ঢাকা, বুধবার 20 September 2017, ০৫ আশ্বিন ১৪২8, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ব্যবসায়ীদের সাথে তিন মন্ত্রীর বৈঠক॥ দাম কমার আশ্বাস

 

স্টাফ রিপোর্টার : অবৈধভাবে চাল মজুদের দায়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী নেতা আব্দুর রশিদ ও লায়েক আলীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন সরকারের ৩ মন্ত্রী। বাধ্যতামূলকভাবে পাটের বস্তা ব্যবহারের কারণে চালের দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চাল ব্যবসায়ীরা। বৈঠক শেষে চালের দাম কমার আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

 গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ দুই নেতাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এতে করে বাজারে চালের সরবরাহ আরও কমে যায়।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের ৩ মন্ত্রী বৈঠক করেন। এরা হলেন- বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। এসময় আব্দুর রশিদ বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাস্কিং মিল ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি এবং লায়েক আলী সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, খাদ্য সচিব মোহাম্মদ কায়কোবাদ, খোরশেদ আলম খানও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন- চাল সংরক্ষণ ও পরিবহনে বাধ্যতামূলকভাবে পাটের বস্তা ব্যবহারের কারণে চালের দাম বেড়ে যাচ্ছে। চটের বস্তার কারণে প্রতি কেজিতে এক টাকা খরচ বাড়ে। কিন্তু প্লাস্টিকের বস্তা অনেক সশ্রয়ী। প্লাস্টিকের বস্তায় খরচ হয় মাত্র ১৫/১৬ পয়সা। চটের বস্তা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা স্থগিত করা হয় তবে আমদানিতে প্রতি কেজি চালের দাম দুই টাকা কমবে।

এছাড়াও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ হারে। চাল আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। একই সাথে বন্যার কারণে ধান উৎপাদন কম হওয়াতে চাহিদা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ করা যায় নি। এতে করে বাজারে চালের সরবরাহ কমে গেছে। অথচ এর জন্য সরকার ব্যবসাযীদের দাযী করছে। অথচ ব্যবসাযীরা কোনভাবেই এর জন্য দায়ী হবে না।

পরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এখনই চটের বস্তায় চাল আমদানির সরকারি বাধ্যবাধকতার সিদ্ধান্ত আগামী ৩ মাসের জন্য স্থগিত করা হলো। এখন যে যেভাবে পারেন চাল আমদানি করেন।

তিনি বলেন, বন্যার কারণে সরকারের ধান চাল সংগ্রহ অনেক কম হয়েছে। এছাড়া চাল আমদানির শুল্ক কমানো হয়েছে অনেক দেরিতে। তখন যদি চালের দাম ৩৪ টাকা নির্ধারণ না করে ৪০ টাকা করা হতো তবে আমরা অনেক চাল দিতে পারতাম তাই চাল সঙ্কট কাটাতে সকলকে কাজ করতে হবে।

সম্প্রতি আব্দুর রশিদের কুষ্টিয়া ও নওগাঁয় গুদামে অভিযান চালিয়ে অবেধভাবে চাল মজুতের প্রমাণ পায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। নওগাঁয় অভিযানকালে তার প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 

এ খবর পেয়ে গত রোববার কুষ্টিয়ার এডিসি ও নওগাঁর ডিসি এবং দুই জেলার পুলিশ সুপারকে রশিদ ও লায়েক আলীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রশিদের মতো লোকের কোন আইনে মাত্র ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি অতিরিক্ত চাল মজুদ করে যে অপরাধ করেছেন তাতে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা উচিত ছিল। এ মুহূর্তে আবারও তার গুদামে অভিযান চালান। সেখানে মজুদ করা অতিরিক্ত চাল ও ধান জব্দ করে তাকে গ্রেফতার করুন।

এসময় সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন- আব্দুর রশিদ ও লায়েক আলী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তারা ষড়যন্ত্র করছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যার কারণে সরকারের ধান চাল সংগ্রহ অনেক কম হয়েছে। এছাড়া চাল আমদানির শুল্ক কমানো হয়েছে অনেক দেরিতে। যে কারণে এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে। সঙ্কট কাটাতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। আপনারা (ব্যবসায়ীরা) যেভাবে সম্ভব চাল আমদানি করেন।

বৈঠকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন- চাল সংরক্ষণ ও পরিবহনে বাধ্যতামূলকভাবে পাটের বস্তা ব্যবহারের কারণে চালের দাম বেড়ে যাচ্ছে। চটের বস্তার কারণে প্রতি কেজিতে এক টাকা খরচ বাড়ে। কিন্তু প্লাস্টিকের বস্তা অনেক সাশ্রয়ী। প্লাস্টিকের বস্তায় খরচ হয় মাত্র ১৫/১৬ পয়সা। যদি চটের বস্তা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা স্থগিত করা হয় তবে আমদানিতে প্রতি কেজি চালের দাম দুই টাকা কমবে।

পরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এখনই চটের বস্তায় চাল আমদানির সরকারি বাধ্যবাধকতার সিদ্ধান্ত আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হল। এখন যে যেভাবে পারেন চাল আমদানি করেন। আমরা এনবিআর ও কাস্টমসকে বলে দিচ্ছি। কেউ বাধা দেবে না। প্লাস্টিকের বস্তাসহ ব্যবসায়ীরা যে যেভাবে খুশি চাল পরিবহন করতে পারবেন।

 তোফায়েল আহমেদ বলেন, দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে। ব্যবসায়ীরা বৈঠকে এ আশ্বাস দিয়েছেন। বাধ্যতামূলকভাবে পাটের বস্তা ব্যবহারের কারণে চালের দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের অনুরোধে চালের দাম কমাতে চাল সংরক্ষণ ও পরিবহনে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে ব্যবসায়ীরা যে যেভাবে খুশি চাল পরিবহন করতে পারবেন। এতে প্রতি কেজি চালের দাম ২ টাকা কমে যাবে।

এ সময় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, বৈঠকে চালের দাম, আমদানি সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। খোলাবাজারে চাল বিক্রি কার্যক্রম (ওএমএস) জেলা পর্যায়ে ছিল। এখন সারা দেশে উপজেলা পর্যায়ে চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সারা দেশে ওএমএস’র চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে চালের দাম কমতে শুরু করেছে। এ বৈঠকের পরে চালের দাম আরও কেজিতে দু টাকা কমবে। সরকার ভিয়েতনাম এবং মিয়ানমার থেকে ৩ লাখ টন চাল আমদানি করছে। এতে করে বাজারের আর চালের সংকট থাকবে না। ব্যবসায়ীদের সাথে আমাদের কথা হয়েছে বাজারে তারা চালের সরবরাহ স্বাভিক রাখবে। এতে করে নতুনভাবে আর চালের দাম কমার কোন সম্ভবনা নেই।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চালের দাম বেড়েছে। কিন্তু মিডিয়া যেভাবে দাম বাড়ান সংবাদ প্রচার করছে তা সঠিক নয়। আমরা সারা দেশে খবর নিয়ে দেখিছি। চালের তেমন কোন সংকট নেই। গুজবের কারণেই দাম বেড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ