ঢাকা, সোমবার 25 September 2017, ১০ আশ্বিন ১৪২8, ০৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কীটনাশকের নাশকতা

প্রকৌশলী এস এম ফজলে আলী : গোটা দুনিয়াজুড়ে কীটপতঙ্গের বসতি ঘরে-বাইরে আমাদের খুব কাছাকাছি যেমন ওদের আনাগোনা আবার তেমনি দূরের ঘন অরণ্যে, পাহাড়ে-পর্বতে ও সাগরের গভীরেও ওদের দেখা যায়। মাটি চষে বেড়ায় যে কেঁচো; আর ধান বা পাটের ক্ষেতে লাফিয়ে চলে যে ফড়িং, সে সবই কীটপতঙ্গের দলে।
বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, জীবজগতে প্রায় ৭০ লাখ জাতের কীটপতঙ্গ বসবাস করছে। অন্যকথায়, দুনিয়ার বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে ৮০ শতাংশই হচ্ছে কীটপতঙ্গ। আর এদের মধ্যে চেনাজানা প্রজাতির সংখ্যা হচ্ছে প্রায় ৬০ লাখ। বিজ্ঞানীরা এদের এক একটির নামও দিয়েছেন।
কীট ও পতঙ্গ- এ দু’টি শব্দ একসঙ্গে জুড়ে দিয়ে কীটপতঙ্গ শব্দটি তৈরি হয়। কিন্তু তা হলেও এ দু’টি এক ধরনের প্রাণী নয়। বেশির ভাগ কীট বুকে ভর দিয়ে চলে। এরা ফসলের নরম কা- ও কচি পাতা চিবিয়ে খায়। অপরদিকে বেশির ভাগ পতঙ্গই উড়তে পারে। দুই জোড়া করে পাখায় ভর করে ওরা উড়ে বেড়ায়। সাধারণত পতঙ্গের গায়ের রঙ হয় উজ্জ্বল। যেসব প্রাণী পতঙ্গ খায় তাদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়ার জন্যই পতঙ্গের এই বাহারি রঙ। পতঙ্গের থাকে ছয়টি করে পা এবং তাদের দেহের বাইরের দিকের অংশটি থাকে শক্ত খোলসে ঢাকা।
কীটপতঙ্গ প্রকৃতির সম্পদ। এরা আমাদের প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন প্রতিবেশে যে ‘খাদ্য শৃঙ্খল’ থাকে তাতে এদের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাঠঠোকরা, শালিক, ফিঙে এসব পাখি পতঙ্গ ধরে খায়। জীবজগতে মানুষের জন্য উপকারী ও অপকারী, দুই ধরনেরই কীটপতঙ্গ রয়েছে। উপকারী কীটপতঙ্গ সাহায্য করে পরাগায়ণে এবং প্রকৃতির নানা সম্পদের পুনঃচক্রায়ণে। কীটপতঙ্গ যখন ফুল থেকে ফুলে ওড়াউড়ি করে তখন তারা তাদের নিজের অজান্তে পরাগায়ণের কাজটি করে যায়। আবার মরে যাওয়া গাছ, ঝরে পড়া পাতা, ফুল-ফল আবারও মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে মাটির পুষ্টি ফিরিয়ে দিতেও সাহায্য করে কীটপতঙ্গ। কোনো কোনো মানুষের জন্য খাদ্য ও বসতি তৈরির কাজেও সাহায্য করে ওরা। মৌমাছি গড়ে তোলে মৌচাক; আর প্রবাল কীটগুলো মরে গিয়ে প্রবালদ্বীপ হয়ে জেগে ওঠে সাগরের বুকে। সেখানে বসতি গড়ে তোলে অগুনতি মানুষ। অপরদিকে অপকারী পোকা ফুল-ফল, সবজি বাগান ও ফসলের ক্ষেতের জন্য বিপদ ডেকে আনে। এরা প্রকৃতির সাজানো বাগান আর মানুষের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা ফসলের মাঠকে বিরান করে দিতে পারে। পঙ্গপালের আক্রমণে  একটা গোটা দেশের ফসলকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এরা শুধু ফসলের ক্ষতিই করে না তাদের মধ্যে নানা রোগও ছড়িয়ে দেয়। মশা-মাছি, ছারপোকা- এরা এসব বহন করে নানা রোগজীবাণু।
কোনো কোনো কীটপতঙ্গ শুধু ধানক্ষেতে আক্রমণ করে এবং এরা পাটক্ষেতে আক্রমণ করে না। এক বছরে একই জমিতে বিভিন্ন প্রকারের তিনটি ফসল করলে যেমন- ধান, পাট ও রবিশস্য তাতে পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে ফসল মুক্ত থাকে। কিন্তু একই জমিতে বছরে তিনবার ইরি ধান চাষ করলে কীটপতঙ্গ বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ পায় এবং ফসল নষ্ট করে দেয়।
আঠারো শতকের মাঝামাঝি থেকে মানুষ ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। তারা দেখল, কীটপতঙ্গের আক্রমণের মুখে তাদের ফসল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ফলে এসব কীটপতঙ্গ দমনে নানা উপায় খুঁজতে শুরু করে। শুরুতে তারা এ কাজের জন্য ব্যবহার করতে থাকে নানা প্রাকৃতিক উপাদান। উপাদান গুলোর মধ্যে রয়েছে- গবাদিপশুর চোনা, তামাকপাতা এবং চন্দ্রমল্লিকা ফুলের রস। কোনো কোনো উদ্ভিদের পাতা, মূল ও ফুলের রস নিংড়ে নিয়েও ফসলের ক্ষেতে ছিটিয়ে দেয়া হতো। এসব পাতা, ফুলের বা মূলের রস জমিতে বসবাসকারী অন্যান্য প্রাণীর কোনো ক্ষতি করত না।
কীটনাশক বলতে আজকাল কেবল রাসায়নিক কীটনাশককে বোঝায়। ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমন করার প্রয়োজনেই উদ্ভাবিত হয়েছে কীটনাশক পেস্টিসাইড বা ইনসেকটিসাইড - এ দু’টি ইংরেজি শব্দ বোঝাতে আমরা কীটনাশক শব্দটি ব্যবহার করি। পেস্টিসাইড কীটপতঙ্গের দেহে কাজ করে দুইভাবে। ‘কীটনাশক’ ছড়ানোর পর তা গাছের কাণ্ডে ও পাতায় লেগে থাকে। বেশি সময় ধরে এটি কাজ করে। কতিপয় কীটপতঙ্গ সেসব গাছের কাণ্ড বা পাতার রস চুষে খায়। তখন কীটনাশকের সূক্ষ্ম কণাগুলো তার দেহে প্রবেশ করে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এতে করে সেসব কীটপতঙ্গ মারা যায়। যেসব কীটপতঙ্গ গাছের কাণ্ড বা পাতা কামড়ায় না কিন্তু সংস্পর্শে আসে, তাদের লোমকূপের মধ্য দিয়ে কীটনাশক ঢুকে পড়ে; ফলে পতঙ্গগুলো মারা পড়ে। রাসায়নিক কীটনাশক দীর্ঘ সময় কাজ করে বলেই পোকাগুলোর বারবার আক্রমণের মুখেও গাছ বা ফসলকে রক্ষা করা যায়।
কীটনাশক তৈরি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটে ঊনিশ শতকের প্রথমভাগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। বস্তুত এ সময় ডিডিটি ও বিএইচসি নামে দু’টি রাসায়নিক কীটনাশকই বিস্ময় সৃষ্টি করে সারা বিশ্বজুড়ে। ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমনে এ দু’টি কীটনাশক অবিশ্বাস্য রকমের ফলদায়ক। আর তাতে রক্ষা পায় বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, ফুল ও ফলের বাগান। কেবল তাই নয়, ঘাতক মশা-মাছির হাত থেকেও রক্ষা পায় মানুষ। এতে প্রতিহত হয় ম্যালেরিয়ার বিস্তার।
কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই ডিডিটি ও বিএইচসি গোটা প্রাণিজগতের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিলো। এসব কীটনাশকের বিষে কেবল অপকারী কীটপতঙ্গই মরেনি, মরেছে অগণিত উপকারী কীটপতঙ্গ। সেই সঙ্গে কীটনাশকের বিষে মরা কীটপতঙ্গ খেয়ে মরেছে পাখিরা। ধান, পাট ও গমের ক্ষেতে ছিটানো কীটনাশকের বিষবৃষ্টি, সেচ ও বানের পানিতে পুকুরে আর সব জায়গায় গিয়ে পড়েছে, ফলে মরছে মাছ। আর সেসব মাছ খেয়ে মানুষ ভুগেছে নানা জটিল রোগে।
ডিডিটি ব্যবহার শুরু হওয়ার ২০ বছরের মধ্যেই পরিবেশের জন্য এটি মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দেয়। তার প্রতিক্রিয়া সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। প্রবল জনমত গড়ে ওঠে ডিডিটি ব্যবহারের বিরুদ্ধে। ডিডিটির বিষক্রিয়া কমপক্ষে ১৫ বছর কার্যকর থাকে। জমিতে বসবাসকারী, উপকারী ব্যাকটেরিয়া থেকে কেঁচো পর্যন্ত অনেক জীবই এর বিষক্রিয়ায় মারা যায়। তারপর বৃষ্টির পানিতে ডিডিটি ভেসে যায় পুকুর, জলাশয়, নদী ও সমুদ্রে। গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রের মাছের মধ্যে পদ্মার ইলিশের দেহে ডিডিটির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, রূপচাঁদায় সবচেয়ে কম (যেহেতু এটি সম্পূর্ণরূপেই সমুদ্রের মাছ)। এছাড়া ডিডিটি সংক্রমিত মাছ খাওয়ায় মাছমোড়াল, পানকৌড়ি প্রভৃৃতি পাখির বংশবিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। বাজ, শকুন, চিল প্রভৃতি শিকারী পাখির সংখ্যাও দ্রুত কমে যাচ্ছে। এসব পাখি পাকা ফসল ধ্বংসকারী ইঁদুর, খরগোশ, কাঠবিড়ালি প্রভৃতি ছোট ছোট প্রাণী খেয়ে ফসল রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
ডিডিটির মারাত্মক ক্ষতির কারণে ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র এর ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সব রকমের রাসায়নিক কীটনাশকই আসলে বিষ। এই বিষে কীটপতঙ্গ থেকে শুরু করে মাছ, ব্যাঙ, পানি প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; তেমনি মানুষও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। চাষিরা ক্ষেতে যে কীটনাশক ছিটায়, তার বিষক্রিয়া শেষ (নষ্ট) হওয়ার আগেই অনেক সময় তারা ফসল ঘরে তুলে আনে। শাকসবজির বেলায় এমনটি প্রায়ই ঘটে। ফলে বিষক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে তুলে আনা এসব শাকসবজিতে বিষ থেকেই যায়। ফলে এসব শাকসবজি খাওয়ায় মানুষ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়।
চিকিৎসকদের ধারণা, সাম্প্রতিককালে হৃদরোগ, কিডনির নানা রোগ, ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগ বেড়ে যাওয়ার কারণ কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব আছে। তারা হিসাব করে দেখেছেন, কীটনাশকের বিষে প্রতি বছর দুনিয়ায় কমপক্ষে দুই লাখ লোক প্রাণ হারাচ্ছে এবং ৯০ লাখ লোক নানা রোগের শিকার হচ্ছে।
বাংলাদেশে কীটনাশকের ব্যবহার শুরু হয় বিশশতকের মাঝামাঝি সময় থেকে। তখন বছরে মাত্র তিন টন কীটনাশক আমদানি হতো। এখন সেখানে প্রতি বছর প্রায় ৮ হাজার মে.টন কীটনাশক আমদানি করা হচ্ছে। কী ভয়াবহ চিত্র! পৃথিবীতে এ পর্যন্ত ১৬ ধরনের কীটনাশককে অত্যন্ত বিষাক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিডিটি, বিএইচসি অন্যতম। বাংলাদেশে এসব কীটনাশক নিষিদ্ধ হলেও ব্যবহার বন্ধ হয়নি। এ ব্যাপারে আইনের কোনো কড়াকড়িও দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কেঁচো, মাছ, পাখি, ব্যাঙ প্রভৃতি উপকারী প্রাণী। আর পরোক্ষভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে মানুষ। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গোটা পরিবেশ। ফসলের ক্ষতিকর কীটনাশক দমন ছাড়াও শুঁটকি মাছের পোকা মারার জন্যও ডিডিটি ব্যবহার হচ্ছে। ফলে এসব শুঁটকি জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
বাংলাদেশে ১৯৮০ ও ১৯৮৫ সালে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য দু’টি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু এ দু’টি আইনে সব প্রয়োজনীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পর্কে এ আইনে কোনো বিধান রাখা হয়নি। বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার (ফাও) কীটনাশক নীতিমালায় ‘ফাও কোড-এ স্বাক্ষর করেছে। ফাও কোডে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সমস্যা এবং দুর্ঘটনা কমানোর জন্য সরকার বাজারে চালু কীটনাশকগুলো মাঝে মধ্যে পরীক্ষা করবে, স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেবে, বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা করবে এবং তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত এর কোনোটাই কার্যকর হয়নি।
আমাদের দেশের কৃষকরা কীটনাশক ব্যবহারে সতর্ক নন। এর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্বন্ধে তারা অবহিত নন বলে কীটনাশক ছিটানোর সময় তেমন সতর্কতা অবলম্বন করে না। ফলে কীটনাশকের নাশকতার শিকার হচ্ছেন কৃষকরা।
বাংলাদেশে চরম বিষাক্ত কীটনাশক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো সেসব কীটনাশক বাজারজাত করছে। ফলে পরিবেশ বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠেছে। ১৯৯৮ সালে যশোর জেলার সদর থানার ডাকাতিয়া গ্রামে চরম বিষাক্ত কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় একই সঙ্গে মারা গিয়েছিল কয়েক হাজার চড়ুই ও শালিক পাখি।
কীটনাশকের গায়ে আঁটা নির্দেশ মতো কীটনাশক পানিতে গুলে মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। হাতে রাবারের গ্লাভস পরেই ওষুধ খুলে মাঠে ছড়াতে হবে। বাতাসের অনুকূলে দাঁড়িয়ে বিপরীত দিকে এটি স্প্রে করতে হবে। কীটনাশক ব্যবহারের সময় বিশেষভাবে তৈরি অ্যাপ্রণ পরা উচিত। আর নাক, মুখ, চোখ ও মাথা পাতলা কাপড় দিয়ে ঢেকে নিতে হবে। শরীরে কোনো প্রকার ক্ষত, খোসপাঁচড়া বা চর্মরোগ থাকলে কোনো অবস্থায়ই কীটনাশকের স্পর্শে আসা যাবে না।
কীটনাশকের নাশকতায় উপকারী ও অপকারী দুই ধরনের কীটপতঙ্গ মরছে। মরছে সাপ, ব্যাঙ ও মাছ। প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে এসব প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। জীবজগতের খাদ্যশৃঙ্খলে এরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। রাসায়নিক বিশ্বে এসব প্রাণী নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। কীটপতঙ্গভুক ব্যাঙের সংখ্যাও দারুণভাবে কমে গেছে। কীটপতঙ্গ দমনে এক সময় লোকজ জ্ঞানের ব্যবহার প্রতিবেশের ভারসাম্যের কাজ সুন্দরভাবে চলত। এটি প্রায় লুপ্ত হওয়ার পথে। কিন্তু আশার কথা, কৃষি অধিদফতর ও এনজিওদের উদ্যোগে কৃষককে বালাইনাশক এক সমন্বিত ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এতে কৃষকের খরচও কম এবং প্রতিবেশ ভালো থাকবে। এই লোকজ জ্ঞানের মধ্যে ক্ষেতে কঞ্চি ও ডালপালা ইত্যাদি পুঁতে রাখলে তাতে পাখি বসে ক্ষেতের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেতে পারে। কুপি বা মশাল জ্বালিয়ে পোকা ফাঁদে ফেলে মারা, ক্যানেল জালের ছাঁকনি ব্যবহার, খেজুরপাতার ঝাড়ু দিয়ে ক্ষেতের ফসল পিটিয়ে দেয়া ইত্যাদি। রাতে ক্যানেলে প্যান রেখে তার ওপর আলো জ্বালিয়ে রাখলে তাতে পোকা পড়ে মারা যায়। কৃষকদের মধ্যে এই পদ্ধতির বালাইনাশক প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের ট্রেনিং দিতে হবে। সারা দেশে সে আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই মানুষ  কীটনাশকের ক্ষতি থেকে মুক্ত থাকতে পারবে।
লেখক : পরিবেশবিদ ও পানিবিশেষজ্ঞ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ