ঢাকা, বুধবার 27 September 2017, ১২ আশ্বিন ১৪২8, ০৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না

মিয়া হোসেন : প্রতিদিন সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের ধারাবাহিক নিয়মে দিনরাত্রির পরির্বতনের মাধ্যমে আজ এসে হাজির হলো হিজরী নববর্ষের ৬ তারিখ। আর মাত্র কয়েকদিন পর আসবে আশুরার দিন। যেদিন পৃথিবীতে ঘটেছে অসংখ্য স্মরণীয় ঘটনা। হযরত নূহ (আঃ) সাড়ে নয় শত বছর যাবৎ তাওহীদের বাণী প্রচারের পর যখন সে যুগের মানুষ আল্লাহর বিধি নিষেধ পালনে অস্বীকৃতি জানায়, তখন নেমে আসে আল্লাহর গযব। ফলে হযরত নূহ (আঃ) এর সম্প্রদায় ধ্বংস হয়েছে আর রক্ষা পেয়েছে শুধু তাওহীদে বিশ্বাসী অনুসারীবৃন্দ। পবিত্র আশুরার দিনেই মহাপ্লাবনকালে হযরত নূহ (আঃ) এর অনুসারীদের নিয়ে জুদী পাহাড়ের পাদদেশে এসে থেমেছিল। এ ঘটনাটি পবিত্র কুরআনে আল্লাহ এভাবে বর্ণনা করেছেন, “আমি নূহ কে তার সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছিলাম। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায় তোমরা আল্লাহর বন্দেগী কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন মাবুদ নেই। তোমরা কি ভয় কর না। তখন তার সম্প্রদায়ের কাফের প্রধানরা বলেছিল এতো তোমাদের মতই একজন মানুষ ছাড়া কিছুই নয়। সে তোমাদের ওপর নেতৃত্ব করতে চায়। আল্লাহ ইচ্ছা করলে ফেরেশতাই নাযিল করতেন। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এরূপ কথা বলিনি। সুতরাং সে তো এক উন্মাদ ব্যক্তি ছাড়া কিছু নয়। সুতরাং কিছুকাল অপেক্ষা কর। নূহ (আঃ) বলেছিলেন, হে আমার পালনকর্তা আমাকে সাহায্য কর কেননা তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে। অত:পর আমি তার কাছে আদেশ প্রেরণ করলাম যে, তুমি আমার দৃষ্টির সামনে এবং আমার নির্দেশে নৌকা তৈরি কর। এরপর যখন আমার আদেশ আসে এবং চুল্লী প্লাবিত হয়, তখন নৌকায় তুলে নাও প্রত্যেক জীবের এক জোড়া এবং তোমার পরিবারবর্গকে, তাদের মধ্যে যাদের বিপক্ষে পূর্বে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাদের ছাড়া এবং তুমি জালেমদের সম্পর্কে আমাকে কিছু বলো না, নিশ্চয় তারা নিমজ্জিত হবে। যখন তুমি ও তোমার সঙ্গীরা নৌকায় আরোহন করবে, তখন বলো, আল্লাহর শোকর, যিনি আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে উদ্ধার করেছেন। আরো বলো, পালনকর্তা আমাকে কল্যাণকরভাবে নামিয়ে দাও, তুমি শ্রেষ্ঠ অবতরণকারী।” (সাূরা মুমিনূন ২৩-২৯) তখন আল্লাহ নূহ (আঃ) এর নৌকা জুদি পাহাড়ে থামিয়ে দেন এবং তারা সেখানে নৌকা থেকে অবতরণ করেন। আর এদিনটি ছিল আশুরার দিন। এখনো যারা ইসলাম, মুসলমান ও নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তার প্রতি ব্যঙ্গ বিদ্রƒপ শত্রুতা করছে, তারাও নূহ (আঃ) এর সম্প্রদায়ের মতো কঠোর শস্তি ভোগ করবে। সুতরাং ইসলামের বিরোধিতা থেকে সকলের বিরত থাকা উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ