ঢাকা, মঙ্গলবার 26 September 2017, ১১ আশ্বিন ১৪২8, ০৫ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সেফ জোন এবং কিলিং জোন প্রসঙ্গ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গঠন করা হলে তা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গত ২৩ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে সংগঠনটি আরো বলে, বাংলাদেশে ঢোকা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী যথেষ্ট খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি চিকিৎসা সেবা ও শৌচাগারের অভাবে নিদারুন দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে। বৃষ্টি তাদের সার্বিক অবস্থা আরও খারাপ করে তুলেছে। শরণার্থীদের এই ঢল মোকাবিলায় সুষ্ঠু সমাধানের পথ খুঁজছে বাংলাদেশ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতিতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ সুষ্ঠু সমাধানের পথ খুঁজছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। মিয়ানমার যে নিষ্ঠুরভাবে নিজের সমস্যা বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে তাতে সুষ্ঠু সমাধানের পথতো খুঁজতেই হবে। এখন দেখার বিষয় হলো, প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্ব সম্প্রদায় এই সংকটের সমাধানে আন্তরিকভাবে কতটা এগিয়ে আসে। তবে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গঠন নিয়ে এইচআরডব্লিউ যে আশংকার কথা উল্লেখ করেছে তা ভেবে দেখার মতো। বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে কয়েক দফা প্রস্তাবের মধ্যে মিয়ানমারের ভেতরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, যেখানে রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের টহল বজায় থাকা সত্ত্বেও ‘নিরাপদ অঞ্চল’ নিরাপদ হয়ে ওঠার ঘটনা বিরল। বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় সেব্রেনিৎসা নিরাপদ অঞ্চলেও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি ছিল। অথচ এর মধ্যেই বসনিয়ার সার্ব বাহিনী প্রায় সাত হাজার পুরুষ ও কিশোরকে হত্যা করেছে, ধর্ষণ করেছে নারী ও কিশোরীদের। এইচআরডব্লিউ শ্রীলংকার উদাহরণ টেনে বলেছে, দেশটির সরকার তামিল টাইগার গেরিলাদের কবল থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় যে নিরাপদ অঞ্চলের ঘোষণা দিয়েছিল সেটা ‘কিলিং জোনে’ পরিণত হয়েছিল। সশস্ত্র তামিল গেরিলারা সেখান থেকে ওই মানুষদের বের হতে দেয়নি। আর সেনাবাহিনী সেখানে গোলা নিক্ষেপ করে। এতে বহু বেসামরিক লোক প্রাণ হারায়।
উদাহরণগুলো নিষ্ঠুর অথচ বাস্তব। তাই মিয়ানমারে প্রস্তাবিত ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ‘কিলিং জোনে’ পরিণত হয় কিনা তা ভেবে দেখতে হবে। কারণ পৃথবীতো এখন আরো বেশি অমানবিক ও নিষ্ঠুর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ