ঢাকা, সোমবার 25 September 2017, ১০ আশ্বিন ১৪২8, ০৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় প্রি-পেইড মিটারের গ্রাহকদের সাথে নানাভাবে প্রতারণার অভিযোগ

খুলনা অফিস : প্রি-পেইড মিটারের ভাড়া আদায়সহ বিভিন্নভাবে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছে। নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহক মো. মিজানুর রহমান খান এ লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর এডভোকেট এজাজুল হাসান শিকদার অভিযোগকারীর পক্ষে এ আইনগত নোটিশ প্রদান করেন।

অভিযোগকারী মো. মিজানুর রহমান খান বলেছেন, ২০০৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পূর্ব পর্যন্ত এনালগ (চাকা) মিটার ব্যবহার ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছি। এ অবস্থায় ওজোপাডিকোর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০০৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিজস্ব অর্থ ব্যয় করে ০১১৬৩৮ নম্বরের ডিজিটাল মিটার স্থাপন করে বিল পরিশোধ করতে থাকি। এ মিটার চলমান অবস্থায় পুনরায় ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন প্রি-পেইড মিটার লাগিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে নিজ অর্থ দিয়ে ক্রয় করা ডিজিটাল মিটারটি নিয়ে যায়। একই সাথে নতুন প্রি-পেইড মিটার বাবদ কোন অর্থ প্রদান করতে হবে না বলে জানানো হয়। অথচ চলতি মাসে মিটারের বিলের সাথে ভাড়া বাবদ ৪০ টাকা পরিশোধ কর্তন করা হয়েছে। এমনকি মিটারের মূল্য কত এবং কতদিন ধরে এ অর্থ কেটে নেয়া হবে তাও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের সাথে একটি প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে লাইফ লাইন ১ থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ৩ দশমিক ৩৩ টাকা উল্লেখ থাকলেও ৫০তম ইউনিটে এক সাথে ৪৯ টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া পরবর্তী ধাপ ১ থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিটের মূল্য ৩ দশমিক ৮০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হলেও ৪ দশমিক ২৪ টাকা হারে কেটে নেয়া হচ্ছে। যা আমিসহ সকল গ্রাহকের সাথে প্রতারণার করা হচ্ছে। এ জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে খুলনার জনগণ সোচ্চার অবস্থান নিয়েছে। প্রয়োজনে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে আলোচনা করে মামলা দায়ের করা হবে।

খুলনা জজকোর্টের এডভোকেট এজাজুল হাসান শিকদার বলেন, আমার মক্কেলের এনালগ মিটার পরিবর্তন করার পর নিজ অর্থে খরিদ করা ডিজিটাল মিটার লাগানো হয়। সেই মিটার পরিবর্তন করে বিনামূল্যে প্রি-পেইড মিটার প্রদান করা হবে মর্মে জানিয়ে ডিজিটাল মিটার নিয়ে যায়। অথচ এখন মিটার বাবদ ভাড়া ৪০ টাকা করে কেটে নেয়া হচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেটে নেয়া হচ্ছে বলে মক্কেলকে একটি প্রজ্ঞাপন দেখানো হয়েছে। ওই প্রজ্ঞাপনে প্রি-পেইড মিটারের মূল্য গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়ের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে সেখানে বলা হয়েছে মিটারের মূল্য মাসিক বিদ্যুৎ বিলের সাথে ‘ভাড়ার সমন্বয়’ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। আবার পরবর্তী ধাপে বলা হয়েছে, সিঙ্গেল ফেজ মিটারের মাসিক ভাড়া ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেজ মিটারের মাসিক ভাড়া ২৫০ টাকা হিসেবে বিদ্যুৎ বিলের সাথে আদায় করতে হবে। এখানে মিটারের মূল্য বাবদ অর্থ কাটার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে ভাড়া বাবদ অর্থ আদায় বলা হচ্ছে। যা স্ববিরোধী। এছাড়া মিটারের মূল্য কত এবং কত দিন ধরে কেটে নেয়া হবে সে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এ জন্য একটি আইনগত নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া দশ দিনের মধ্যে মক্কেলের কাছ থেকে নেয়া অর্থ ফেরত দেয়ার জন্যও বলা হয়েছে নোটিশে। প্রি-পেইড মিটার প্রকল্পের পরিচালক মো. তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিলের সাথে মিটারের ভাড়া বাবদ অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিক উদ্দিনের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ