ঢাকা,বৃহস্পতিবার 15 November 2018, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কুড়িগ্রামের নদীগুলো যেন এখন গলার কাঁটা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: দেশের সবচেয়ে বেশি নদীবহুল জেলা কুড়িগ্রাম। তাইতো এখানে গড়ে উঠেছে নদী কেন্দ্রিক জীবন-জীবিকা-যোগাযোগ ব্যবস্থা। এগুলোকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। পরিবেশ-প্রতিবেশ-জীববৈচিত্রের ভারসাম্য। ফলে নদীগুলো হয়ে উঠেছিল আর্শিবাদ। কিন্তু শুধু অবহেলার কারণে নাব্যতা সংকট, বন্যার ভয়াবহতা এবং ভাঙন বেড়ে যাওয়ার এখন পরিণত হয়েছে।  

কুড়িগ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার, গঙ্গাধর, কালজানী, নীলকুমর, সংকোশ, ফুলকুমার, শিয়ালদহ, বোয়ালমারী, ধরণী, হলহলিয়া, সোনাভরি, জিঞ্জিরাম ও জালছিড়া-এই ১৬ নদ-নদী।

প্রতিবছর পলি এবং বালি পড়ে এই নদ-নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে অপরিকল্পিতভাবে স্লুইস গেট, রাস্তা ও ব্রীজ-কালভার্ট নির্মিত হওয়ায় শাখা নদী-উপনদী এবং সংযোগ খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন সংকুচিত হয়ে পড়েছে। নদী-খালগুলো খনন করা হয়নি কখনও। শুষ্ক মৌসুমে পানি শূন্য হয়ে পড়ছে। আর বর্ষায় উজানের ঢল আর বৃষ্টির পানি দুই কুল ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। এতে বেড়েছে বন্যার ভয়াবহতা। বেড়েছে ভাঙন। ফলে বন্যার সাথে সহবস্থানের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের হলেও জেলার সাড়ে তিন শতাধিক দ্বীপচর এবং আট শতাধিক নদী তীরবর্তী চর গ্রামে বসবাসকারী নয় লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। জীবন-জীবিকায় নেমে এসেছে অবর্ণনীয় কষ্ট।

তিস্তা নদীর পাড়ে এক বাসিন্দা বলেন, আমরা নদী দিয়ে বাঁচি। আবার নদী ভাঙনে আমার সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। আবার কোন সময়ে নদীতে পানি থাকে না। নদীতে মাছ মারতে পারিনা।

মরা নদীসহ খালগুলো খননের জন্য আন্দোলন করলেও এখন পর্যন্ত কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করনে রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণ-কমিটির প্রধান সমম্বনয়ক নাহিদ হাসান নলেজ।

তিনি আরো বলেন,পদক্ষেপ না নেওয়ায় কারণে নদীগুলো এখন অভিশাপে রূপান্তরিত হয়েছে।

রিভারাইন পিপলের সিনেটর ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন 'অতি বন্যা,অল্প বৃষ্টি থেকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেতে আমাদের এই নদীগুলো যন্ত নেওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই।'

পানি উন্নয় বোর্ডে (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো.শফিকুল ইসলাম বলেন,'দখল ও দুষণমুক্ত করে নদ-নদীর নাব্যতা ফেরাতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।'

জেলা প্রশাসক ও কুড়িগ্রামের জেলা নদী রক্ষা কমিটি সভাপতি আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান  বলেন, কোন জায়গা সীমানা জটিলতা থাকে সেটা আমরা সমাধানে চেষ্টা করবো। এবং প্রতিনিয়ত সেটা দেখা-শুনা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এবারের স্মরণকারের ভয়াবহ বন্যায় জেলার আট শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি ছিলেন ৫ লক্ষাধিক মানুষ। বাড়িঘর কমবেশি নষ্ট হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার। আর এ মৌসুমে নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে চার হাজার ২০৫টি পরিবারের ভিটেমাটি।-সময় টিভি নিউজ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ