ঢাকা, সোমবার 25 September 2017, ১০ আশ্বিন ১৪২8, ০৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ১১৬ মিলে ধান সংকট

খুলনা অফিস : গত এক সপ্তাহ ধরে খুলনার ১১৬টি রাইস মিলে গড়ে ৭৫ শতাংশ ধান সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী রাইস মিলগুলো চাল সরবরাহ করতে পারছে না। তারপরও সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মিল মালিকরা চালের দাম কমিয়েছে। একই সাথে ধানের বাজারে মণপ্রতি ৭০ টাকা করে দাম কমেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে খুলনার পাইকারী বাজারে ৪১ থেকে ৪২ টাকা এবং খুচরা বাজারে মোটা চাল ৪৪ টাকা দরে কেনা যাবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবারে খুলনা জেলায় ৫০ হাজার ৬শ’ হেক্টর বোরো ধানের আবাদে দুই লাখ ২০ হাজার ১৮৬ মেট্রিকটন, ২০১৫ সালে ৫১ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে দুই লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন হয়।

সূত্র আরো জানায়, বটিয়াঘাটা উপজেলার বিরাট, বারোআড়িয়া, সুকদাড়া, ঝালবাড়ি, কাতিয়ানাংলা হাটে কাঙ্খিত চালের আমদানি নেই। গাওঘরা এলাকার অটোরাইস মিলে প্রতিদিন পাঁচশ’ বস্তা ধান ভাঙ্গানো হচ্ছে। এখানে ইরি চাল ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আগস্টের প্রথম দিকে প্রতি কেজির মূল্য ছিল ৪৭ টাকা। ডুমুরিয়া উপচেলার চুকনগরে ২৯টি রাইস মিলে প্রতিদিন গড়ে দুইশ’ মণ করে ধান ভাঙ্গানো হচ্ছে। চাহিদা অনেক বেশি। স্থানীয় বাজারে চালের সংকট নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না। এখানকার অটোমেটিক রাইস মিলগুলোতে সপ্তাহে তিনশ’ মণ চাল উৎপাদন হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ী দেবাস চন্দ্র রায় জানান, শনিবার প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৩ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

বটিয়াঘাটা উপজেলার কৈয়া বাজারের ফড়িয়া শেখ রওশন আলী জানান, রাণি সেলুট জাতের ধান গত সপ্তাহে মণপ্রতি এক হাজার ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও গত বুধবারের হাটে ১৮শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ইরি-২৮ জাতের ধান মণপ্রতি সাড়ে ১২শ’ টাকার স্থলে ১২শ’ ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। একই উপজেলার জয়খালি গ্রামের চাষি কালিদাস মল্লিক জানান, পূজার কেনা কাটার কারণে শনিবার আমদানি একটু বেশি ছিল। কৃষকের ঘরে চাহিদা অনুযায়ী ধানের মজুদ নেই। আগামী সপ্তাহ নাগাদ এ অঞ্চলের হাটগুলোতে ধানের সংকট দেখা দেবে। খুলনা জেলা রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি মুহা. মোস্তফা কামাল বলেন, চাহিদা অনুযায়ী রূপসা, ফুলতলা, বটিয়াঘাটা ও লবণচরার রাইস মিলগুলোতে ধানের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম। তার মালিকানাধীন আরাফাত অটো রাইস মিলে প্রতিদিন দুই হাজার মণের ধানের চাহিদা থাকলেও ৫শ’ মণের বেশি ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ অঞ্চলের গৃহস্থের ঘরে উল্লেখযোগ্য মজুদ নেই। তারপরও সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে চালের দাম কেজি প্রতি ২ টাকা করে কমানো হয়েছে। তিনি বলেন, হীরা জাতের ধান এক সপ্তাহ আগে মণপ্রতি ১ হাজার ৯০ টাকা হলেও শুক্রবার ১ হাজার ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ অঞ্চলে আতপ চালের চাহিদা বেশি। সে কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। স্থানীয় বাজারের সংকট মেটাতে আমদানিকারকরা বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে চাল আমদানি করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ