ঢাকা, রোববার 24 September 2017, ০৯ আশ্বিন ১৪২8, ০৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সৌদি আরবে সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কঠোর নজরদারি

২৩ সেপ্টেম্বর, দ্য আরাবিয়া টিভি : সৌদি আরবে সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। দেশটির ৮৭তম জাতীয় দিবসে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, সৌদি আরব হচ্ছে স্বচ্ছ রাষ্ট্র। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লক্ষ্য অর্জন করে তার দেশ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। অথচ দিন কয়েক আগে সৌদি আরবে অনলাইন এ্যাপস এর মাধ্যমে কথোপকথনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এখন দেশটির টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিআইটিসি’র মুখপাত্র আদেল আবু হামিদ বলেছেন, এধরনের নজরদারি করা হচ্ছে দেশটির কোনো আইন কেউ ভঙ্গ করছে কি না তা খতিয়ে দেখতে। আরাবিয়া টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, যারা সামাকিজ যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করা হলেও আইন লঙ্ঘন করে এমন সব তথ্য উপাত্ত ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো সৌদি নাগরিক কোনো ধরনের সংস্কারের কথা বললেই তাকে সরকারের কোপানলে পড়তে হয়। তাকে গ্রেফতার করা হয়, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ আনা হয়। চলতি মাকে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে যাদের মধ্যে সৌদির সাবেক বাদশাহ ফাহদের পুত্র, আইনজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি রয়েছেন। এধরনের আটকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নিন্দা জানানোর পাশাপাশি গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে। এর আগে সৌদি আরবের টেলিকম মুখপাত্র নিশ্চয়তা দিয়ে বলেছিলেন, যে কোনো পরিস্থিতিতে নিরীক্ষণ ও সেন্সরশিপ ছাড়াই ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা কোনো ইন্টারনেট এ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এখন বলা হচ্ছে এধরনের ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি ও সেন্সরশিপ অব্যাহত থাকবে। সবধরনের অনলাইন ভয়েস ও ভিডিও কল সার্ভিসগুলো যেমন মাইক্রোসফট স্কাইপে, ফেসবুকের হোয়াটস এ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার, রাকুটেনস ভাইবার নজরদারির মধ্যেই থাকছে। যদিও এসব এ্যাপ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী সংগ্রহ করেছিল কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার ম্যাসেঞ্জার ও ভাইবার ব্লক করে দেওয়া হয়।এসব এ্যাপ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নাকি সৌদি সরকার নজরদারি করছে তা জানতে চাওয়া হলে টেলিকম মুখপাত্র জানান, সৌদি আরবে অভ্যন্তরে কিংবা দেশটির বাইরে থেকে যে কোনো এ্যাপ ব্যবহারকারী সৌদি তথ্যপ্রযুক্তি কমিশনের নিরীক্ষণ ও সেন্সরশিপ ছাড়া তা ব্যবহার করতে পারবেন না। ২০১৩ সাল থেকে ইন্টারনেট ভিত্তিক যোগাযোগের ওপর ব্লক আরোপ করে দেশটি। সৌদি আরবের সঙ্গে তার মিত্র দেশগুলো মনে করে এসব এ্যাপ এ্যাক্টিভিস্ট বা সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করতে পারে। ২০১১ সালে বাহরাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে সংস্কার ও বেশকিছু দাবি দাওয়া প্রবল হয়ে উঠলে তাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ নেমে আসে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর পড়ে যাওয়ার পর সৌদি আরবের অর্থনীতিতে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং দেশটির সরকার এ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে এবং অর্থনীতিতে আরো বৈচিত্র আনতে ইন্টারনেটের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। দেশটিতে সৌদি টেলিফোন কোম্পানি, ইতিহাদ ইতিসালাত ও জাইন সৌদি নামে তিনটি টেলিকম প্রতিষ্ঠান প্রধান ৩টি অপারেটর হিসেবে আন্তর্জাতিক ফোনকলগুলো পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। দেশটিতে বেশ কয়েক মিলিয়ন বিদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ