ঢাকা, সোমবার 25 September 2017, ১০ আশ্বিন ১৪২8, ০৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কাঁঠালের পুষ্টিগুণ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

র ম আওরঙ্গজেব : বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। অনন্য স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিতে ভরপুর এ ফল সবার প্রিয়। কাঁঠাল আকার, আকৃতি ও ওজনে সবচেয়ে বড় ফল। গ্রীষ্মম-লীয় ফল কাঁঠালের জন্ম বাংলাদেশ ও ভারতে। পুরাতত্ত্ব গবেষকদের মতে ভারত উপমহাদেশে ৩-৬ হাজার বছর আগে কাঁঠাল চাষ শুরু হয়। ধারণা করা হয় সুদুর অতীতে নাবিক ও পর্যটকগণ কাঁঠাল বীজ এদিক সেদিক ছড়িয়ে দেন। ইংরেজ পর্যটক ক্যাপ্টেন ব্লিগ ভারত উপমহাদেশ হতে কাঁঠাল পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে নিয়ে যান। বাংলাদেশে ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে কাঁঠাল উৎপন্ন হয়। দেশের সর্বত্রই কমবেশি কাঁঠাল জন্মে। তবে ঢাকা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নরসিংদী, দিনাজপুর, রংপুর, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় প্রচুর জন্মে। ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড় ও ভালুকা, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর গড়, গাজীপুর জেলার ভাওয়াল গড় ও খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ে প্রচুর কাঁঠাল হয়। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মায়ানমার, আফ্রিকার  ক্রান্তীয় অঞ্চল, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাংশ, ভারতের বিহার, আসাম ও পশ্চিম বঙ্গ এবং শ্রীলঙ্কায় কাঁঠাল উৎপন্ন হয়। 
জাত ও গুণাগুণ : কাঁঠালের উন্নত জাত হল বারি কাঁঠাল-১, বারি কাঁঠাল-২ ও বাউ কাঁঠাল-১। ফলের ওজন সর্বনিম্ন ২৫০ গ্রাম হতে ৭০-৮০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হয়। কোষের বৈশিষ্ট্য ও গুণাগুণ আনুসারে কাঁঠাল তিন প্রকার। খাজা, গালা ও রসা। খাজা কাঁঠালের রং সবুজ, কাটা মসৃণ, কোষ বড়, আঁশ নরম, বীজ ছোট ও মিষ্টি কম হয়। এ জাত  শেষ মৌসুমে পাকে। এটা সকলের প্রিয়। গালা কাঁঠাল লাল রঙের, কোষ মাঝারি আকারের, রস বেশি মিষ্টি ও বীজ আকারে বড়। এর কাটা মসৃণ হয় না আঁশ শক্ত হওয়ায় রস আলাদা করা যায়। এ জাতের ফলন সাধারণত আগাম হয়। ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের রুদ্রাক্ষী জাতের ফল গোলাকার, কাটা কম, মসৃণ ও কম মিষ্টি হয়। সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুরি জাতের ফল খুব ভাল মানের, আকারে বড় ও রোপণের আড়াই বছরের মধ্যে ফলন হয়। উভয় জাতই এদেশে চাষ হচ্ছে।
চাষাবাদ ও সংরক্ষণ : উষ্ণ, আর্দ্র আবহাওয়া কাঁঠাল চাষের জন্য সহায়ক। এঁটেল-দোআঁশ, দো-আঁশ ও এটেল মাটিতে কাঁঠালের ফলন ভাল হয়। উঁচু জমি খুব উপযোগী। পানি জমে থাকে এমন জমি কাঁঠাল চাষে সহায়ক নয়। মধুপুর ও ভাওয়াল গড়ের লাল মাটি, পার্বত্য চট্টগ্রামের কাঁকরময় মাটি, অল্প ক্ষার ও অম্ল মাটিতে এ গাছের ফলন ভালো হয়।
চাষাবাদ : বীজ, শাখা, জোড় ও চোখ কলম হতে চারা হয়। তাজা বীজ হতে ভালমানের চারা হয়। এজন্য বীজ শুকানোর আগেই রোপণ করা উচিত। অগ্রহায়ন হতে চৈত্র মাস পর্যন্ত কাঁঠালের ফুল ধরে। জ্যৈষ্ঠ মাস হতে ফল বাত্তি (পরিপূর্ণ) হতে শুরু হয়। সাধারণত তিন মাসের মধ্যে ফল বাত্তি হয়। সবজির জন্য ফল সংগ্রহ করা হয় চৈত্র হতে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত। পাকা ফল জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি হতে শ্রাবণ মাসের শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়। একটি কাঁঠাল গাছ ১০-১৬ বছর পর্যন্ত ফল দেয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩ লক্ষ টন ফল উৎপন্ন হয়।
বড় বাজার : গাজীপুরের মাওনা, কাপাসিয়া, বরমি, টাঙ্গাইলের মধুপুর, ময়মনসিংহের ভালুকা, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও খাগড়াছড়ির রামগড় কাঁঠালের বড় বাজার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে। এসব বাজার হতে প্রত্যহ প্রচুর কাঁঠাল বেচাকেনা ও দেশের সর্বত্র চালান হয়। এসব বাজারকে কেন্দ্র করে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। 
ফল পাকানো ও সংরক্ষণ : অন্যান্য ফলের তুলনায় কাঁঠাল সহজে পঁচে না। তাই বাত্তি (পরিপক্ক) ফল গাছে পাকার আগেই সংগ্রহ করা সম্ভব। বাত্তি ফল বস্তায় ভরে রোদে রাখলে দ্রুত পাকে। এছাড়া ফলের বোঁটায় সামান্য লবণ, তুঁত ও চুন দিয়ে গরম শিক বা বাঁশের শলাকা ঢুকালে দ্রুত পাকে। তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে পাকতে সময় কম লাগে। তাপমাত্রা ১১-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ৮৫-৯০ শতাংশ আর্দ্রতায় তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ফল সংরক্ষণ করা সম্ভব। কাঁঠাল সাধারণত হিমাগারে রাখা হয় না।
খাদ্য, পুষ্টি ও ঔষধি গুণ : খাদ্যমান হিসেবে কাঁঠাল অতি উত্তম। এতে রয়েছে ৩৩% খাদ্য ও ৬৭% গোখাদ্য। কোয়ার ওজন ৪৫-১০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। একটি কোয়ার ৭৫ ভাগ খাবার উপযোগী ও ২৫ ভাগ বীজ। মরটন ১৯৮৯ সালে ও সোয়েপদজো ১৯৯১ সালে কাঁঠালের ঔষধি গুণ বর্ণনা করেন। কাঁঠালের ফল, বীজ, শিকর, পাতা ও আঠা অপরিসীম ঔষধি গুণাগুণ সমৃদ্ধ। কাঁঠালের বিভিন্ন অংশের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ বর্ণনা করা হল।
ফল : কাঁঠাল ফলে চীনে পুষ্টিকর টনিক হিসেবে গণ্য করা হয়। মাদক সমস্যা হতে পরিত্রাণের জন্য এ টনিক ব্যবহৃত হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে ৯৫ প্রকার ক্যালরি আছে। ফল হজমকারক ও ল্যাক্সাটিভ সমৃদ্ধ। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন এ, বি, বি কমপ্লেক্স ও সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও লৌহ। এন্টিঅক্সিডেন্ট গুণ ও উপকারিতার জন্য কাঁঠাল দেহের সেলের জন্য খুব উপকারী। কাঁচা ফল আদর্শ সবজি। রান্নার আগে কাঁচা ফল কেটে গরম পানিতে ৫-৭ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে আঠা দূর হয়। পহেলা বৈশাখে কচি ফলের সবজি গ্রামেগঞ্জে প্রচলিত খাবার। বৌদ্ধ পূর্ণিমায় কাঁচা কাঁঠালের সবজি জনপ্রিয় খাবার। আলু ও ডালের সাথে কাঁচা ফলের সবজি অতি উত্তম তরকারি। পাকা ফল দুধসহ মুড়ি, চিড়া, ভাত ও রুটির সাথে খাওয়া যায়। গ্রামাঞ্চলে পান্তাভাত দিয়ে কাঁঠাল খাওয়ার প্রচলন আবহমান কাল ধরে প্রচলিত। দুধসহ ফল সিদ্ধ করে ছেকে নিলে মজাদার খাবার তৈরি হয়। 
পাতা: কাঁঠালের পোড়া পাতার ছাইয়ের সাথে ভুট্টা ও নারিকেলের খোসা একত্রে পুড়িয়ে নারিকেল তেলের সাথে মিশাতে হবে। এ মিশ্রণ ঘা বা ক্ষতস্থানে লাগালে শুকিয়ে যায়, গ্যাস্ট্রিক ও আলসার ভাল হয়। পাতা গবাদি পশুর উত্তম খাবার ও কোরবানির পশুর জন্য আদর্শ খাবার হিসেবে বিবেচিত।
আঠা : কাঁঠালের আঠা ও ভিনেগারের মিশ্রণ গলাফোলা ও সাপের কাঁমড়ের ক্ষত সারায়।
শিকড়: শিকরের নির্যাস দিয়ে জ্বর, কলেরা, চর্মরোগ ও হাঁপানির ওষুধ প্রস্তুত হয়।
বীজ : বীজে জ্যাকলিন নামক এক প্রকার প্রোটিন আছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বীজ গরম করে ক্ষতস্থানে লাগালে উপকার হয়। বীজ এফরোডিয়াসিক রোগে কার্যকর। কাঁঠালের শাঁস ও বীজ চীনে বলবর্ধক হিসেবে গণ্য হয়।  এছাড়া বীজে আছে ক্যালরি, শর্করা, ও আমিষ। কোষ ও বীজ ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও লৌহ সমৃদ্ধ। বীজে প্রচুর শর্করা থাকলেও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উত্তম পথ্য। শুকনা বীজ তরকারি, সবজি ও ভর্তা খুব মজাদার খাবার। বীজ ভাজা মুড়িসহ গুড় দিয়ে খাওয়ার প্রচলন আছে। শুকনা বীজের ময়দার তৈরি রুটি খুব মজাদার। বীজ শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে সবজি খাওয়া সম্ভব।   
পুষ্টির অভাব পূরণ: পুষ্টির অভাবা মেটাতে কাঁঠাল বিশেষ কার্যকর। দেশের অনেক নারী ও শিশু ফি বছর ভিটামিন ও খনিজের অভাবজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন জনপ্রতি ১১৫ গ্রাম ফল খাওয়া দরকার। এ হিসেবে দেশের লোকসংখ্যা হিসেবে বছরে ৮০ লক্ষ টন ফল দরকার। অথচ ফলের উৎপাদন ১৫ লক্ষ টন যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। তাই পুষ্টি চাহিদা মেটাতে কাঁঠাল অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে।
পুষ্টিকর গোখাদ্য : এছাড়া কচি পাতা, কচি ডাল, ছোবড়া, মোচা, ভুতি ইত্যাদি উৎকৃষ্ট গোখাদ্য। বিশেষ করে দুধেল গাভীকে এসব নিয়মিত খাওয়ালে গাভীর পুষ্টির পাশাপাশি দুধ বাড়ে।
পোকার আক্রমণ হতে সবজির সুরক্ষা : ফলের ভেতরের গোলাকার মোচা কুমড়া ও লাউয়ের মাচায় ব্যবহার করলে ফল ছিদ্রকারী মথ জাতীয় পোকার আক্রমন হতে এসব সবজি রক্ষা পায়।
অর্থকরী সম্ভাবনা ও প্রক্রিয়াজাত : কাঁঠাল গাছের রযেছে নানামুখী অর্থকরী সম্ভাবনা। বিশ্বের সবচেয়ে উযন্নতমানের ও সেরা কাঁঠাল হয় এদেশে। এর ফল, বীজ, কোয়া, ফলের বহিরাংশ, কাঠ, পাতা সবই কাজে লাগে। কাঁঠাল গাছের বিশেষত্ব হল কোন অংশই ফেলনা নয়, বরং নানাভাবে উপকারী।
কাঠের ব্যবহার: হলুদ রঙের জন্য কাঁঠাল কাঠ আসবাবপত্র, ঘরের দরজা, জানালা তৈরির জন্য খুব সমাদৃত। এর আসবাবপত্র খুব দামি ও টেকসই। আসবাবপত্র তৈরিকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। গাছের ডালপালা ও পাতা উত্তম জ্বালানী।
সহায়ক ফসল চাষ: কাঁঠাল গাছের ছায়া খুব নিবিড় ও শান্ত প্রকৃতির। এজন্য এ গাছের নিচে আনারস, আদা, মিষ্টি আলু, হলুদ, কচু ইত্যাদি চাষ সম্ভব। এতে কম শ্রমে এসব ফসল হতেও ভাল আয় করা যায়।
চাষের সমস্যা : অর্থকরী সম্ভাবনা সত্ত্বেও কাঁঠাল চাষের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা বিদ্যমান। ফলের উন্নয়ন, প্রক্রিয়াজাত বিপণন ও গবেষণার তেমন উদ্যোগ নেই। বিপণন সমস্যায় অনেক ফল বিনষ্ট হয়। এজন্য ফলের অপচয় হওয়ায় চাষি ন্যায্য মূল্য পায় না। উঁচু জমিতে এ গাছ ভাল জন্মে। তবে পানি সেচের সমস্যা আছে অনেক ক্ষেত্রে। ঘনঘন বন্যার কারণে গাছের ক্ষতি হয়। বিশেষ করে ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ ও পরবর্তী বন্যায় অনেক ভাল জাতের গাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কাঠের প্রয়োজনে প্রতি বছর পুরাতন গাছ কাটা হয়। নতুন করে গাছ রোপণের উদ্যাগ ও তৎপরতা নেই। এসব কারণে অনেক ভাল ও উন্নত জাত বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশে আম, লিচু, আনারস ও কলার মত কাঁঠালের পরিকল্পিত বাগান নেই। সাধারণত রাস্তা ও বসতবাড়ির পাশেপাশে ও পতিত জমিতে কাঁঠাল গাছ রোপণ করা হয়।
গবেষণা : অন্যান্য ফলের মত কাঁঠালের উন্নত জাত নেই। ভাল জাত উন্নয়নে তেমন গবেষণাও নেই। কাঁঠাল নিয়ে গবেষণা ও গবেষকের সংখ্যাও কম। চাষিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ভাল ও পুরাতন জাত সংরক্ষণ করে সেগুলো রোপণ করা জরুরি। তা না হলে উন্নত জাত চিরতরে হারিয়ে যাবে। কাঁঠালের উন্নয়ন, গবেষণা ও চাষিদের প্রশিক্ষণের জন্য কাঁঠাল গবেষণা ইস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও অর্থকরীভাবে সম্ভবনাময় কাঁঠালের উন্নয়নে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
প্রক্রিয়াজাত : ফলকে প্রক্রিয়াজাত করেও বাড়তি আয় করা সম্ভব। ভারত ও থাইল্যান্ডে কাঁঠাল ফল হতে জ্যাম, জেলি, জুস তৈরি ও কেীটাজাত করা হয়। শ্রীলংকায় কাঁঠাল ফল ও বীজ হতে নানাজতের খাবার প্রস্তুত করা হয়। শ্রীলংকা হতে আটা, ময়দা, নুডুল্ষ, সালাদ, আইসক্রিম, কৌটাজাত শুকনা (ডিহাইড্রেড পাকা ফল) ফল ও উন্নত মানের কাঠ ইউরোপে রফতানি হয়। এগুলো রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে শ্রীলংকা। ব্রাজিলে শুকনা কাঁঠালের চিপস তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। ভিয়েতনামে ফল হতে এক প্রকার মিষ্টি স্বাদের সূপ প্রস্তুত করা হয়। বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ কাঁঠাল হতে বিস্কুট ও ক্যান্ডি প্রস্তুত করেছে। ক্যানিং পদ্ধতিতে তাজা ফল প্রক্রিয়াজাত করলে ফুড ভ্যালু সমৃদ্ধ ও অনেক দিন সংরক্ষণ করা সম্ভব। এর ফলে দীর্ঘদিন এ ফল খাওয়া সম্ভব ও বিদেশে রফতানির সুযোগ তৈরি হবে। এতে চাষিও ন্যায্যমূল্য পাবে। পরিতাপের বিষয় বাংলাদেশে প্রচুর উৎপাদন স্বত্বেও কাঁঠাল হতে বিভিন্ন খাদ্য প্রস্তুত ও রফতানির তেমন উদ্যোগ নেই। সামান্য পরিমাণে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাস্ট্রে রফতানি হয়। কাঁঠালের জনপ্রিয়তা বাড়াতে বাজারজাত সম্প্রসারণ করা জরুরি। তাজা ফল প্রক্রিয়াজাত করে অন্যান্য দেশের মত জ্যাম, জেলি, ক্যান্ডি, জুস, সূপ, বিস্কুট, ময়দা, আটা, নুডুলস, আইসক্রিম ইত্যাদি তৈরির জন্য মধুপুর, ভালুকা, মাওনা, রামগড়, শ্রীমঙ্গল এলাকায় শিল্প স্থাপন করতে হবে। শিল্প করা সম্ভব হলে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শিল্পজাত দ্রব্য ও কাঠ দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রফতানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের আশা আছে। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ একান্ত প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ