ঢাকা, বুধবার 27 September 2017, ১২ আশ্বিন ১৪২8, ০৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

টাচস্ক্রিনেও শিম্পাঞ্জির বিচিত্র খেলা

পৃথিবীর সৃষ্টির শুরু থেকেই একটি নিয়ম প্রচলিত আছে, আর তা হল জীবনপরিক্রমার প্রত্যেক ধাপে সব প্রাণীই কিছু না কিছু শেখে। শিম্পাঞ্জির ক্ষেত্রেও এই প্রাকৃতিক নিয়মের কোনও ব্যতিক্রম নেই। তবে সম্প্রতি গবেষকরা তাদের বুদ্ধিবৃদ্ধির পরিচয় পেয়েছেন। আর তাতে তাঁরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন যে হাতের ইশারার মাধ্যমে শিম্পাঞ্জি পাথর-কাগজ-কাঁচি খেলা দ্রুত শিখতে পারে। তার মানে জন্মের পর বেশ কিছুটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আকারের পাশঅপাশি এদের বুদ্ধিবৃত্তিও বাড়তে থাকে।
পাথর-কাগজ-কাঁচি খেলায় হাত মুঠিবদ্ধ করলে তা পাথরের প্রতীক হয়, আর সব কটি আঙুল পরস্পর সংস্পর্শে রেখে হাত মেলে ধরলে তা হয় কাগজের উপস্থাপনা। আর তিন আঙুল মুঠিবদ্ধ করে দুই আঙুল দিয়ে কোনও কিছু নির্দেশ করার মাধ্যমে কাঁচিকে উপস্থাপনা করা হয়। ইংরেজিতে এই খেলাকে বলে রক পেপার সিজরস গেম। মানে শিম্পাঞ্জি তার হাত ও হাতের আঙুলকে এমনভাবে রাখছে, যার মাধ্যমে পাথর, কাগজ ও কাঁচির রূপ তা ধারণ করছে। ইতিহাস বলছে, খুব সম্ভবত চিনে যখন হ্যান রাজবংশ রাজত্ব করছিল (খ্রিষ্টপূর্ব ২০৬-২২০ খ্রিস্টাব্দ) তখনই এই জনপ্রিয় খেলাটির উদ্ভব ঘটে। বেশ কিছুদিন আগে জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইমেট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে একদল গফেষক এই গবেষণাটি করেছিল। এর জন্য নানান বয়সের ও লিঙ্গের সাতটি শিম্পাঞ্জিকে তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন। এরপর শিম্পাঞ্জিগুলোর সঙ্গে কী করা হয় জানলে আপনি যারপনারই অবাক হয়ে যাবেন। এখানেও সেই টাচস্ক্রিনের প্রযুক্তির জাদু। তাদের কম্পিউটার টাচস্ক্রিনে হাতের ইশারা পছন্দের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রথমে তাদের কাগজ আর পাথরের সমন্বয় শেখানো হয়, এরপর পাথর-কাঁচি নিয়ে এবং সবশেষে কাগ-কাঁচির সমন্বয় শেখানো হয়। গবেষকরা এখন বলছেন, শিম্পাঞ্জি বুদ্ধিবৃত্তিক খেলা শিকতে পারলেও সেক্ষেত্রে তাদের সময়টা একটু বেশি লাগে। এই গবেষণার শীর্ষ গবেষক জি জাও-এর মতে, এই গবেষণার একটি লক্ষ্য ছিল, প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর শিম্পাঞ্জিরা তির্যক বা ডায়াগোনাল প্যাটার্নের কোনও খেলা শিখতে পারে কিনা তা দেখা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ