ঢাকা, বুধবার 27 September 2017, ১২ আশ্বিন ১৪২8, ০৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সামরিক অভিযানের হুমকি এরদোগানের

২৬ সেপ্টেম্বর, ইন্টারনেট : স্বাধীনতার দাবিতে ইরাকের কুর্দিস্তানে গণভোট অনুষ্ঠানের নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। তিনি বলেছেন, কেউ যদি তার দেশের ভূমি দখলের চেষ্টা করে তা হলে সামরিক ব্যবস্থা নিতে তিনি পিছপা হবেন না। আন্তর্জাতিক বিরোধিতা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির জনগণ স্বাধীনতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সোমবার গণভোটে অংশগ্রহণ করে।
ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর এরবিল ও রাজধানী বাগদাদের মধ্যবর্তী বিরোধপূর্ণ অঞ্চল এবং তেলসমৃদ্ধ কিরকুক এলাকাজুড়ে এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ অঞ্চলে কুর্দিরা ছাড়াও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী বসবাস করে আসছে।
গণভোটের পরিপ্রেক্ষিতে এরদোগান বলেন, ‘যে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে ইরাকের সীমান্তে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তৈরি আছে।’ তিনি বলেন, এই গণভোটের পরিপ্রেক্ষিতে কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের (কেআরজি) তেল রফতানি আটকে দিতে পারে তুরস্ক।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তুরস্ক থেকে কাউকে বা কোনো কিছু ইরাকে প্রবেশ করতে দেব না। এ সপ্তাহে আমরা অন্যান্য পদক্ষেপ নেব। আমরা সীমান্ত বন্ধ করে দেব। সীমান্ত দিয়ে কোনো কিছুই যেতে পারবে না’। সোমবার ইস্তানবুলে দেয়া এক বক্তব্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরাকের সঙ্গে তুরস্কের একমাত্র স্থলসীমান্ত হাবুরের প্রবেশ-প্রস্থান বন্ধ করে দেয়া হবে। তিনি বলেন, ‘এর পর দেখি কোন পথ দিয়ে তারা তেল পাঠায়। তারা কাদের কাছে তেল বিক্রি করে। কপাট আমাদের হাতে। আমরা আটকানোর সঙ্গে সঙ্গে এটি (রফতানি) বন্ধ হয়ে যাবে’। ইরাকের কুর্দি তেল রফতানি হয় তুরস্ক ও এর দক্ষিণাঞ্চলীয় সেইহান বন্দর দিয়ে। এ বন্দরটি এ অঞ্চলের অর্থনীতির প্রধান সরবরাহ কেন্দ্র।
এরদোগান তার বক্তৃতায় গণভোটে স্বাধীনতার পক্ষে কুর্দিদের রায়কে অর্থহীন আখ্যা দিয়ে বলেন, আমরা এই গণভোটকে অকার্যকর ও অবৈধ মনে করি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা খাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে তুরস্ক। আর এক্ষেত্রে সামরিক অভিযানের বিষয়টিও তিনি নাকচ করেননি। গত সপ্তাহে ইরাকি কুর্দিস্তানের সীমান্তবর্তী সিলোপি শহরে একশ সাজোয়া যানসহ সামরিক মহড়া শুরু করেছে তুর্কি সশস্ত্র বাহিনী। গত রোববার থেকে এ মহড়া আরও জোরদার করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ