ঢাকা, বুধবার 27 September 2017, ১২ আশ্বিন ১৪২8, ০৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনার ছয়টি আসনে সংসদ নির্বাচনের হাওয়া ॥ অর্ধশত প্রার্থী মাঠে

খুলনা অফিস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনার ছয়টি আসনে চলছে সর্বত্র নির্বাচনী হাওয়া। সংসদীয় এ ছয়টি আসনেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগেভাগেই নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমে পড়েছেন। বিগত নির্বাচনগুলোর মতো এবারো আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীদের ভোটের লড়াই হবে। তবে বিএনপি-জামায়াত জোটগত নির্বাচন হলে বিগত নির্বাচনের মতো এবারো খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) ও ৬ আসন (কয়রা-পাইকগাছা) জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি। সে ক্ষেত্রে এ দু’টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের সঙ্গে লড়াই হবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের অর্ধশত প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন নবীন-প্রবীণ রাজনীতিক ছাড়াও সাবেক আমলা, চিকিৎসক, মাওলানা, সাংবাদিক থেকে শুরু করে শিক্ষাবিদরাও। তবে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণার শীর্ষে রয়েছেন বড় দুই দলের অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতারা।
খুলনায় আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান থাকলেও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কাছে ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই হেরে যায় আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে শুধুমাত্র খুলনা-১ আসনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। তবে নবম সংসদ নির্বাচনে একটি বাদে বাকি পাঁচটি আসনই পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয় দলটি। কিন্তু খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনটি বরাবরের মতো অধরাই থেকে যায় আওয়ামী লীগের কাছে।
তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বয়কট করলে ১৯৭৩ সালের পর আবার আসনটি ফিরে পায় আওয়ামী লীগ।
অপরদিকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের একটি বাদে পাঁচটি আসন হাতছাড়া হওয়া এবং দশম সংসদ নির্বাচনে ভোট বর্জন করায় বিএনপি তথা চারদলীয় জোট পড়ে কঠিন রাজনৈতিক চাপে। তাছাড়া একের পর এক মামলার কারণে এক রকম বেসামাল বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। প্রকাশ্যে সেই রকম দলীয় কর্মকান্ড চালাতে পারছেন না তারা। তারপরেও নেতাকর্মীদের সংগঠিত করছে ২০ দলীয় জোট।
তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই দলকেই কিছুটা হলেও বেকায়দায় ফেলবে দলীয় কোন্দল। এরপর রয়েছে দুই দলের মধ্যে একাধিক প্রার্থীর বিড়ম্বনা। কিন্তু দল দুটির স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলছেন, আগামী নির্বাচনের আগে দলের মধ্যে কোনো ধরনের কোন্দল থাকবে না। দুই দলের নেতাকর্মীদেরই ধারণা নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি না হলে তাদের প্রার্থীরাই জয়লাভ করবে। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচন হবে আওয়ামী লীগের জন্য আসন ধরে রাখার লড়াই, আর বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর জন্য হবে আসন পুনরুদ্ধারের। এ জন্য আগামী নির্বাচনটি দুটি জোটের নেতাকর্মীদের কাছেই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী জোটের শরীকদের বিগত নির্বাচনে কোন আসন ছাড় দিতে হয়নি। তবে এবার খুলনা এক আসনটি জোরালো দাবি করছেন জাতীয় পার্টি। অপরদিকে বিগত পরপর দু’টি নির্বাচনেই জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় দুই নেতা জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জামায়াতে ইসলামীর দাবি এবারো তারা খুলনা-৫ ও ৬ আসনে ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ