ঢাকা, বুধবার 27 September 2017, ১২ আশ্বিন ১৪২8, ০৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৪ শতাংশ বাড়নোর প্রস্তাব দিয়েছে পিডিবি

স্টাফ রিপোর্টার: গণশুনানিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি সর্বোচ্চ সাড়ে ১৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠিত কারিগরী মূল্যায়ন কমিটি ইউনিট প্রতি দাম ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ বা ৭২ পয়সা বাড়ানোর পক্ষে।

গতকাল মঙ্গলবার কাওরান বাজারে টিসিবি মিলনায়তনে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে আয়োজিত ধারাবাহিক গণশুনানির দ্বিতীয় দিনে সংস্থা দুটি এসব প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বছর না ঘুরতেই বিদ্যুতের দাম আবারও বাড়ানোর তীব্র সমালোচনা চলছে রাজনৈতিকমহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে। গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য রহমান মুরশেদ, মাহমুদউল হক ভুইয়া, আব্দুল আজিজ খান ও মিজানুর রহমান।

গণশুনানিতে পিডিবি চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, বর্তমানে ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে ঘাটতি থাকায় প্রতি ইউনিটে তিন শতাংশ হারে লোকসান দেওয়া হচ্ছে। শুধু ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পাঁচশ ৩৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এ কারণে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে,বিইআরসি গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ১০ দশমিক ৬৫ বা ৭২ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করে।

এর আগে সোমবার গণশুনানির প্রথম দিনে পিডিবি’র উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমানে প্রতি ইউনিট পাইকারি বিদ্যুতের গড় সরবরাহ ব্যয় পাঁচ টাকা ৫৯ পয়সা। অথচ ২০১৬-১৭ অর্থবছরের হিসাবে পিডিবি পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ চার টাকা ৮৭ পয়সায় বিক্রি করে। এতে দেশের একক পাইকারি বিদ্যুৎ ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান পিডিবি’র ইউনিট প্রতি আর্থিক লোকসান ৭২ পয়সা। চলতি অর্থ বছর ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে পিডিবি পাইকারি বিদ্যুতের প্রাক্কলিত সরবরাহ ব্যয় ধরেছে ইউনিট প্রতি পাঁচ টাকা ৯৯ পয়সা। এ হিসেবে ইউনিট প্রতি লোকসান হবে এক টাকা নয় পয়সা। এই আর্থিক ক্ষতি সমন্বয় করার জন্যই পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো উচিত বলে পিডিবির চেয়ারম্যান শুনানিতে উল্লেখ করেন। 

২০১৬-১৭ বছরের হিসেবকে ভিত্তি ধরে পিডিবির প্রস্তাব যাচাই বাছাই করে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি চলতি বছরের জন্য পাইকারি বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৫৭ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করে।

এদিকে, বিদ্যুতের পাইকারি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব যৌক্তিক নয় বলে মনে করেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। তারা গণশুনানির প্রথমদিনে বলেছেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড পিডিবি যেসব ব্যয় বিবেচনা করে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে সেগুলোর ভিত্তি নেই। আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে বেশি দামে তেল কিনে, ভুর্তকিকে ঋণ হিসেবে বিবেচনা করে ও ব্যয়বহুল জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব ব্যয় বাড়িয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। 

তাদের মতে, বাড়তি ও অযাচিত ব্যয় বাদ দিলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বদলে কমবে। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), ২৮ সেপ্টেম্বর ডিপিডিসি, ২ অক্টোবর ডেসকো, ৩ অক্টোবর ওজোপাডিকো এবং ৪ অক্টোবর নওজোপাডিকোর খুচরা মূল্য পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিষয়ে শুনানির আয়োজন করেছে বিইআরসি। চলতি বছর মার্চে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসিতে পাঠায় বিতরণ কোম্পানিগুলো। পাইকারি পর্যায়ে ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করে পিডিবি। গ্রাহক পর্যায়ে ডিপিডিসি ছয় দশমিক ২৪, ডেসকো ছয় দশমিক ৩৪, ওজোপাডিকো ১০ দশমিক ৩৬ ও আরইবি ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর আবেদন করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ