ঢাকা, বুধবার 20 September 2017, ০৫ আশ্বিন ১৪২8, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এখনও বালুতে মাথা গুঁজে রেখেছেন সু চি -অ্যামনেস্টি

১৯ সেপ্টেম্বর, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট : রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি’র মঙ্গলবারের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ তুলেছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে তিনি মিথ্যাচার করেছেন। সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রধান জেমস গোমেজের অভিযোগ, রাখাইন নিয়ে আগের অবস্থানেই রয়েছে মিয়ানমার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর অনলাইন সংস্করণে গোমেজকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সু চির পূর্ববর্তী অবস্থানে অটল থাকার এই নীতিকে গোমেজ আখ্যা দিয়েছেন বালুতে মাথা গুঁজে রাখা হিসেবে।
 টেলিভিশনে প্রচারিত জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সু চি মঙ্গলবার বলেন, রাখাইনের সব জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ গভীরভাবে অনুভব করে তার সরকার। সেখান থেকে মুসলমানদের পালিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার খবরে তার সরকার উদ্বিগ্ন। মুসলমানরা কেন পালাচ্ছে, তা সরকার খুঁজে বের করতে চান বলেও তিনি জানান। সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানান। রাখাইনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রবেশ নিয়ে তার ভয় নেই জানিয়ে সেখানে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। তবে ভাষণে  রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেননি সু চি। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৪ লাখ রোহিঙ্গার ব্যাপারে তিনি অবগত নন বলেও দাবি করেছেন। সেই ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তরফ থেকে গোমেজ বলেন, ‘সু চি’র জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বুঝাই গেছে তিনি এবং তার সরকার রাখাইনের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে আগের অবস্থানেই রয়েছেন। বরং তার ভাষণে মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে রোহিঙ্গাদেরকেই দায়ি করা হয়েছে।’
ক্লিয়ারেন্স অপারেশন জোরদার হওয়ার পর থেকেই মিলতে থাকে বেসামরিক নিধনযজ্ঞের আলামত। পাহাড় বেয়ে ভেসে আসতে শুরু করে বিস্ফোরণ আরগুলীর শব্দ। পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো থেকে আগুনের ধোঁয়া এসে মিশতে শুরু করে মৌসুমী বাতাসে। মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে শূন্যে ছুড়ে দেয় সেনারা। কখনও কখনও কেটে ফেলা হয় তাদের গলা। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় মানুষকে। তবে এইসব তথ্য পেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় সংবাদ সংগ্রাহকদের। এবার সংস্থার তরফে গোমেজ বলেন, ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর উপর নির্মম দমন-পীড়নের যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকলেও তাতে গুরুত্ব দিচ্ছেন না সু চি। শান্তিতে নোবেল জয়ী এই নারী বিষয়টিতে প্রতিবাদ জানালেই বরং তা ইতিবাচক হিসেবে দেখা হতো। তবে রোহিঙ্গা নির্যাতনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার ব্যাপারে এখনও তিনি নিশ্চুপই রয়েছেন।
চলতি মাসের প্রথমে একটি স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশের মাধ্যমে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েঠিলো অন্তত ৭০০ বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তারা স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে কাজ করার সুযোগ দিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছিলো। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সংবাদমাধ্যম রাখাইনে প্রবেশ করতে পারছে না। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান বলেন, ‘সু চি বলেই যাচ্ছেন যে চলতি বছরের গোড়ার দিকে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ প্রতিষ্ঠায় তার সরকার সহযোগিতা করবে না। এরসঙ্গে যোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক মহলের বিবেচনার বিষয়ে তিনি এবং তার সরকার ভীত নয়। যদি মিয়ানমারের লুকোনোর কিছু নাই থাকে তবে দেশটিতে জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে বাধা কোথায়?’ গোমেজ বলেন, সু চি সরকারের উচিৎ অবিলম্বে রাখাইনসহ মিয়ানমারের সব স্থানে জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক দলকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া। এবং যেসব অঞ্চলে সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে সেসব এলাকায় জাতিসংঘের কাজ করার অনুমতি দেয়া।
গত তিন সপ্তাহে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশের হাতে প্রায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ১ হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান জেইদ রা’দ আল ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞের পাঠ্যপুস্তকীয় দৃষ্টান্ত’ আখ্যা দিয়েছেন। মহাসচিব গুয়েতেরেজ কদিন আগে প্রশ্ন রেখেছেন, এক তৃতীয়াংশ মানুষ দেশ থেকে উচ্ছেদ হলে তাকে জাতিগত নিধন ছাড়া আর কী নামে ডাকা যায়। আর মঙ্গলবার জেমস গোমেজ বলেন, ‘সু চি মিয়ানমারের অন্যত্র জাতিগত সংঘাতের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে চাইছেন। কিন্তু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, তাতে নির্বিকার রয়েছেন।’ অবিলম্বে মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর উপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবি জানান জেমস গোমেজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ