ঢাকা, সোমবার 25 September 2017, ১০ আশ্বিন ১৪২8, ০৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মানবতার দুর্দিনে খুব বেশি দরকার কবি নজরুল ইসলামকে -মুস্তাফা জামান আব্বাসী

বাংলাদেশ কালচালার একাডেমির উদ্যোগে মানবতা ও নির্যাতিতের কবি নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা লোকসঙ্গীতের জীবন্ত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী। 

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি বিশিষ্ট মিডিয়াব্যক্তিত্ব শরীফ বায়জীদ মাহমুদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক শেখ দরবার আলম, নজরুল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মিন্টু রহমান, আয়োজক সংগঠনের সেক্রেটারি আবেদুর রহমান।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মুস্তাফা জামান আব্বাসী বলেন, জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম ছিলেন নির্যাতিতের কবি, মানবতার কবি। যে মানবতা আজ ভূলণ্ঠিত। বাংলাদেশের দক্ষিণে মিয়ানমারে মানবতা আজ ভূলন্ঠিত হয়েছে। শুধু মুসলমান নয় হিন্দুরাও আজ সেখানে নির্যাতিত হচ্ছে। মানবতা কাঁদছে। মানবতার এই দুর্দিনে খুব বেশি দরকার কবি নজরুল ইসলামকে। শেষ দরবার আলম বলেন, কবি নজরুলের সবচেয়ে বড়ো পরিচয় তিনি সাম্য ও সহাবস্থানের কবি। তিনি জাতীয়তাবদী ছিলেন না, অর্থাৎ কোনো জনগোষ্ঠীতে প্রতিপক্ষ বা শত্রু হিসেবে দেখেন নি। সেদিক দিয়ে বাংলা ভাষাভাষি বড়ো কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে কবি নজরুল অনন্য কারণ, আমাদের প্রতিবেশি দেশের বড়ো সাহিত্যিকরা সবাই জাতীয়তাবাদী। তারা উপমহাদেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেছেন। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, শরৎচন্দ্র চট্টপ্যাধায়, ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু কবি নজরুল কোনো ধর্মের, কোনো বর্ণের মানুষকে, কোনো ভাষাভাষি মানুষকে শত্রু হিসেবে বা প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেননি। মিন্টু রহমান বলেন, নজরুল ইসলাম অসাম্প্রদায়িক কবি ছিলেন। তিনি মনে প্রাণে একজন ইসলাম প্রিয় কবি ছিলেন। কবি নজরুল হলেন মহাবিশ্বের এক মহাবিষ্ময় মহাকবি।

সভাপতির বক্তব্যে শরীফ বায়জীদ মাহমুদ বলেন, কবি নজরুল ইসলাম আজ বেঁচে থাকলে নির্যাতিত মানুষেরা পেতো সত্যিকারের দিশা, আশা-আকাঙ্খা ও প্রতিবাদের ভাষা, বেঁচে থাকার সাহস ও প্রেরণা।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শিশুকিশোরদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ