ঢাকা, মঙ্গলবার 26 September 2017, ১১ আশ্বিন ১৪২8, ০৫ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছি সুচি! ছি মিয়ানমার বাহিনী!

মাওলানা মুফতী মো.ওমর ফারুক
যুগে যুগে মানবতা মনুষত্ব মানবিক মূল্যবোধ লজ্জাবোধ পৃথিবীর অনেক জালিমের কাছে লঙ্ঘিত হয়েছে, পদদলিত হয়েছে, রক্তে রঞ্জিত হয়েছে! আকাশ বাতাস কেঁপে ওঠেছে ইহা যেমন সত্য, তদ্রুপ অনেক নরপিশাচের দাপট ও তান্ডবে খোদ ইবলিস শয়তান ও ঘৃণা করেছে ইহাও সত্য। আজ পর্যন্ত চতুষ্পদ কোন জীব জানোয়ার স্বজাতীয় কোন প্রাণী স্বজাতীর মাংস খেতে দেখা যায়নি বা ইতিহাসে পাওয়া যায় নি। তদ্রুপ স্বজাতী স্বজাতীর সাথে দেহ মিলন করে ঘটনাস্থলেই পু’লিঙ্গ স্ত্রী লিঙ্গ কে মেরে ফেলে দিয়ে তার দেহের উপর নৃত্য করেছে এমন ইতিহাস ফেরাউন নমরুদের সময়েও ঘটেছে বলে আমার জানা নাই ইতিহাসের কোন পাতায় ও হয়ত নাই। কখনো কখনো দেখা যায় বনের হিংস্র প্রাণী বাঘ ভল্লুক, হায়েনা, গন্ডার জলহস্তী ওরা যদিও জানোয়ার বনে থাকে, বনেই ওদের বসবাস, তবু তাদের শিশু বাচ্চাগুলোকে একে অপরে একটু আদর সোহাগ মায়া মমতা স্নেহ ভালবাসা দিয়ে স্বযত্বে বিপদ মছিবত থেকে উদ্বার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায়, তাকে বাঁচতে দেয়, খেতে দেয়! সাপ, সাপের বাচ্চা খায় না, কুমির কুমিরের বাচ্চা খায় না কিন্তু হ্যায় কি দৃশ্য! কি নির্মম পরিহাস! এ কি সর্বনাশা চিত্র! কি যে করুণ দৃশ্য! মানুষ কি করে মানুষের মাংশ খাচ্ছে! মানুষ কে মানুষ জবাই করে নিজ হাতে চিবিয়ে কলিজা খাচ্ছে! তা কি বলা যায়! তা কিভাবে কি বলে লিখা যায়! কি বলে ব্যাখ্যা করা যায়! পৃথিবীতে এমন নজির আর কি আছে ? না না কি করে থাকবে ? এত শয়তান তো আর কোথাও ইতিপূর্বে একত্রিত হয়নি! এমন কোন ভাষা কি আছে ? হয়ত নেই যে ভাষায় এই জঘন্য অপরাধের পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা দেওয়া যায়! বা এর ঘৃণা করা যায়! তবু প্রিয় মাতৃভাষা বাংলা ভাষাতেই সামান্য কিছু জঘন্য চিত্রের কথা না বললেই নয়! কারবালার প্রান্তরের ইয়াজীদ বাহিনীর নির্মম নিষ্ঠুর জঘন্য অপরাধকেও হার মানিয়েছে! ইরাকের বন্দীশালা আবু গারীবের চেয়েও ভয়ংকর দৃশ্য! তা কি করে লিখা যায় ? তবু আমার ক্ষুদ্রজ্ঞানে যৎসামান্য জীবন্ত চিত্রের বর্ণনা তুলে ধরছি।
শিশু বাচ্চাদেরকে সাড়িবদ্ধভাবে ছাগল ভেড়ার পালের ন্যায় হাতে পায়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে, তাদের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে মারার পরে মিষ্টি খাওয়া, হাসতে হাসতে উল্লাস করা! মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে মাকে ধর্ষণ করে শিশুটিকে মৃত লাশের উপড় রেখে গলা টিপে হত্যা করা, এখন তাদের নিয়মিত রুটিনে পরিণত হচ্ছে! যুবতী মেয়েদেরকে পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে রাস্তায় এনে উলঙ্গ করে গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে নিজেরা আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠছে ঐ হায়েনা বাহিনী! বাড়িঘরে আগুন দিয়ে যেন কেহ দৌড়ে প্রাণ বাচাঁতে না পারে মূল্যবান কোন জিনিসপত্র নিয়ে আসতে না পারে সে জন্য লাঠিয়াল বাহিনী দ্বারা ব্যারিকেড সৃষ্টি করে নিরপরাধ নিরম্র বেসামরিক সর্বসাধারণ রোহিঙ্গা মুসলমানদেরক পুড়িয়ে মারছে আরাকানের সৈন্য নামের দানব বাহিনী।
কিশোর কিশরী যুবক যুবতীদের একত্র করে পিছনে হাত পায়ে বেঁধে নামাজের রুকুর ন্যায় উপুড় করে অভিনব কায়দায় কুঠারদিয়ে হাত পায়ের গিড়াগুলোতে পিটিয়ে জীবন্ত মানুষের দেহ হতে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আলাদা করছে যা দেখে খোদ ইবলিশ শয়তান ও মিয়ানমার সরকারের ওপর তাদের প্রশাসন ও পোশাকধারী বাহিনীর ওপর অবিরাম থুথু ফেলছে! বয়বৃদ্ধ নারী পুরুষদেরকে যখন জীবন্ত কবর দিচ্ছে! তাদের হাহাকার ও আর্তনাদে যখন আকাশ ভেঙ্গে পরার উপক্রম হচ্ছে। পানি পানি বলে চিৎকারে আসমান জমিনের সকল সৃষ্টি যখন এই দৃশ্য দেখে থমকে যাচ্ছে! ঠিক এমতাবস্থায় পানির বদলে তাদের গায়ে পশ্রাব করে বলছে পানি পান কর!
গর্ভবর্তী মায়েরা যখন না পারছে দৌড়ে পালাতে না পারছে কিছু করতে তাদের  গ্রুপে গ্রুপে ভাগ করে পেট কেটে সন্তান বের করে প্রথমে শিশু বাচ্ছাটি  গলা কেটে পরে মাকে জবাই দিয়ে হাত পা মাথা আলাদা আলাদা করে তামাশা করে এসব খন্ডিত মানব দেহের উপড় নৃত্য করছে!
ছাগল ভেড়া জবাই করার পর যেভাবে গাছে বেঁধে চামড়া আলাদা করা হয় ঠিক ঐ কায়দায় জীবন্ত মানুষকে গাছের ডালে পায়ে বেঁধে মাথা নীচদিকে দিয়ে হাতুরি ও রড দিয়ে হাত পা আলাদা আলাদা করছে তারপরও বিশ্ব ইবলিশ শয়তানের প্রধান শয়তান মানবরুপী দানব অং সাং সু চি বিবৃতি দিয়ে বলে আরাকান ও রোহিঙ্গা মুসলমানেরা শান্তিতে আছে! নিরাপদে আছে! শুধুমাত্র উগ্রপন্থী জংগি দোহাই দিয়ে মুসলমান নিধন জায়েজ করে নেওয়া হচ্ছে। সাথে সাথে বিশ্বেমোড়লেরা এই নীলনকশার ফতোয়া ভাল করে গিলছে। তাই গোটা বিশ্ববাসী জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে যখন রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষা করতে, মানবতা মনুষত্বের হেফাজত করতে, শান্তিময় পরিবেশ বজায় রাখতে নানা কর্মসূচি পালন করছে। মিছিল মিটিং বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে এহেন অবস্থায় আজব হলেও সত্য যে সৌদি আরবসহ প্রতিবেশী অনেক রাষ্ট্র নীরবতা পালন করছে। এমনকি মানবাধিকার সংস্থা, ওআইসি, জাতিসংঘ, সার্ক ও আরবলীগ প্রথমে নীবর দর্শকের ভুমিকা পালন করছে!  যখন রোহিঙ্গা মুসলমানেরা প্রায় সকলেই খতম! এখন দায়সাড়াভাবে নামকা ওয়াস্তে অনেকটা লজ্জায় পড়ে কিছু একটা বলার মত করে আস্তে আস্তে গলা টেনে টেনে বিড়ালের আওয়াজের মত মিউ মিউ করে রোহিঙ্গা সমস্যা বন্ধ করা দরকার বলা হচ্ছে। অথচ মিয়ানমারের মুসলমানদের অবস্থা এতই নাজুক, করুণ যে আর এক মিনিটও এই অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। এক্ষুণি এর সমাধান হওয়া দরকার। গণহত্যা আর কত সময় চলবে? কত দিন চলবে? মানবতা মনুষত্ব বিশ্বের কোথাও পাওয়া যাবে না? মিয়ানমারের দানব বাহিনীর এই জঘন্যতম বর্ববরতা দেখে বন-জঙ্গলের হায়েনারা লজ্জা পাচ্ছে ইহা বন্ধের জন্য চিৎকার করছে!
জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা এখন পর্যন্ত কড়া ভাষায় বলছে না যে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে মিয়ানমারের গণহত্যা বন্ধ করতে হবে, আর যেন একজন মানুষের উপর কোন ধরনের নির্যাতন নিপীড়ন চালানো না হয়। আর যেন একটি মায়ের বুক খালি না হয় কোন সন্তান ইয়াতীম না হয়। এরপরও যদি সু চির সরকার, মিয়ানমার বাহিনী এ থেকে সড়ে না আসে, না থামে, গণহত্যা বন্ধ না করে, নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে না দেয়, তাহলে বিশ্বসংস্থাগুলো এক হয়ে মানবতা মনুষত্ব রক্ষা করতে গণহত্যাকারী সরকার  মিয়ানমার হতে উৎখাত করে বিশ্ব আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে দিবালোকে একে একে এদের প্রত্যেককে গলায় জুতার মালা পরিয়ে, মাথায় কুকুরের মুখোশ পরিয়ে, গায়ে হায়ানার পোশাক দিয়ে ব্রাশ ফায়ারে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে! এই ঘোষণা দেওয়ার পর জাতিসংঘ আরো কিছু জরুরী পদক্ষেপ এক্ষুণি গ্রহণ করতে পারে। তা হলো:-
১. বিশ্বের সকল রাষ্ট্র মিয়ানমারের পররাষ্ট্র কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করবে।
২. আন্তর্জাতিক সকল চুক্তি মিয়ানমারের সাথে বাতিল ঘোষণা করবে।
৩. সড়ক পথ, নৌপথ ও আকাশ পথে মিয়ানমারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
৪. নিত্যপ্রয়োজনীয় কোন পণ্যসামগ্রী আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকবে।
৫. সু চির নোবেল পুরষ্কার বাতিল ঘোষণা করে তা ফেরৎ নেওয়া হবে।
৬. সু চিকে বিশ্বসেরা  হায়েনা বলে ঘোষণা দিতে হবে। গ্রীনিজ বুকে পৃথিবীর জঘন্যতম গণহত্যাকারী হিসাবে নাম লিখাতে হবে।
৭. তিন বাহিনীর প্রধানকে গন্ডার উপাধিতে ভূষিত করে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করতে হবে।
৮. আরাকানের মুসলমানদের শতভাগ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব দিতে হবে।
৯. বাংলাদেশে প্রবেশকৃত রোহিঙ্গাদের সম্মানে ফেরৎ নিতে হবে।
১০. বিশ্বের সার্বিক সহযোগিতা রোহিঙ্গাদের হাতে যথাযথ পৌঁছানোর জন্য আন্তর্জাতিক টিম গঠন করতে হবে।
১১. হাত-পা কর্তনকৃত পঙগু রোহিঙ্গাদেরকে আজীবন মিয়ানমার সরকার কর্তৃক ভাতা প্রদান করতে হবে।
উল্লেখিত বিষয়াবলীসহ প্রয়োজনে আরো কিছু শর্তাবলী সংযুক্ত করে আজই মিয়ানমারের প্রতি বিশ্ব মুসলিম, আন্তর্জাতিক সংস্থা, জাতিসংঘ, ওআইসি, মানবাধিকার সংস্থাসহ ঐক্যবদ্ধভাবে সকলকে আর্থিক, মানসিক, আন্তর্জাতিক ও আইনানুগভাবে সার্বিক সহযোগিতা করা এখন সময়ের দাবি এবং অতীব জরুরী। বর্তমান সময়ের বিশ্ব মুসলিম মহিলা লিডার এরিনা এরদোগান, আপনি ধন্য! আপনি এগিয়ে যান ভয় পাবেন না বিশ্ব মুসলিম আপনার পাশে! মহান আল্লাহ তা’য়ালার সাহায্য আপনি পাবেন।
বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার সরকারের একটি স্লোগানের কথা মনে পড়ে গেল তা হলো “ আমরাই পারি আমরাই পারব ” আপনি রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য যে সকল কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন তা ইতিমধ্যে আপনাকে দেশ-বিদেশে মাদার অব হিউমিনিটি বলে আখ্যায়িত করছে! যা আমাদের গর্ব ও অহংকারের বিষয়, আপনি আরো দ্রুত এবং নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। মিয়ানমারের  নির্যাতীত মুসলমানদের জন্য, আপনি সফল হবেন! আমরা আপনার পাশে থাকব। এ দেশের সকল জনগণ আপনার পাশে থাকবে!
বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর নিকট আমার উদাত্য আহবান এবং অনুরোধ আপনারা এরদোগানের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এগিয়ে আসুন! ভুলে যান সকল ভেদাভেদ, রক্ষা করুন মানবতা, মনুষত্ব, আর দেরি নয়! আর মিসিল মিটিং বিবৃতির সময় নাই! আর কারো দিকে তাকিয়ে তাকার সময় নেই। আজই গ্রহণ করুন নতুন কর্মসূচি! প্রয়োজনে দেশের সকল সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তাদের দশ দিনের বেতন ভাতা জমা নিয়ে, শিল্পপতি ব্যবসায়ীদের নিকট হতে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফান্ড সংগ্রহ করে  তাদের জন্য আরো কি কি করা যায় একটু উদ্যোগ গ্রহণ করুন। যে ভাবে মহান আল্লাহ ডাক দিয়ে বলেছেন “তোমাদের কি হলো যে, তোমরা আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করছ না কেন ? তাদের বিরুদ্ধে যাদের জুলুম অত্যাচারে নির্যাতীত নিপীড়িত হয়ে শিশু-বৃদ্ধ -নারী পুরুষের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে এবং প্রার্থনা করছে হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এ জালেম হতে রক্ষা করুণ এবং আমাদের জন্য সাহায্যকারী প্রেরণ করুণ এবং আমাদের জন্য অবিভাবক পাঠান। সুরা নিসা আয়াত ৭৫।
লেখক : কলামিস্ট, কবি, সাহিত্যিক ও বিশিষ্ট ব্যাংকার
ই-মেইল: Ofaroq12662@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ