ঢাকা, সোমবার 25 September 2017, ১০ আশ্বিন ১৪২8, ০৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চৌগাছায় ওএমএস’র আতপ চাল কিনছে না ক্রেতা ॥ বেকায়দায় ডিলাররা

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছায় ওএমএস’র আতপ চাল বিক্রি শুরু হলেও কিনছে না ক্রেতারা। বেকায়দায় ডিলাররা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে সারা দেশের ন্যায় এ উপজেলায় ও এম এস এর চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে আতপ চাল হওয়ায় ক্রেতা সাধারণ তা কিনছে না। পৌর শহরের চানপুর এলাকায় এসএম তবিবুর রহমান তবি, পৌর ভবনের পাশে মেহেদী হাসান, নিরিবিলি পাড়ায় শাহাজ্জেল হোসেন শুকুর, জেলে পাড়ায় মঈনুল হোসেন বাচ্চু ও বস্তিপাড়া এলাকায় মাহাতাব উদ্দীনকে  ও এম এস এর ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিদিন এ পাঁচ জন ডিলারকে বিক্রির জন্য ৩ টন চাল দেওয়া হবে। প্রতিদিন ১ জন ডিলার ৬শ কেজি চাল বিক্রি করতে পারবেন।
সম্প্রতি দুই দিনে গড়ে ৫০/৬০ কেজি চাল বিক্রি করতে পেরেছেন ডিলাররা। এ সময় কথা হয় চাল কিনতে আসা গরীবপুর গ্রামের ভ্যান চালক আতিয়ার রহমানের সাথে তিনি বলেন আমার পরিবারে মোট ৭ জন সদস্য। প্রতিদিন ৩ বেলায় চাল লাগে সাড়ে ৬ কেজি। বাজারে ১ কেজি চালের দাম ৪৫/৫০ টাকা সংসারে প্রতিদিন শুধুমাত্র ৩শ ৫০ টাকার চাল লাগে অন্য নিত্য পণ্য লাগে আরো প্রায় ৩শ টাকার। আয়ের চাইতে ব্যয় বেশী তাই সংসার চালাতে দারুণ ভাবে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকার গরীবদের কথা চিন্তা করে খোলাবাজারে ও এম এস এর ৩০ টাকা কেজি চাল বিক্রির যে উদ্যোগ নিয়েছে তা আতপ চাল হওয়ায় আমাদের কোন কাজে আসছে না। কারণ আতপ চাল আমাদের পরিবারের কেউ খায়না। চাল কিনতে আসা আমেনা বেগম জানান আতপ চাল না হয়ে সিদ্ধ চাল হলে দু মুঠো খেয়ে বাঁচতাম। আপনারা খবরের কাগজে লিখেদেন আমাদের এলাকার মানুষ আতপ (আলো) চাল খায় না। এদিকে ডিলাররা তাদের দোকান খুলে ঘন্টার পর ঘন্টা ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকলেও আতপ চাল হওয়ায় কোন ক্রেতা চাল কিনতে আসছে না। ফলে সরকারের খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে এ উপজেলায় ও এম এস এর চাল বিক্রি কর্মসূচি দারুণ ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ব্যাপারে ও এম এস এর ডিলার শাহাজ্জেল হোসেন শুকুর জানান আতপ চাল হওয়ায় ক্রেতারা কিনছেনা। তবে সিদ্ধ চাল হলে এলাকার মানুষ কিনতে আসত। পৌর ভবনের পাশে ডিলার মেহেদী হাসানের প্রতিনিধি সিরাজ উদ্দীন বলেন আতপ চাল কেউ কিনছে না। আতপ চালের পরিবর্তে সিদ্ধ চাল না দিলে এ অবস্থা চলতে থাকবে। আর এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে সরকারের এ কর্মসুচি এলাকার গরীব ও দুস্থদের কোন কাজে আসবে না। তাই ডিলার ও সরকার এক যোগে ক্ষতির মুখে পড়বে। এ দিকে ৩০ টাকা কেজি দরে জন প্রতি ৫ কেজি চাল কর্মসূচিতে আতপ চাল বিক্রি করায় সিদ্ধ চালের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক কার্ত্তিক দেবনাথ জানান প্রথম দিনে কোন চাল বিক্রি না হলেও দ্বিতীয় দিনে ৫জন ডিলার ৮শ ৫০ কেজি চাল বিক্রি করেছেন। ক্রেতারা চাল কিনতে এসে আতপ চাল দেখে ফিরে চলে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সালমা বেগম জানান এ এলাকার মানুষ আতপ চাল খায় না তাই বিক্রি কম হচ্ছে। তবে সিদ্ধ চাল হলে এ অবস্থার পরিবর্তন হত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ