ঢাকা, সোমবার 25 September 2017, ১০ আশ্বিন ১৪২8, ০৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে বিএনপির প্রতি বিশিষ্টজনদের আহবান

গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের উদ্যোগে বিদেশী কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে ‘মিয়ানমারে গণহত্যা এবং বাংলাদেশের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

# রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে গণহত্যা চালাচ্ছে মিয়ানমার সরকার ---মির্জা ফখরুল

# প্রধানমন্ত্রীর ‘সেফ জোন’ প্রস্তাব ষড়যন্ত্রের অংশ ---ড. খন্দকার মোশাররফ

# বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান পরিষ্কার নয় ---আমির খসরু

# সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক ফোরামের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে ---মান্না

# মিয়ানমারের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে শক্তি দেখাতে হবে ---ড. আসিফ নজরুল

স্টাফ রিপোর্টার: মিয়ানমারের রাখাইন থেকে নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতিসংঘে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ সেফ জোন’ বা নিরাপদ এলাকার প্রস্তাবকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীরপ্রস্তাব স্পষ্ট নয় দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে দলটি। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর লেকশো’র হোটেলে আয়োজিত ‘মিয়ানমারে গণহত্যা ও বাংলাদেশের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে দলের সিনিয়র নেতারা একথা বলেন। বিএনপি আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ দেশী-বিদেশী কূটনৈতিক এবং বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন। এদিকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, পুরো জাতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নিজেরা ঐক্য না করলেও সারাদেশের মানুষ এই ইস্যুতে এক। বিএনপির উচিত তাদের নিজেদেরই একটি কমিটি করে সারা পৃথিবীতে মুভ করা। কফি আনান রিপোর্টটি সারাবিশ্বে তুলে ধরা। বক্তারা বলেন, মিয়ানমারকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদেও নিজ দেশে সম্মানের সাথে ফেরত নিতে হবে। তাদেও নাগরিকত্ব প্রদানসহ সকল সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। কেউকেউ বলেন, মিয়ানমারের সাথে যুদ্ধ নয়, তাদের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে শক্তি দেখাতে হবে। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে দলের নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী,লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আবদুস সালাম, এম মোরশেদ খান, নিতাই রায় চৌধুরী, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আবদুস সালাম, আবদুল হালিম, গোলাম আকবর খন্দকার, ইসমাইল জবিউল্লাহ, আবদুল কাইয়ুম, নাজমুল হক নান্নু, মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আসাদুজ্জামান রিপন, শ্যামা ওবায়েদ, সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ, আসাদুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সদরুল আমিন, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার, বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান সরোয়ার, ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন। সেমিনার সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ।

 সেমিনারে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সৌদিআরব, ব্রিটেন, জাপান, কুয়েত, ইরান, ফ্রান্স, পাকিস্তান, সুইজারল্যান্ড, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ ও নেদারল্যান্ডসহ মোট ১২টি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকরা অংশ নেন। তবে এতে চীন, ভারত এবং রাশিয়ার কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। 

নাগরিক প্রতিনিধিদের মধ্যে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব হেমায়েত উদ্দিন আহমেদ, সাবেক সচিব মোফাজ্জল করীম, খান মো. ইব্রাহিম, সাবেক রাষ্ট্রদূত ইফতেখারুল করীম, মাহমুদ হাসান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাসান তালুকদার, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাইদুজ্জামান প্রমুখ রোহিঙ্গা পরিস্থিতির ওপর তাদের পর্যবেক্ষন তুলে ধরেন।

এই গোলটেবিল আলোচনায় ‘ জেনোসাইডস ইন মিয়ানমার এন্ড দ্য রোল অব বাংলাদেশ’ প্রবন্ধের মাধ্যম রাখাইনের রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম গণহত্যা পরিস্থিতি ও করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরেন প্রবন্ধকার সাবেক রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলাম।

 সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ রোহিঙ্গা ইস্যুতে চারটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এগুলো হলো, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ঐক্যের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরানোর জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের সসম্মানে ফিরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি তাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া বিএনপি সরকারের অভিজ্ঞতা অর্থাৎ ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান ও ১৯৯২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ‘রিপার্টিশনে এগ্রিমেন্ট’ এর আলোকে রোহিঙ্গাদের বর্তমান সমস্যা সমাধান করতে হবে। 

খন্দকার মোশাররফ বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে বিএনপির জাতীয় ঐক্যের আহ্বানকে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাখ্যান করা দুখঃজনক। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হলে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। এজন্য জাতীয় ঐক্যের দরকার। বিএনপি এই বিষয়ে অভিজ্ঞ। কারণ জিয়াউর রহমান (৭৮ সালে) ও খালেদা জিয়ার সময়েও (২০০৫ সালে) রোহিঙ্গাদের অনপ্রবেশ ঘটেছিল। তখন তাদের ফেরত পাঠিয়ে নাগরিকত্ব দিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই দায়বদ্ধতা থেকে বিএনপি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে।

জাতীয় ঐক্যের ডাকে সাড়া না দিয়ে ক্ষমতাসীনরা দলীয় রাজনীতি করতে চাচ্ছে বলেও মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, তারা মিয়ানমারে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিষদ গুরুত্ব দিয়ে এখনও রেজুলেশন নিতে পারেনি। আশা করি, তারা এমন পদক্ষেপ নেবে যাতে মানবিক বিপর্যয় সমাধান হয়।

বিএনপি নেতা ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ১৯৭৮, ৯৩ ও ২০০৫ সালেও এই সংকট দেখেছি। আন্তর্জাতিক চাপ দিয়ে বার্মিজ সরকারকে বোঝাতে হবে রোহিঙ্গারা যতই ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা হোক না কেন তাদের নির্মূল করা যাবে না। এটা করা গেলে অনেকাংশে সংকট কমে যাবে। সেফ জোনের কথা বলে ছাড় দিলে চলবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,এই ধরনের জাতীয় ইস্যুতে সরকার জাতীয় ও বিশ্বকে একত্রিত করলেও এখন উল্টো আমাদের, সরকারকে একত্রিত করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার এখন কোন অবস্থানে আছে সেটি পরিষ্কার নয়। লোক দেখানোর কারণে সরকার অবস্থান নিয়েছে। ‘ সেফ জোন’ প্রস্তাবের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ সেফ জোন কোথাও কখনও কাজ করে না। কোনো দেশেই কাজ করেনি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত-চীন-রাশিয়ার বিতর্কিত ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করে খসরু বলেন, এই অঞ্চলের যারা বড় শক্তি তারা এক্সক্লুসিভ জাতির পক্ষে কাজ করছেন। যদি ক্ষমতাধররা এই কাজ করেন তবে ভবিষ্যতে ভয়াবহ অবস্থা হবে। এটি শুধু মিয়ানমারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। মিয়ানমারের সঙ্গে হওয়া আগের চুক্তিগুলো ভিত্তি ধরে কাজ শুরু করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না রোহিঙ্গা সংকট ক্রমেই বাড়ছে উল্লেখ করে সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয় সরকার ও আন্তর্জাতিক ফোরামের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে বিভিন্ন কর্মসূচি দেয়ার আহ্বান জানান। মান্না বলেন, রোহিঙ্গার ক্রাইসিসটা বাড়ছে। মানিকগঞ্জে কয়েকজন রোহিঙ্গা ধরা পড়েছে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে তারা ছড়িয়ে গেছে। এই অবস্থায় সরকারকে বলতে হবে হয় সকলকে ডাকো আমি মনে করি সংকটের সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয় সরকার ও আন্তর্জাতিক ফোরামের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বাংলাদেশে প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির পলিটিক্যাল প্রোগ্রাম নেয়া উচিৎ।

মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধ নয়, তবে দেশটিকে আমাদের শক্তি দেখাতে হবে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, মন্ত্রীরা বলেছেন আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধ করবো? মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধ নয়, কিন্তু তাদের বিমান এলে, গুলী করে দেখাতে হবে যে, আমরাও ক্ষমতা রাখি। রাষ্ট্রের যদি সরকার না থাকে তবে রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর কী দরকার? প্রতিবাদ করবো না? আমরা যদি এতো ভীত হয়ে থাকি তবে তো সবাই পেয়ে বসবে। আজকে মিয়ানমার করছে পরে অন্যরাও করবে। দেশটা সরকারের না জনগণের।

আসিফ নজরুল বলেন, রোহিঙ্গা গণহত্যার সমাধান করতে হবে, রোহিঙ্গাদের বৈধ নাগরিকত্ব ফেরত দিতে হবে এবং তাদের অধিকার দিতে হবে, বাংলাদেশ সরকারকেও কাজ করতে হবে, বৈশ্বিকভাবে রাষ্ট্রের শক্তি দেখাতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, বিভিন্ন সময়ে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের সবার সঙ্গে সরকারের কথা বলা উচিত। এই সরকার ত্রাণে বাধা দিচ্ছে, বিশ্ব জানছে যে এই সরকার একা চলতে ভালোবাসে। নিজস্ব শক্তি দেখাতে হলে আগের আমলে যে চুক্তি তা থেকে সরে দাঁড়ালে সমস্যার সমাধান হবে না। মিয়ানমার যদি রোহিঙ্গাদের ফেরত না চায় বাংলাদেশের উচিত রাইট টু সেলফ নিয়ে শক্তি দেখানো, কাকুতি মিনতি করলে কেউ ফিরেও তাকাবে না। ভুলে গেলে চলবে না যে এটা একটা মারাত্মক ইস্যু, এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বৈশ্বিক সমস্যা।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, পুরো জাতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নিজেরা ঐক্য না করলেও সারাদেশের মানুষ এই ইস্যুতে এক। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বিশেষ করে নারী এবং শিশুরা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় আছে। ৫-১০ বছরের শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় রয়েছে। এলিনা বলেন, এই অবস্থায় একটি দল হিসেবে বিএনপির উচিত তাদের নিজেদেরই একটি কমিটি করে সারা পৃথিবীতে মুভ করা। কফি আনান রিপোর্টটি সারাবিশ্বে তুলে ধরা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা একটা বৃহৎ ভয়াবহ সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে অবশ্যই সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। 

 রোহিঙ্গা ইস্যুতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ঐক্যমতে আসতে হবে বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী।

 সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে গণহত্যা চালাচ্ছে। সমগ্র বিশ্ব সোচ্চার হলেও বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা এখনও দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছে। সেমিনারের মূল বিষয় হচ্ছে জনসমর্থন তৈরি করা।

মির্জা ফখরুল মিয়ানমারে গণহত্যা চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাদের দ্বিধান্বিত ও বিলম্বিত প্রতিক্রিয়ার কারণে। এটি জাতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই মানবিক বিপর্যয়ের জন্য মিয়ানমার সরকার দায়ী। তারা রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক গণআদালত মিয়ানমার সেনাপ্রধান ও অং সাং সু চিকে অভিযুক্ত করেছে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিলো তার অনুসরণ করে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, অবশ্যই মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে, তাদের নাগরিকত্ব দিয়ে সসম্মানে ফিরে নিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ