ঢাকা, বুধবার 20 September 2017, ০৫ আশ্বিন ১৪২8, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলেছিলাম ট্রাম্প সাড়া দেননি-শেখ হাসিনা

 

সংগ্রাম ডেস্ক : রাখাইনের জাতিগত নিধন থেকে বাঁচতে সীমান্ত পেরিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনও সহায়তা পাওয়ার আশা নেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, শরণার্থীদের প্রশ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের কারণেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তিনি সহায়তার আশা করেন না তার কাছে। রয়টার্সকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েক মিনিটের আলাপে তিনি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রসঙ্গটি তুললেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে কোনও আলোচনা করেননি।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রযটার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, গত সোমবার জাতিসংঘে এক বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় শেখ হাসিনা ট্রাম্পকে কয়েক মিনিটের জন্য থামিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ( ডোনাল্ড ট্রাম্প) শুধু জিজ্ঞেস করেছিলেন, বাংলাদেশ কেমন আছে? আমি বলেছিলাম, ভালো, তবে আমাদের একমাত্র সমস্যা মিযানমার থেকে আসা শরণার্থীরা। কিন্তু শরণার্থীদের নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।

 শেখ হাসিনা মন্তব্য করেন, শরণার্থীদের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান পরিষ্কার। সেজন্য রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের বিষয়ে ট্রাম্পের সহায়তা চেয়ে কোনও কাজ হবে না। আমেরিকা ঘোষণা করেছে যে তারা শরণার্থীদের গ্রহণ করবে না। আমি তাঁর কাছ থেকে কী আশা করতে পারি? বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে। তিনি এরই মধ্যে তার মনোভাব প্রকাশ করেছেন। সুতরাং আমি তাকে কেন জিজ্ঞেস করতে যাবো? রযটার্সকে বলছিলেন শেখ হাসিনা।

২০ জানুয়ারি শুক্রবার শরণার্থী কর্মসূচি চার মাসের জন্য স্থগিত করেন ট্রাম্প। তবে সবশরণার্থীর বেলায়, কর্মসূচি স্থগিতের মেয়াদ নির্দিষ্ট ৪ মাস হলেও সিরিয়ার ক্ষেত্রে এই মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের। প্রশাসনের শরণার্থী সীমিতকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট। এই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মুসলিমদের বদলে খ্রিস্টান ও সংখ্যালঘুদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়। চলতি মাসের ১৩ সেপ্টেম্বর য্ক্তুরাষ্ট্রে শরণার্থী নিষেধাজ্ঞা জারি করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুমতি দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ধনী রাষ্ট্র নয়। তবে তারপরেও ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারে। এর বাইরে আরও পাঁচ-সাত লাখ মানুষকেও বাংলাদেশ খাওয়াতে পারবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। ওই সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক চাপের প্রত্যাশা জানান তিনি। হোয়াইট হাউজের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলাপচারিতার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তার দাবি, রোহিঙ্গাদের বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগ্রহী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ