ঢাকা, বুধবার 27 September 2017, ১২ আশ্বিন ১৪২8, ০৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশ জিতুক ভারতও জিতুক

এইতো এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথে শুরু হয়েছিল সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপ। এ অঞ্চলের ফুটবলের চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের যুব দলের লড়াইয়ে রূপকথা লিখেছিলেন লাল-সবুজ জার্সিধারীরারা। ৩ গোলে পিছিয়ে পড়া ম্যাচ ৪-৩ ব্যবধানে জিতে হোটেলে ফিরেছিল বাংলাদেশ। এক সপ্তাহ পর সেই ভারতের জয়টাই কামনা করছে বাংলাদেশ। বিষয়টি অনেকের মনে ধাঁধাও তৈরি করতে পারে। সেটা দুর করা যাক শুরুতেই-বুধবার থিম্পুতে বাংলাদেশ ও ভারত জিতলেই ট্রফি উড়াল দেবে লাল-সবুজের দেশে। প্রথম ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য জয়, দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপকেও উড়িয়ে দেয়া বাংলাদেশ শিরোপার প্রধান দাবিদার ছিল টুর্নামেন্টের মাঝপথে। তারপরই ভোজবাজির মতো বদলে গেলো সব কিছু। ভুটান, ভারত ও নেপালের দুটি করে জয় হওয়ার পর তাদের কাতারে চলে গেলো বাংলাদেশও। তাতেই ভুটানের থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়াম বসেছে নাটকীয়তার ডালা সাজিয়ে। পাহাড়ী দেশটির ভেন্যুই বলতে পারে সে কার মাথায় পড়িয়ে দিতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার যুবাদের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল নেপাল। রানার্সআপ ভারত। ওই দুই দেশ ছাড়াও দ্বিতীয় আসরের ট্রফি তুলে ধরতে হাত বাড়িয়ে আছে বাংলাদেশ ও স্বাগতিক ভুটানের খেলোয়াড়রা। ট্রফিতে ভরে উঠবে কাদের হাত? নেপাল ধরে রাখবে, নাকি ছিনিয়ে নেবে বাংলাদেশ কিংবা ভারত। স্বাগতিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভুটান কী পারবে দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো পর্যায়ের ফুটবল লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসতে? এসব প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে থিম্পু থেকে ঢাকা, দিল্লি ও কাঠমান্ডুতে।

শ্রীলংকা শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায় খেলা হচ্ছে লিগ ভিত্তিতে। টুর্নামেন্টের শুরুটায় কাউকে ভাবায়নি যে, শেষ দুই ম্যাচের আগে এমন রোমাঞ্চ তৈরি করবে থিম্পু। খেলা শেষ করে মালদ্বীপ হয়ে গেছে দর্শক-শেষটা রাঙাতে মুষ্ঠিবদ্ধ প্রতিজ্ঞা বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের যুবাদের।

বুধবার থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়াম প্রথম পরীক্ষা নেবে বাংলাদেশ ও ভুটানের। সে পরীক্ষায় স্টেডিয়ামের মাঠ, ইট-পাথর সবই থাকবে তাদের দলের সাফল্য কামনায়। শেষটাতে বাংলাদেশকে খেলতে নামবে সব প্রতিকূলতা নিয়ে। মাঠে নামার আগে জাফর ইকবালদের মনে পড়বে ১১ মাস আগের কথা। গত বছর অক্টোবরে এই থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়াম থেকেই যে মাথা নিচু করে ফিরেছিলেন মামুনুল-এমিলিরা ভুটানের কাছে প্রথমবারের মতো হেরে।

আগস্টে সিনিয়রদের কিছুটা দায়মুক্ত করেছেন কিশোর ফুটবলাররা। নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে দুইবার ভুটানকে হারিয়েছে ফাহিম, মিরাজরা। চাইলেই যে ভুটানের জালে গোলের ঢেউ খেলানো যায় টুটুল হোসেন বাদশাদের সামনে সে উদারহরণতো রেখেই দিয়েছেন তাদের অনূজরা।

তো ভুটানকে হারালেই কী বাংলাদেশের যুবারা পাবে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব? না। সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে রাতের ম্যাচের জন্যও। থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়াম যে আরো অপেক্ষায় রাখবে রহস্যের ঝুলিটা খুলতে। বাংলাদেশ ভুটানকে হারালে এবং পরের ম্যাচে ভারত জিতলে থিম্পুতে কান পাতলে শোনা যাবে জাফর ইকবালদের বিজয় কলরব। আর দ্বিতীয় ম্যাচে নেপাল জিতলেই সর্বনাশ। তাইতো বাংলাদেশের সমর্থকরা দ্বিতীয় ম্যাচে হয়ে যাবে ‘বড় ভারতীয় সমর্থক’।

বাংলাদেশ আর ভারত জিতলে দুই দলের পয়েন্টই হবে ৯। বাংলাদেশ যেহেতু ভারতকে হারিয়েছে, তাই হেড টু হেড মুখোমুখিতে জয়ের সুবাদে শেষ হাসি ফুটবে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। আর নেপাল জিতলে একই সুবিধা নিয়ে রেখে দেবে যুব সাফের ট্রফি। যদি দুই ম্যাচের কোনোটিতই ফল না আসে? বাংলাদেশ খুব করেই কামনা করবে এমনটি যেন না হয়। তাহলে যে সর্বনাশ, ট্রফি যাবে ভারতের ঘরে। কোনো ম্যাচে ফল না হলে চার দলের পয়েন্ট হবে ৭ করে। গোল করে এগিয়ে ট্রফি নিয়ে যাবে গত আসরের রানার্সআপরা। বেশি গোল দেয়ার সুবাদে বাংলাদেশ হবে রানার্সআপ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ