইকারি এবং খুচরা উভয় পর্যায়েই বিক্রি হচ্ছে বেশি।
ভোর রাতে পাইকারিভাবে ইলিশ কিনে আবদুল্লাহ পুরেই বিক্রি করেন লালু মিয়া। তিনি সংগ্রামকে জানান, আমি নিজে মাছের কোন ব্যবসায়ী না। তবে ঈদের পর থেকে গত ১৫ দিন যাবৎ আমি এখানে ইলিশের ব্যবসা করছি। লাভও পাচ্ছি ভাল। খুব ভোরে ৫০ হাজার টাকার ইলিশ পাইকারিভাবে কিনে দিনভর এই মাছ বরফে রেখে বিক্রি করি। দিন শেষে লাভসহ আসে ৫৪/৫৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ একদিনেই প্রায় ৫ হাজার টাকা লাভ  হয়। তবে এই টাকা থেকে আড়ত কমিটি ও অন্যান্য খাতে থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হয়। আমার নিট ইনকাম হয় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা।
মাছের দামদর নিয়ে কথা হয় আরেক বিক্রেতা রহম আলীর সাথে। তিনি জানান, মাছের সাইজ অনুযায়ী দাম নির্ধারিত হয়। দুই কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হয়ে ১৬শ’ থেকে ১৮শ’ টাকায়। এর থেকে ছোট আকৃতির ইলিশ অর্থাৎ ১২শ’ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশের দাম ১৩শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা। এক কেজি ওজনের কম হলে সেই ইলিশের দাম কম। এক কেজি ওজন হলে তার দাম এক হাজার থেকে এগারশ’ টাকা। ৭/৮শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ৭শ’ টাকা। আধা কেজি ওজনের ইলিশের দাম ৪৫০ টাকা থেকে ৫শ’ টাকা। ছোট ইলিশের দাম ৩শ’ থেকে সাড়ে তিনশ’ টাকা।   
শুধু বড় বড় বাজার নয়, ইলিশ কেনাবেচা হচেছ শহরের অলিগলিতে।  পাড়া মহল্লায় ফেরি করা ছাড়াও এলাকা ভেদে  বা বড়  আবাসিক এলাকার প্রবেশ পথেও বিক্রি হচেছ ইলিশ। এসব এলাকার বিক্রেতারা জানান, তারা ভোর রাতে পাইকারি বাজার বা আড়ত থেকে ইলিশ কিনে সেগুলোকে বরফের আস্তরনের মধ্যে রেখে দিনভর বিক্রি করেন। চাহিদা বেশি থাকায় অনেক বিক্রেতা  এখন অন্য মাছের পরিবর্তে শুধু ইলিশ মাছই বিক্রি করেন।    
ভোলার মনপুরার পাইকারি ইলিশের আড়তদার হারুন অর রশিদ জানান, এবছর ইলিশের রাশি ভাল।সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। এই ইলিশ যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও। ইলিশ বেশি ধরা পড়ার কারণে দামও এবার তুলনামূলক কম। ক্রেতারাও খুশি।  তিনি জানান, আমরা ঝুঁড়িতে প্যাকেট করে ঢাকার বাজারে পাঠাই। ইলিশের বড় পাইকারির বাজার কারওয়ান বাজার। এছাড়া যাত্রাবাড়ি আব্দুল্লাহপুরেও চালান পাঠাই।
ইলিশ পরিবহনে নানা সমস্যা নিয়েও কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, ভোলা এবং  ইলিশ ধরা পড়ে এমন অন্যান্য অঞ্চল থেকে রাজধানীমুখী ইলিশ পরিবহনে পৃথক লঞ্চ থাকলে রাজধানীর বাজারে ইলিশের দাম আরো কম হতো। তিনি আরো জানান, ভোলার মনপুরা থেকে একটি কোম্পানীর দুটি মাত্র লঞ্চ এই রুটে চলাচল করে। এই  একই লঞ্চে যাত্রী  এবং ইলিশ উভয়ই পরিবহন  করা হচ্ছে। ফলে সময় এবং খরচও বেশি পড়ছে। তিনি ইলিশ পরিবহনের জন্য পৃথব ভাবে লঞ্চের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ