ঢাকা, সোমবার 25 September 2017, ১০ আশ্বিন ১৪২8, ০৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির ভোট বর্জন

চট্টগ্রাম অফিস : অনিয়ম, কারচুপি, কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া, নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর, বাড়িতে ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের নবগঠিত কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোট গ্রহণ।
তবে ভোট গ্রহণ শুরুর দু’ঘন্টার মাথায় সকাল সাড়ে ১০টায় ভোট বর্জন করে বিএনপি। বিএনপির উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট এসএম ফোরকান শিকলবাহা চৌমুহনিস্থ নিজ বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
বিএনপির সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এহছান এ খান। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট এসএম ফোরকান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আব্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম মামুন মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী মুহাম্মদ ওসমান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী উম্মে মিরজান শামীমাসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচনে এজেন্টদের প্রবেশে বাধা প্রসঙ্গে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট এসএম ফোরকান বলেন, ৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬টি কেন্দ্রে এজেন্টদের প্রবেশ করতে দেয়নি সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা। রোববার ভোর থেকে বহিরাগতদের মহড়া এবং ককটেল ফাটিয়ে ভোটারদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগ করা হয়।
বিএনপির ভোট বর্জন ঘোষণার পর বেলা দেড়টার সময় সরকারি দলের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে ইসলামী ফ্রন্টের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মোমবাতি প্রতীকে মাওলানা মুহাম্মদ মুছা ও জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মুন্নি বেগমও ভোট থেকে সরে দাঁড়ায়।
নির্বাচন চলাকালিন সময়ে সকাল পৌনে ৯টার সময় শিকলবাহা এ জে চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হলে পুলিশ এসে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণ করে। পরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা শিকলবাহা জামালপাড়ায় বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করে। এসময় বিএনপি নেতা রুহুল আমিনকে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা চুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শিকলবাহা কলেজ বাজারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।
বেলা ১টায় বড়উঠান দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমদ ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বেআইনীভাবে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার পথে র‌্যাবের কাছে প্রায় এক ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকে।
এছাড়াও ৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে বেশিরভাগ কেন্দ্রে পুরো সময় ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বিএনপি, ইসলামী ফ্রন্ট ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ভোট বর্জনের পর থেকে ভোট কেন্দ্রগুলোতে সরকারি দলের প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে।
আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারুক চৌধুরী বলেছেন, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট চললেও পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি ভোট থেকে সরে দাড়িয়েছে। মূলত তারা বর্জন করার জন্য নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তফশিলের পর থেকে ষড়যন্ত্র করে আসছিল। যার কারণে তারা তেমন প্রচার প্রচারণা চালায়নি এবং ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে যায়নি। কর্ণফুলী উপজেলার প্রথম নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে ভোট বর্জন ছিল তাদের ষড়যন্ত্রের অংশ। বিএনপি তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে ভোট বর্জন করে। যা তাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের ফারুক চৌধুরী, ইসলামিক ফ্রন্টের চেয়ার প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রতীকের দিদারুল আলম, ইসলামী ফ্রন্টের মাওলানা মো. মুছা, ইসলামিক ফ্রন্টের নাসির আহমদ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বানেজা বেগম ও জাতীয় পার্টির মুন্নি বেগম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারী রিটানিং অফিসার সৈয়দ আবু ছাঈদ বলেন, নির্বাচনে কোন কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটাররা স্বতস্পূর্তভাবে ভোট প্রদান করেছেন। নির্বাচনের সমন্বয়কারী ও কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবেই কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
পটিয়া উপজেলার শিকলবাহা, বড়উঠান, চরলক্ষ্যা, চরপাথরঘাটা ও জুলধা ইউনিয়নকে ভাগ করে কর্ণফুলী উপজেলা গঠন করা হয়। কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪২টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ লাখ ৭ হাজার ৭৯৯ জন ভোটার রয়েছে। তার মধ্যে পুরুষ ৫৩ হাজার ৫৯৯, মহিলা ৫৪ হাজার ২০০।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ