ঢাকা, বুধবার 20 September 2017, ০৫ আশ্বিন ১৪২8, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের ‘সন্ত্রাসী তত্ত্ব’ নাকচ করলেন মমতা -ওয়াইসি

১৯ সেপ্টেম্বর, পার্সটুডে : রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের বিপরীত মত প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে মমতা তার বিরোধিতা করেছেন।
গত সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানানো হয়েছে, "রোহিঙ্গারা দেশের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক এবং তাদের সঙ্গে পাক গোয়েন্দা সংস্থা ও আইএস সন্ত্রাসীদের যোগ রয়েছে। এর সঙ্গে শুধু দেশের নিরাপত্তা নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিও জড়িয়ে আছে। সেজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।"
এদিকে, একইদিন রাজ্য সচিবালয় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "সাধারণ মানুষের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদীদের তুলনা করলে চলবে না। সন্ত্রাসী যোগ প্রমাণ হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ যেন কোনো বিপদে না পড়ে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মমতা বলেন, "আমি মনে করি সকলেই সন্ত্রাসী নয়। কেউ কেউ সন্ত্রাসী হতে পারে, তারা সন্ত্রাসী হিসেবেই বিবেচিত হবে। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে পার্থক্য আছে।
প্রত্যেক সম্প্রদায়েই কেউ ভালো মানুষ বা খারাপ মানুষ হতে পারে। কিন্তু সম্প্রদায় হল সম্প্রদায়ই। আমরা সন্ত্রাসী কাজকর্মের সঙ্গে কোনো আপোশ করব না। যদি কেউ সন্ত্রাসী হয় সরকার তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ যেন কোনো ভোগান্তিতে না পড়েন। সম্প্রদায় দুর্ভোগে পড়লে, মানবতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে, মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, "এ পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়নি।" কেন্দ্রীয় সরকার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সন্ত্রাসী সংগঠনের যুক্ত থাকার যে অভিযোগ করেছে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি তাকে 'বিজেপি’র পুরোনো প্রচারণা' বলে মন্তব্য করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মনিটরিং করার কথা বলেছেন। ওয়াইসি বলেন, " কেন্দ্রীয় সরকারের দেয়া হলফনামায় বলা হয়েছে- ওরা বৌদ্ধদের উপরে আক্রমণ করতে পারে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ ধরণের কিছু হয়নি এবং ভবিষ্যতেও তা হবে না। এসব লোকের শরীরে কাপড় নেই, তাদের খাবার নেই, তারা কী করবে?" ওয়াইসি বলেন, "সরকার একটি হলফনামায় প্রতিবেশি দেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ, পার্শি এবং বৌদ্ধদের সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিন্তু মুসলিমদের এরমধ্যে শামিল করা হয়নি।" এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের হলফনামা প্রসঙ্গে জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এ ধরণের হুমকির কথা কবে জানা গেছে তা নিয়ে কার্যত প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, জম্মু-কাশ্মিরে এ ধরণের হুমকি ২০১৪ সালের পর হতে পারে। এর আগে ইউনিফায়েড হেড কোয়ার্টারের বৈঠকে এ ধরণের কোনো গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি বলেও ওমর আবদুল্লাহ বলেন। ভারতে ১৯৮০ এবং ১৯৯০ থেকে বাস করা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এতদিন পরে কীভাবে সরকারের সন্দেহ সৃষ্টি হল তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জম্মুতে বাইরে থেকে আসা হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হলেও রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ১৯৯০/১৯৯২সালে  রোহিঙ্গারা এলে তাদের সময় স্বাগত জানানো হয় কিন্তু এখন সরকারি নীতি পাল্টে গেছে যা হওয়া উচিত নয় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ