ঢাকা, বুধবার 27 September 2017, ১২ আশ্বিন ১৪২8, ০৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যেখানে পিছিয়ে টাইগাররা

স্পোর্টস রিপোর্টার : আগামীকাল পচেফস্ট্রুমে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।  পরিসংখ্যান, অতীত পারফরমেন্স ও খেলেয়াড়দের নিরিখে লড়াইটি অসম। টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে ক্রিকেটে সবসময়ের শক্তিশালী প্রোটিয়ারা। এ ফরমেটে টাইগারদের অবস্থান যেখানে নবম। তারপরেও লড়াইয়ের বাস্তবতায় প্রতিপক্ষ যেখানে কখনই দুর্বল বলে গণ্য হয় না, এখানে সেই বিবেচনায় বোধ করি বাংলাদেশও বিবেচ্য হবে। মুশফিকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হোম সিরিজের সর্বোচ্চ সাফল্য বিদেশের মাটিতে টেনে আনা। সীমিত ওভারের পাশাপাশি টেস্ট পরিসরেও গত কয়েকবছরে লাল-সবুজের ক্রিকেটাররা বেশ দক্ষতার পরিচয়  দিয়েছে। তারপরেও ফাফ ডু প্লেসি ও হাশিম আমলাদের বিপক্ষে আসন্ন এ সিরিজে সফরকারীরা কয়েকটি বিভাগে পিছিয়ে আছে। এর প্রথমটি হল অভিজ্ঞতা। নয় বছর আগে বাংলাদেশের যে স্কোয়াডটি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়েছিল, সেই স্কোয়াডের মাত্র তিনজন আছেন এ সিরিজে- তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও ইমরুল কায়েস। টেস্ট থেকে ছয় মাসের বিশ্রামে না গেলে সাকিবও থাকতেন। বাদ বাকি যারা আছেন সবাই তরুণ।
দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনের সঙ্গে যাদের পরিচয়টা এবারই প্রথম। দ্বিতীয়টি হলো ব্যাটিং। ওপেনিংয়ে তামিম ইকবাল থাকলেও ইনজুরিতে পড়ায় সৌম্য আদৌ থাকবেন কী না সেই ব্যাপারটি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে যেহেতু ইমরুল আছেন তাই কিছুটা হলেও রক্ষা। কিন্তু গেল বেশ কয়েকটি সিরিজে তিনি ব্যাটিং করেছেন তিনে। তাই তার ব্যাট থেকে রানের ভান্ডার কতটুকু সমৃদ্ধ হবে সেই ভাবনা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। এরপর মিডল অর্ডারে নেই টাইগারদের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।  তবে মিডল অর্ডারে দলকে এগিয়ে নিতে পারেন দলে ফেরা মাহমুউল্লাহ রিয়াদ। সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজের (১-১) স্কোয়াডে ছিলেন না এ অভিজ্ঞ ব্যাটিং অলরাউন্ডার। তৃতীয় হলো, সফরকারী ব্যাটসম্যানদের উইকেটে টিকে থাকার সামর্থ্য। স্বাগতিকদের সাথে জিততে বা ড্র করতে হলে আগে ব্যাটে নেমে হোক বা পরে, চ্যালেঞ্জিং স্কোরের বিকল্প নেই। সেশন বাই সেশন ব্যাটসম্যানদের ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে। তা না হলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হবে না। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে টাইগাররা এমন উইকটে খেলে গেছে যা ছিল লো বাউন্স ও টার্নে ভরা। এখন বল টার্ন দূরে থাক বাউন্সে ভরা থাকবে। কাজেই ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটি কঠিন। কেননা বল পিচআপ করা মাত্রই উঠে যাবে মাথা দিয়ে এবং মুখ সমান উচ্চতায়। চতুর্থটি, স্পিনারদের সংগ্রাম। সন্দেহাতীতভাবেই বাংলাদেশের এযাবৎকালের সাফল্যের পেছনে পেস বোলারদের পাশাপাশি স্পিনারদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও একথা সত্য যে দক্ষিণ আফ্রিকার ওই কন্ডিশনে পেসারদের তুলনায় বাংলাদেশের স্পিনারদের সংগ্রাম করতে হবে। তবে এই ক্ষেত্রে মুশফিকরা এগিয়ে থাকতেন যদি একজন বাহাতি স্পিনার থাকতো। লেগ স্পিনাররা যে কোন উইকেটেই বল টার্ন করার সামর্থ্য রাখেন। সেখানে বাংলাদেশের স্পিনারদের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তবে টাইগার স্পিনাররা যে কাজটি করতে পারেন, সঠিক লাইন ও লেংথ বজায় রেখে রান চাপাতে পারেন। ক্রমাগত কার্যকর ডেলিভারি দিয়ে ব্যাটসম্যানকে ভুল খেলাতে চেষ্টা করতে পরেন। আর কিছু না হোক ব্যাটসম্যান যেন তাকে সমীহ করে খেলে সেই কাজটি করতে পারলে বাউন্সে ভরা এই উইকেটে অনেকটাই সফল হতে পারবেন তাইজুল, মিরাজরা। প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের উপরে প্রভাব বিস্তার করে দলকে সুখের মুহূর্ত উপহার দেয়ার যে ভাবনা থেকে অধিকসংখ্যক টাইগার পেসারকে (শফিউল ইসলাম, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শুভাশীষ রায়) দলে রাখা হয়েছে, নির্বাচকদের সেই আস্থার প্রতিদান দিতে তাদের ধৈর্য ধরে নিজেদের মেলে ধরার প্রমাণ দিতে হবে। তাহলেই কেবল ভালো একটি লড়াইয়ের আশা করা যায়। কন্ডিশন, শক্তিমত্তা, মাঠের রণকৌশল সব বিবেচনায়ই এগিয়ে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। জিততে হলে সফরকারীদের তিন বিভাগেই সেরা খেলার কোন বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে শুধু ২০ উইকেট নেয়ার সামর্থ থাকলেই হবে না, পাশপাশি  থাকতে হবে ২০ উইকেট ধরে রাখার সামর্থও। টেস্ট ক্রিকেটে আগের ১০ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে আট ম্যাচেই জিতেছে দক্ষিন আফ্রিকা। সবশেষ দু’বছর আগে প্রোটিয়াদের বাংলাদেশ সফরে বৃষ্টিবিঘ্নিত দু’টি টেস্ট ড্রয়ে নিষ্পত্তি হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ