ঢাকা, মঙ্গলবার 19 September 2017, ০৪ আশ্বিন ১৪২8, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাধবদীর কাকশিয়ায় যৌতুকের জন্য গৃহবধূ খুন॥ স্বামী গ্রেপ্তার

মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা: যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে গৃহবধূ শাহানাজকে খুন করেছে তার স্বামী মোবারক হোসেন। এ ব্যাপারে আমদিয়া ইউনিয়নের চাঁনগাও গ্রামের লোকজন নিহতের স্বামী মোবারককে আটক করে পুলিশে সংবাদ দিলে মাধবদী থানা পুলিশ গত ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার নিহত শাহানাজের পিত্রালয় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১২ সেপ্টেম্বর মাধবদী থানার পাঁচদোনা ইউনিয়নের কাকশিয়া গ্রামে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় আমদিয়া ইউনিয়নের চাঁনগাও গ্রামের আব্দুল মান্নান (আইচ্ছাইল্লা) এর মেয়ে শাহানাজকে গত ৪ বছর আগে পাঁচদোনা ইউনিয়নের কাকশিয়া গ্রামের রমিজ উদ্দিনের ছেলে মোবারক হোসেনের কাছে বিয়ে দেয়ার পর সে প্রায় সময়ই যৌতুকের জন্য শাহানাজকে চাপ প্রয়োগ ও মারধোর করতো । শাহানাজ তার পিতা আইচ্ছাইল্লাকে  এ ঘটনা জানালে যৌতুক হিসেবে দু’বার কিছু টাকাও দেন মোবারককে। কিন্তু তাতেও মোবারক থেমে থাকেনি আবারো যৌতুকের জন্য শাহানাজকে মারধোর করলে এ ব্যাপারে এলাকায় বেশ কয়েকবার শালিশ দরবার হলে শাহানাজের স্বামী মোবারক আর এমনটি হবেনা বলে মাপ মুক্তি পেয়ে যায়।  এলাকার শালিশ দরবারও মোবারককে থামিয়ে রাখতে পারেনি এক সন্তানের জননী গৃহবধূ শাহানাজকে যৌতুক হিসেবে আরো টাকা এনে দেয়ার জন্য মারধোর করতে থাকলে ঘটনার দিন গত ৪ সেপ্টেম্বর সোমবার শাহানাজ আর কোন টাকা পয়সা দিতে পারবেনা বলে অস্বীকার করলে তাকে বেধড়ক মারপিট করে এতে গৃহবধু শাহানাজ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে মোবারক ও তার আত্মীয় স্বজনরা তাকে বাড়িতে রেখেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে থাকে পরে তার অবস্থার গুরুতর অনুধাবন করে ৬ দিন পর তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয়। এ অবস্থায় বাড়িতে ও নরসিংদী জেলা হাসপাতালে দীর্ঘ ৮ দিন মৃত্যু যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে গত ১২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে শাহানাজ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। শাহানাজের মৃত্যুর পর তার পিতার বাড়িতে সংবাদ দেয়া হয় শাহানাজ অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে মারা গেছে। পরে মোবারক ও তার আত্মীয় স্বজন নিহতের লাশ নিয়ে শাহানাজের পিত্রালয়ে নিয়ে গেলে পিতা আইচ্ছাইল্লা তার মেয়ের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখে নিশ্চিত করে যে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা আব্দুল মান্নান (আইচ্ছাইল্লা) মাধবদী থানায় হত্যা ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে। এব্যাপারে নিহতের পিতা মোবারকের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী করেন। এ ব্যাপারে কাকশিয়া গ্রামের একটি প্রভাবশালী মহল মামলা তুলে নেয়ার জন্য নিহতের পিতাকে হুমকি দিয়ে আসছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ