ঢাকা, মঙ্গলবার 20 November 2018, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অভয়নগরের জলাবদ্ধ মানুষের জীবিকা চলছে শামুক কুড়িয়ে

মফিজুর রহমান, অভয়নগর (যশোর) থেকে: যশোর জেলার অভয়নগরের দু:খ খ্যাত ভবদহ পাড়ের জলাবদ্ধ মানুষেরা শামুক কুড়িয়ে জীবন জীবিকা পরিচালনা করছে। বিশেষ করে পুরুষদের পাশাপাশি গৃহবধু ও শিশু শিক্ষার্থীরা এখন শামুক কুড়িয়ে তা বিক্রি করে কোন রকমে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। এ অঞ্চলের কৃষি নির্ভর মানুষগুলো প্রতি-বছর বন্যায় তাদের ফসল ও মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় তারা এখন সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। ফলে সংসারের খরচ যোগাতে ও ছেলে-মেয়ের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে নারীরা প্রতিদিন জলাবদ্ধ এলাকা থেকে শামুক কুড়িয়ে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে চলছে তাদের সংসার। 

সরেজমিনে দেখা যায়, অভয়নগরের ভবদহ পাশের শ্যামকুড় গ্রামের রহিমা বেগম, নাজমা বেগম, সখিনা, সুফিয়া, রোকেয়া, আকলিমাসহ অসংখ্য নারী প্রতিদিন বিল থেকে শামুক কুড়িয়ে বিক্রি করে যা আয় হয় তাই দিয়ে কোন রকমে চলছে তাদের সংসার। এছাড়াও ভবদাহ পাড়ের হাসাডাঙ্গা, নাগোরঘোপ, চাপাকোনা, কুলটিয়া, হাটগাছাসহ বানভাসী কয়েকশ’ পরিবারের সংসারও চলছে শামুক বিক্রি করে। 

গত বৃহস্পতিবার সকালে আমিনপুর গ্রামে গেলে দেখা যায়, পার্শ্ববর্তী বিল থেকে বস্তা ভর্তি শামুক কুড়িয়ে রাস্তার ওপর উঠছে বিভিন্ন বয়সী নারীরা। আর ওইসব কুড়ানো শামুক কেনার জন্য নছিমন-করিমন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শামুক কেনার পাইকাররা। এসময় কথা হয় সখিনা বেগম নামের এক মধ্য বয়সী গৃহবধূর সাথে। তিনি জানান, কি করবো বাবা? ফি বার বন্যায় সব শেষ করে দিচেছ। ছেলে-পুলেদের মুখে দু’মুঠো খাবার দিতে বাধ্য হয়ে বিলের পানিতে নেমে শামুক কুড়োয়ে বিক্রি করি। আর এতে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে চলতেছে আমাগের সংসার। 

রেশমা নামের আরেক গৃহবধূ বলেন, ভোর ও বিকেলে দু’বেলা শামুক কুড়িয়ে কেজি প্রতি ৫ টাকা বিক্রি করে প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড়শ’ টাকা আয় হয়। নারীদের পাশাপাশি বাড়ির পুরুষ সদস্য ছাড়াও স্কুল পড়–য়া ছেলে-মেয়েরাও বাবা-মায়ের সাথে শামুক কুড়াতে যায়। 

এসময় পাশ্ববর্তী শ্যামকুড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া সামিউল, বিলিকিস খাতুন জানায়, ঘরে খাবার নেই-তাই বাধ্য হয়ে বাবা মায়ের সাথে শামুক কুড়াতে যায়। 

শামুক কিনতে আসা ব্যাপারী উজ্জ্বল মন্ডল ও আলমগীর হোসেন বলেন, তাদের কাছ থেকে শামুক কিনে তা খুলনা জেলার বর্ণী, শৈলগাতি, কপালিয়াসহ বিভিন্ন মোকামে তারা বিক্রি করেন। ঘেরের মাছের খাওয়ানোর জন্য শামুক কিনে নেয় মালিকরা। এ থেকে তাদের খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন এক থেকে দুই হাজার টাকা আয় হয়। 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ