ঢাকা, মঙ্গলবার 19 September 2017, ০৪ আশ্বিন ১৪২8, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মানিকগঞ্জে সমবায়ের নামে বেপরোয়াভাবে সুদের ব্যবসা চলছে

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা : মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর ও সাটুরিয়া উপজেলা সহ টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলায় উদীয়মান সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতি নামের একটি সমবায় সমিতি যাবতীয় আইন ও বিধি লংঘন করে বেপরোয়াভাবে সুদের ব্যবসা করে যাচ্ছে। সম্প্রতি নানামূখী অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লি ও বরাইদ ইউনিয়নের ছনকা বাজার সহ কয়েকটি এলাকা এবং নাগরপুর উপজেলার মোকনা ও মামুদনগর ইউনিয়নের বারিগ্রাম চৌরাস্তা বাজার সহ কয়েকটি এলাকায় চড়া সূদে কয়েক বছর যাবত ঋণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র দৌলতপুর উপজেলা সমবায় অফিসে নিবন্ধিত উদীয়মান সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতি।
এখানে যেসব গ্রাহক রয়েছে তাদের একজনও উদীয়মানের শেয়ার ক্রয় করেনি। অথচ সমবায় আইন ও বিধিতে বলা আছে নির্দিষ্ট কর্ম ও সভ্য এলাকায় অবস্থিত শুধুমাত্র শেয়ার ক্রেতাগণের মধ্যে ঋণ কার্যক্রম চালানো যাবে, যেটা উদীয়মান সূস্পষ্টভাবেই লংঘন করেছে। দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া বাজারে অফিস নিয়ে আরও যেসব এলাকায় ঋণের কার্যক্রম চালাচ্ছে সেখানেও শেয়ারধারী নয় এমন ব্যক্তি শতশত। যাদেরকে বলা হয়েছে সঞ্চয় করতে থাক এক সময় ঋণ পাবে, কোথাও কোথাও অতি অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ উচ্চহারে সুদ সমেত দৈনিক কিস্তি পদ্ধতিতে পরিশোধের ষ্ট্যাম্পিং শর্তে দেওয়া হয়েছে বলে বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামুদনগরের ইউপি সদস্য আবুল হাশেম, ছনকা বাজারের ব্যবসায়ী নেতা আব্দুল মান্নান, বারিগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী তারেক মিয়া সহ অনেকেই উদীয়মানের নিয়ম বহির্ভুত কার্যক্রমের বিষয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন। এ বিষয়ে রাতারাতি বিপুল অর্থবিত্ত্বের অধিকারী হয়ে উঠা উদীয়মানের কথিক মালিক বিলকালিদহ গ্রামের মোঃ গেদু মিয়ার পুত্র মোঃ কুদরত আলীর (৩০) সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে সমিতির  সভাপতি ও এমডি দাবীপূর্বক অনুমোদিত এলাকার বাহিরে সমিতির ঋণ কার্যক্রম করছে স্বীকার করে বলেন, দৌলতপুর সমবায় অফিস আমাকে এসব জায়গায় কাজের অনুমতি দিয়েছে, আমি এভাবেই কাজ করতে থাকবো, ভালো কাজই করছি, পেচাল বাদ দেন। এক পর্যায়ে এ প্রতিবেদকের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ করে।এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমার অফিসে উদীয়মান সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতি নামের কোন সমিতির অনুমোদন নেই, তিনি তাৎক্ষণিক কুদরত আলীকে টেলিফোনে নাগরপুর এলাকার কোথাও কোন কার্যক্রম চালানো বন্ধ করতে বলেন। অপরদিকে দৌলতপুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মাকসুদুর রহমান কুদরত আলীর অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে বলেন, আমাদের এখান থেকে নিবন্ধিত কাউকে সাটুরিয়া কিংবা নাগরপুরে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যে কুদরত আলীর সমিতি উদীয়মানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা সমবায় অফিসকে দ্রুতই লিখিতভাবে জানাব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ