ঢাকা, বুধবার 27 September 2017, ১২ আশ্বিন ১৪২8, ০৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রতারক ও জালিয়াত চক্রের প্রতারণায় নিঃস্ব বহু পরিবার

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভুয়া দাতার ছড়াছড়ি প্রতারক ও জালিয়াত চক্রের প্রতারণায় ভিটে বাড়ি হারিয়েছে বহু পরিবার। কাঞ্চন পৌর এলাকার কৃষ্ণনগর মৌজায় মৌজায় সংখ্যালঘু পরিবারের নিতাই মন্ডলের মেয়ে রানী মন্ডলের  ২৭ শতাংশ জমি ভুয়া দাতা সাজিয়ে রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছে প্রতারক চক্র । আলমপুরা এলাকার বিমলা বেওয়ার বুয়া ছেলে বিমল চন্দ্র সাজিয়ে ১০৫ শতাংশ জমি লিখে নিয়েছে প্রতারক চক্রের হোতা গোয়ালপাড়া এলাকার শফিকুল ইসলাম শফি এবং বাঘবেড় এলাকার নজরুল ইসলাম আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে ভুঁয়া দাতা হিসেবে ব্যবহার হওয়া ঢাকার সবুজবাগ এলাকার  রানু বেগম জানান, রূপগঞ্জের কৃষ্ণনগর মৌজায়  একই এলাকার আফরদ্দিনের ছেলে  জাইদুল ইসলাম,  ইদ্রিস আলীর ছেলে শাহীন মিয়া, মৃত ছায়েদ আলীর ছেলে  আতিকুর রহমান ,  কাছিমউদ্দিন বেপারীর ছেলে জাহাঙ্গির আলমসহ একটি প্রতারক চক্রের প্রলোভনে পড়ে একই মৌজার নিতাই মন্ডলের মেয়ে রানী মন্ডলের ১১৫ শতক জমি আত্মসাতের ভুঁয়া দাতা হিসেবে তাকে ব্যবহার করে। তিনি নিরক্ষর থাকায় তাদের  প্রতারণা বুঝতে না পেরে ও  ভুল বুঝিয়ে  বায়নাপত্র দলিল নং ৯৭১৫/১৭ ও আমমোক্তার দলিল নং  ৯৭১৬/১৭ মাধ্যমে প্রকৃত দাতা রানী মন্ডলকে নকল করে রানী বেগমকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানতে পারেন। এভাবে জমিটি বিক্রি করে দেয়ার পাঁয়তারা করার সময় জানতে পারেন মুসলিম হওয়া সত্তেও হিন্দু সাজিয়ে উক্ত প্রতারক চক্র জমি আত্মসাতের জন্য চেষ্টা করেছে। পরে এ বিষয়ে রানী বেগম নিজে বাদী হয়ে ওই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অপর দিকে, প্রলোভনে পরে ভুুঁয়া দাতা হিসেবে ব্যবহার হওয়া গোয়ালপাড়া এলাকার মোস্তফা মিয়া জানান,  রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের মৃত লেবু দাসের স্ত্রী মৃত  বিমলা বেওয়ার একমাত্র সন্তান ছিলেন মৃত অভয় চরণ দাস। উক্ত অভয় চরণ দাস মারা গেলে তার দুই পুত্র বিপদ চন্দ্র  দাস ও  অণিল চন্দ্র দাসকে রেখে যান। কিন্তু তাদের মালিকানাধীন কেয়ারিয়া মৌজার সিএস, এসএ ও আরএস দাগ নং ১৯ ও ২২ নং দাগে মোট ১০৫ শতাংশ জমিটি আতœসাতের জন্য স্থানীয় একটি  চিহ্নিত প্রতারকচক্রের হোতা গোয়ালপাড়া এলাকার সফিকুল ইসলাম ওরফে ইয়াবা শফি  ও বাগবের এলাকার জমির দালাল নজরুল ইসলাম তাকে  (মোস্তফা মিয়া) সিএস রেকর্ডীয় মালিক বিমলা বেওয়ার  ভ’ঁয়া বিমল চন্দ্র  দাস সাজিয়ে  দলিল সৃজন করে।  রেকর্ডীয় মালিক বিমলা বেওয়ার একমাত্র ছেলে অভয় চরণ দাস হলেও প্রতারকরা কাল্পণিক ভুয়া ওয়ারিশ সনদ গত ০৯/০১/২০০৯ইং  ২৬/০৯ তে বিমল চন্দ্র দাস দেখানো হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিমল চন্দ্র দাস নামে কোন আদিবাসির অস্তিত্বই নেই। তারপরও প্রতারক চক্র স্থানীয় গোয়ালপাড়া এলাকার  মৃত রেইজদ্দিন মিয়ার ছেলে মোস্তফা মিয়াকে ১০৫ শতক জমি থেকে  মাত্র ১০ শতক জমি দেয়ার লোভ দেখিয়ে  প্রতারণায় সহযোগী জমির দাতা হিসেবে ব্যবহার করে।  তাদের ভুয়া দলিলটি (সাব-কবলা দলিল নং ২৫৩১ ) বাতিলের জন্য জমির প্রকৃত মালিক বুশরা ইসলাম আদালতে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। 
শুধু তাই নয় সৃজিত দলিলটির কথিত বৈধতা আনয়নে প্রতারক চক্রের হোতা  সফিকুল ইসলাম ওরফে ইয়াবা  শফি তার মা রাবিয়া বেগম ও নজরুল ইসলাম তার স্ত্রী তাছলিমার নামে একটি সাব-কবলা ( তাং ১৬/০২/২০০৯ইং  ৩৪৩৬ নং) মাধ্যমে ১০ শতকের একটি দলিল সৃজন করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ