ঢাকা, বুধবার 27 September 2017, ১২ আশ্বিন ১৪২8, ০৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কুষ্টিয়ায় ২০ হাজার কৃষকের গোয়ালে ৬০ হাজার দুগ্ধবতী গরু

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাদের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দুধের বিশাল ঘাটতি মেটাতে কুষ্টিয়ার ২০ হাজার কৃষকের গোয়ালে পালিত হচ্ছে ৬০ হাজার দুগ্ধবতী গরু। প্রতিদিন দিচ্ছে প্রায় ৪৮ হাজার লিটার  দুধ। টাকার অংকে যার বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। খামার ভিত্তিক পশু সেবা প্রদান এবং কৃষকদের দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আশা। কুষ্টিয়ার খোকসা একতারপুর গ্রামে সাদাত আলীর ফার্মে রয়েছে ৮টি দুগ্ধজাত গাভী। আশার একতারপুর শাখার ম্যানেজারের পরামর্শ ও অর্থঋণ সহায়তায় এই গাভীগুলো কিনে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত দুগ্ধ খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। গাভীর জাতবিচার, ঔষধ, পরিবেশ ও ফার্ম আবাদ পদ্ধতির সম্পর্কে রয়েছে তাঁর বেশ জ্ঞ্যান। বর্তমান ৭টি গাভী প্রতিদিন প্রায় ১মন দুধ দিচ্ছে। গোবর থেকে তৈরি জৈব সার ও জ্বালানি থেকে প্রতি মাসে পেয়ে যাচ্ছেন ৮/১০ হাজার টাকা। আশা’র অর্থঋণ সহায়তায় গড়ে তোলা তাঁর দুগ্ধ খামারটি এলাকায় আত্মকর্মসংস্থানের একটি মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার খোকসা, কুমারখালী, ভেড়ামারা, মিরপুর, দৌলতপুর ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে দুগ্ধজাত গাভী পালন চলছে কৃষকের গোয়ালে গোয়ালে। কুষ্টিয়া জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা জানান, এ জেলায় বর্তমান ২০ হাজার কৃষকের গোয়ালে প্রায় ৬০ হাজার দুগ্ধজাত গাভী বাণিজ্যিকভাবে পালন করা হচ্ছে। কেউ ১টি, ২টি আবার কেউ ৭/৮টি খামারেও দুগ্ধজাত গাভী পালন করছে। এসব দুগ্ধ খামারকে কেন্দ্র করে কুমারখালীতে গড়ে উঠেছে বৃহৎ শিলাইদহ ডেইরি ফার্ম। এখানকার ফার্মের প্রক্রিয়াজাত দুধ প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে পৌঁছে যাচ্ছে। জেলার কুমারখারীর দইরামপুর, হাশিমপুর, কালোয়া, কয়া, পান্টি, জোতমোড়া, আমবাড়িয়া, গোপগ্রাম, চাঁদট, সেনগ্রাম,টাকিমারা,বড়–রিয়া, হরিনারায়নপুর, বৃত্তিপাড়া,আব্দ্ুলপুর, খাজানগর,দূর্বাচারা, লাহীনি,পাহাড়পুর, বাগুলাট,প্রভৃতি গ্রামে বেশীসংখ্যক দুগ্ধজাত গাভী পালন হয়ে থাকে।  এসকল গ্রামে প্রায় ২০ হাজার কৃষক আশা’র অর্থঋণ সহায়তায় ঘরে ঘরে দুগ্ধজাত গাভীর খামার গড়ে তুলে সুখের নিঃশ্বাস ছাড়ছে। প্রতিটি গাভী থেকে গড়ে দুধ উৎপাদন হয় প্রতি দিন ৮.৫ লিটার।
জেলার কুমারখালী উপজেলার উপজেলর পান্টি গ্রামের আমানুল্লাহ রাজা জানান, তিনি গত ৫ বছর ধরে আশা’র অর্থঋণ সহায়তায় বাণিজ্যিকভাবে দুগ্ধজাত গাভী পালন ও দুধ বিক্রি করে আসছেন। ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে অষ্ট্রেলিয়া, ফ্রিজিয়ান, শাহীওলান ও নেপালী জাতের ৫টি বকনা বাচুর কিনে ১ বৎসর ধরে পালন করছেন। বর্তমান ৫টি দুগ্ধজাত গাভী প্রতিদিন প্রায় ১ মন দুধ দিচ্ছে। তবে তিনি জানান, গো- খাদ্যের দাম চড়ে যাওয়ায় গাভী পালনের ব্যয় আগের চেয়ে অনেকটা বেড়ে গেছে। চাউলের খুদ প্রতিকেজি ২৩ টাকা, ছোলা ৩৫ টাকা কেজি, খৈল ২৭ টাকা, ধানের বিচালি ১ আটির দাম ১১/১২ টাকা। গাভী পিছু বৎসরে খাদ্য বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ১২/১৫ হাজার টাকা। মেলামিনমুক্ত খাঁটি দুধ থেকে তৈরি দইয়েরও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। নিজ জেলা ছাড়া পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও প্রতিনিয়ত বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। কুষ্টিয়া জেলা পশুসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, বাংলাদেশ পশুসম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের জিডিপিতে ৩.৫% অবদান রাখলেও পশুসম্পদের সার্বিক উন্নয়নে বরাদ্দ পায় বার্ষিক জাতীয় বাজেটের ০.৩%। সেক্ষেত্রে সর্বদা একটা বিরাট ঘাটতি থেকেই যায়। বাংলাদেশে প্রতি বৎসর প্রায় ৪১ হাজার মেট্রিকটন গুড়ো দুধ আমদানি করা হয়, যার বর্তমান বাজার মূল্যে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা। আর এই আমদানিকৃত দুধে মেলামিন ছাড়াও ক্যান্সার সৃষ্টিকারী তেজস্ক্রিয় পদার্থ রেডিও আইসোটোপের উপস্থিতি থাকতে পারে। অথচ কুষ্টিয়ার মত সারা দেশে তরল দুধের উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে দুধের চাহিদা পূরণ করে গুড়ো দুধ খাওয়া নিরুৎসায়িত করা যায়। কুষ্টিয়া পশুসম্পদ বিভাগের সাবেক এডি জানান, দেশে দুধের উৎপাদন বাড়াতে দানা জাতীয় গো-খাদ্য বিদেশ থেকে আমদানি করে তা ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করতে হবে এবং এসব কাজে দুগ্ধ বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগাতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ