ঢাকা, বুধবার 20 September 2017, ০৫ আশ্বিন ১৪২8, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মহালয়ায় শুরু দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা

স্টাফ রিপোর্টার : অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে সত্য-সুন্দর প্রতিষ্ঠায় মাতৃত্ব ও শক্তির প্রতীক দেবী দুর্গাকে মহালয়ায় মর্ত্যে আহ্বান জানানোর মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান এ উৎসব উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে মন্ডপে-মন্ডপে চন্ডীপাঠ, মঙ্গলঘট স্থাপন, ঢাক-কাঁসা ও শঙ্খ বাজিয়ে দেবীকে আহ্বান জানালেন ভক্তরা।

হিন্দু শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার প্রাক সন্ধ্যায় অর্থাৎ শুক্লপক্ষের চতুর্দশীতে কাত্যায়নী মুনির কন্যা রূপে মহিষাসুর বধের জন্য দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয় দেবী পক্ষের। এর আগের পক্ষ হল পিতৃপক্ষ। এই পক্ষে ভক্তরা তাদের পূর্বপূরুষের আত্মার প্রীতির জন্য অন্ন-জল নিবেদন করে থাকেন। শাস্ত্রে একে বলা হয় ‘তর্পণ’।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ভোর ৬টায় শুরু হয় মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা। ত্রিভঙ্গচরণ ব্রহ্মচারীর চন্ডীপাঠের সঙ্গে সমবেত কণ্ঠে ইয়াচন্ডী অর্চনা ছিল শুরুতে। তারপর ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দ্বিতীয় পর্বটি শুরু হয় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। এ পর্বে ছিল মহালয়ার মূল আচার-অনুষ্ঠান। ঘট স্থাপনের পর নানা স্তব-স্তুতিতে দেবীকে মর্তে আহ্বান জানানো হয়। 

এদিন সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) প্রাঙ্গণে সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘ আয়োজিত দুর্গাপূজার মহালয়া অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেছেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়েছেন। এ দেশে কোন সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদের স্থান নেই। প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার রয়েছে। অনুষ্ঠানে সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ, সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার মজুমদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সকাল সাড়ে ৫টায় পুরোহিতের মন্ত্র পাঠের মধ্য দিয়ে মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে অসুর কর্তৃক দেবালয় হতে দেবতাদের বিতাড়ন ও দেবী দুর্গার মহাশক্তির আবির্ভাবে অসুরদের বিনাশ সম্পর্কিত অনুষ্ঠান মঞ্চস্থ হয়। এর আগে ভোরে মন্দিরে মন্দিরে ঘট স্থাপন, বিশেষ পূজা সাথে শঙ্খ ধ্বনি ও চন্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে মহালয়ার মাধ্যমে এ মর্ত্যলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

তিথি অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠীতে দুর্গার বোধনের মাধ্যমে শুরু হবে মূল পূজা। ৩০ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বির্সজনের মধ্যে দিয়ে দুর্গোৎসব শেষ হবে। এবার সারা দেশে ৩০ হাজার ৭৭টি মন্ডপে পূজা হবে, যা গতবারের চেয়ে ৭৭৭টি বেশি। গত বছর ২৯ হাজার ৩শ’টি মন্ডপে পূজা হয়েছিল।

 দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুরের ধারাবাহিকতায় কদিন আগেই এক সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পূজায় তারা জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করছেন।

পরে দুর্গোৎসবের আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি নিয়ে এক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবারের দুর্গাপূজায় রাত ৮টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জনের সময় বেঁধে দেন। একইসঙ্গে মন্ডপ ঘিরে বা সড়কে মেলা বসানো নিষিদ্ধ করেন। এ সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশজুড়ে পূজা মন্ডপগুলোতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে এক লাখ ৬৮ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।

এ বিষয়ে জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার পাল জানান, পূজায় নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসনে একাধিক বৈঠক করেছি। তারা সবাই আমাদের আশ্বাস দিচ্ছেন যে, পূজায় কঠোর নিরাপত্তা তারা দেবেন। এছাড়া প্রতি বছরই তো কত শঙ্কা থাকে। আমরা সব শঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে প্রতি বছর ধুমধাম করে পূজা উদযাপন করব।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতেও প্রার্থনা করবেন সনাতন ধর্মাবলম্বরীরা। মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার রায় বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্যও প্রার্থনা করব আমরা। আমরা আর্তি জানাব, তারা যেন নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, তারা যেন তাদের নাগরিকত্ব ফিরে পায়। আগামী শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা দুর্গাপূজার সার্বিক পরিস্থিতি, শারদোৎসবের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান তিনি।

এদিকে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন পূজামন্ডপ এলাকা যানজটমুক্ত রাখতে গতকাল বিকেলে ট্রাফিক উত্তর কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ট্রাফিক উত্তর বিভাগের বিভিন্ন পূজামন্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাথে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে উপ-পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক উত্তর। এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক উত্তরের উপ-পুলিশ কমিশনার প্রবীর কুমার রায়, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-গুলশান) মোহাম্মদ নাজমুল আলম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তরা) রহিমা আক্তার লাকী, মোঃ তোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় পূজামন্ডপ এলাকায় যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় গাড়ি পাকির্ং এর জায়গা রাখা, পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তারক্ষী এবং কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগ করা, গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নির্দেশনামূলক কার্ড ও ব্যানার লাগানো, মন্ডপের আশপাশে কোন ধরনের দোকানপাট না বসানো এবং মন্ডপের আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার জন্য পূজামন্ডপের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ